ডেস্ক নিউজ: রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার বঙ্গলতলী ইউনিয়ন ও সাজেক ইউনিয়নের দুটি সংযোগের বাঘাইহাট বাজারের পাশ্ববর্তী হাজা ছড়ায় একটি সেতু হলে দুর্ভোগ কমবে প্রায় ৫ হাজার এর অধিক মানুষের। নেই যাতায়াতের ভাল কোন রাস্তা।
দীর্ঘপথ পায়ে হেঁটে চলাফেরা করেন ১২ টি গ্রামের মানুষ, দিনমজুর, শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও স্কুল- কলেজের সকল শিক্ষার্থীদের একমাত্র চলার পথ এটি। দু’পায়ে হেঁটে চলাফেরা করতে হয় নেই গাড়ি চলার কোন রাস্তা। স্থানীয়দের নিজস্ব উদ্যোগে নদী পার হওয়ার জন্য নদীর উপরেই একটি গাছের সাঁকো তৈরি কার হয়। গাছের উপর কাটের টুকরো কিছু পেরেকঠোকা দিয়ে চলতে হয় এই ১২ গ্রামের মানুষের। ঘটতে পারে যেকোন সময় দূর্ঘটনা, স্কুল পড়ুয়া ছোট শিশুদের চলতে হয় এই সাঁকো দিয়ে।
হাগলাছড়া, উওর হাগলাছড়া, দক্ষিন হাগলাছড়া, দো-ছড়ি হাগলাছড়া, রাজমন ছড়া, ডাঙ্গাছড়া, তিন্দুছড়ি, গোলকমাছড়া, হাজাছড়া, দিপু পাড়া,বুয়াছড়ি এই ১২ টি গ্রামের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র পথ হাজাছড়া রাস্তা তার মাঝেই নদী। গাছের সাঁকোতেই ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হন স্থানীয়রা।
বঙ্গলতলী ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা
নেখেল চাকমা(৪৯) জানান, আমাদের চলার পথ এটি। নেই কোন রাস্তা, বর্ষায় কাঁদাতে ভরপুর, তার মাঝেই নদী সাঁকো নেই গাছের তৈরি সাঁকোতে পারাপার, আমাদের নিত্য-প্রয়োজনীয় বাজার আনতে যাওয়া আসা করার একমাত্র পথ এটি, আমাদের সন্তানেরা অনেক কষ্ট করে স্কুল কলেজে যাওয়া আসা করে। বাঘাইহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাঘাইহাট উচ্চ বিদ্যালয়সহ কেজি স্কুল গুলোতে ছোট বাচ্চারা যাওয়া আসা করে এই ঝুঁকিপূর্ণ গাছের সাঁকো দিয়ে। সরকার পাহাড়ের উন্নয়ন করছে, আমাদের এই নদীর উপর একটি সেতুর ব্যবস্তা হলে আমাদের প্রায় ৫ হাজার মানুষের দুর্ভোগ কমবে।
বঙ্গলতলী ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা
মৌলিনা চাকমা(৩৫) জানান, আমরা নারীরা অনেক কষ্ট এবং ঝুঁকি নিয়ে যাওয়া আসা করি।নদীর পানি থাকলে ভঁয়টা তখন আরো বেড়ে যায়,সাঁতার জানিনা, হয়তো কখন পানিতে পরে যাই।
বাঘাইহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর ছাত্র পিপল চাকমা, (১৪) বলেন আমরা খুব কষ্ট করে পায়ে হেঁটে বিদ্যালয়ে যাই।
বাঘাইহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণীর ছাত্রী কাকলী চাকমা(৯) বলেন আমরা খুব কষ্ট পাই বর্ষাকালে চারদিকে পানি তার উপর দীর্ঘ অনেক বড় গাছের সাঁকো।
৫ম শ্রেণীর আনেশা চাকমা (১১) বলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের সেতু করে দিলে আমরা আরাম খুব ভাল করে যাতায়াত করতে পারবো।
এ সময় বঙ্গতলী ইউনিয়নের ০৮ নং ওয়ার্ডের ধনবী চাকমা(৩৭) বলেন,আমাদের এলাকায় একটি সেতু হলে এই দুই ইউনিয়ন এর ১২ টি গ্রামের প্রায় ৫ হাজার মানুষের দুর্ভোগ কমবে। সরকারী একটি রাস্তা এবং সেতু করে দিলে আমরা একটু ভালোভাবে যাতায়াত করতে পারবো।
All rights reserved © 2020 paharechok.com||
এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি