পলাশ চাকমা,রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি :রাঙ্গামাটির বরকল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত ডাক্তারদের অবহেলার কারনে শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শিশুটির নিউমোনিয়া হলে গত শনিবার বিকালে স্বাস্থ্য কম্পেøক্সে ভর্তি করানোর পর চিকিৎসা না পেয়ে রবিবার(২১মার্চ) সন্ধ্যায় শিশুটি মারা যায় বলে তার পিতা অভিযোগ করেন।
শিশুটির বাবা মংবু মারমা জানান, চাকরী নিয়ে তারা চট্টগ্রামে থাকতেন। ছুটি নিয়ে গত ১৯ মার্চ চট্টগ্রাম থেকে পরিবার নিয়ে বরকলে আসার পর শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে বরকল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান কিন্তু সেখানে একজন নার্স ছাড়া কোন ডাক্তার ছিলনা বলে জানান। পরে কর্মরত নার্স বিষয়টি ডাক্তার দীপেন চাকমাকে জানালে তিনি নিউমোনিয়া হয়েছে বলে জানান। অথচ সেখানে কোন ভালো চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়নি এমনকি ডাক্তার দীপেন চাকমা রোগী আর দেখতেও আসেনি বলে অভিযোগ করেন। তিনি আরো জানান, ডাক্তার জানে যে বাচ্চাটির নিউমোনিয়া হয়ছে তারপরও স্যালাইন দেয়া হয়েছে। আর বাচ্চার অবস্থা খারাপ হলে ডিউটিরত নার্সকে বিষয়টি অবগত করা হলে তিনি এক চাকমা ডাক্তারকে ডেকে নিয়ে আসা হয়। এরপর তিনি নেবুলাইজ দেয়ার কথা বললে ডিউটিরত নার্স নেবুলাইজ দেয়ার চেষ্টা করলে বিদ্যুতের অবস্থা খারাপ হলে তা কাজে আসেনি। পরে বাচ্চার শ্বাস বেড়ে গেলে তাৎক্ষণিক মারা যায়। কিন্তু বাচ্চার অবস্থা খারাপ দেখেও ডিউিরত ডাক্তার রাঙ্গামাটিতে রেফার করেনি। তাদের এমন দায়িত্বহীনতার কারণে অকালে প্রাণ হারাতে হলো নিষ্পাপ শিশুটির।
এদিকে চিকিৎসায় ডাক্তারদের অবহেলার কারনে শিশু মারা যাওয়ার ঘটনা নিয়ে সোমবার (২২মার্চ) সকালে রকল উপজেলায় স্থানীয় জনসাধারণ মানববন্ধন করেছে। তারা অভিযোগ করেন, সরকারি হাসপাতাল হলেও একদিকে ডাক্তার স্বল্পতা, আবার ডাক্তার থাকলেও ঠিক মতো দায়িত্ব পালন করেন না। থাকলে রোগীর সেবা নিয়ে অবহেলা করেন এসব নিয়ে উপজেলার হাজার হাজার মানুষ বসবাস করছে। বরকল উপজেলার ৫ ইউনিয়নের মধ্যে বরকল সদর এলাকায় একটি মাত্র সরকারি হাসপাতাল। যার কারণে সুচিকিৎসার জন্য দূর্গম বিভিন্ন এলাকা থেকে সদর হাসপাতালে চলে আসে। কিন্তু হাসপাতালে চিকিৎসকদের অমানবিকতা দেখে সাধারণ রোগীরা হতাশ হয়ে পড়ে।
মেডিকেল অফিসার ক্যানেজিয়া বলেন, তিনি রাঙ্গামাটিতে করোনা পরীক্ষা করতে যান। আর রিপোর্ট নেগেটিভ হওয়ায় ২১ তারিখ দুপুরে কর্মস্থলে ফিরে আসলে রোগীর অবস্থা সম্পর্কে তেমন একটা ধারণা ছিল না। ডাঃ দীপেন চাকমা রোগীর ব্যাপারে জানতেন। তবে নিজ দায়িত্বে যতটুকু সম্ভব সেবা দেয়ার চেষ্টা করেছি এরপর অবস্থার অবনতি দেখে শিশুকে রাঙ্গামাটি সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কথা বলি।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ মংক্যছিং সাগর জানান, তিনি রোগীর ব্যাপারে অবগত ছিলেন। কিন্তু সবকিছু ভগবানের উপর। আর নিউমোনিয়া রোগ হলে মারা যাবে এটাই স্বাভাবিক। তাছাড়া দায়িত্বরত চিকিৎসকরা যতসম্ভব চিকিৎসা সেবা দেওয়ার চেষ্টা করেছে।
এ বিষয়ে সিভিল সার্জন ডাঃ বিপাশ খীসা বলেছেন, এ ঘটনা দুঃখ জনক। প্রকৃত কারন জানতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ডাক্তারদের অবহেলার করার সত্যতা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
All rights reserved © 2020 paharechok.com||
এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি