আমিনুল ইসলাম
নাইক্ষ্যংছড়ি (বান্দরবান) প্রতিনিধিঃ
‘জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা’ নিশ্চিত করার কথা থাকলেও বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সদরের কয়েকটি সরকারি দপ্তরের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কর্মদিবসে সকাল ১১টার দিকে বিভিন্ন সরকারি অফিস সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ দপ্তরের দরজায় তালা ঝুলছে। আবার কিছু অফিস খোলা থাকলেও সেখানে চেয়ার-টেবিল ও ফ্যান সচল থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনেককেই দেখা যায়নি।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সদরের বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।
সরেজমিনে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়, উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়, মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়সহ কয়েকটি দপ্তরের এমন চিত্র চোখে পড়ে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ে সরকারি দপ্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি না থাকায় বিভিন্ন কাজে আসা সেবাপ্রার্থীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। কেউ কেউ দূর-দূরান্ত থেকে এসে কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হন।
এ বিষয়ে একজন স্থানীয় সাংবাদিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে কয়েকটি ছবি পোস্ট করে সরকারি দপ্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর পোস্টে বলা হয়, সকাল ১১টার সময়ও অধিকাংশ সরকারি অফিসে তালা ঝুলছে। আর যেসব অফিস খোলা রয়েছে, সেখানে চেয়ার-টেবিল ও ফ্যান থাকলেও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাওয়া যাচ্ছে না। তাহলে সাধারণ নাগরিকরা সেবা পাবেন কখন—এমন প্রশ্নও তোলা হয় ওই পোস্টে।
স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, সরকারি কর্মঘণ্টায় যদি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দপ্তরে পাওয়া না যায়, তাহলে সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা নিতে কোথায় যাবেন?
তাদের মতে, সরকারি কর্মঘণ্টায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় সরকারি সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি জনগণের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হতে পারে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. এনামুল হাসান বলেন, “এ বিষয়ে আমি অবগত নই। আপনার কাছ থেকেই বিষয়টি শুনলাম। এ রকম হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট স্ব স্ব দপ্তরগুলোকে অবগত করা হবে।”
সাধারণ নাগরিকদের প্রত্যাশা, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে সরকারি অফিসে নির্ধারিত সময়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি নিশ্চিত এর কথা বলেন এবং সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি ও ভোগান্তি কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।