এম আবু হেনা সাগর,ঈদগাঁও
কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার একমাত্র কলেজ রশিদ আহমদ কলেজকে সরকারীকরণ দাবীতে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
২১ মে (বৃহস্পতিবার) সকাল এগারটায় কলেজ থেকে বিপুল সংখ্যক ছাত্রছাত্রীরা রেলি সহকারে ঈদগাঁও বাসষ্টেশনে মানববন্ধন অংশগ্রহণ করে।
এটির আয়োজক কলেজের শিক্ষা্থীবৃন্দ।
এসময় তারা কলেজ জাতীয়করন দাবীতে নানা শ্লোগান দেন। হাতে ছিল বিভিন্ন নামের প্লেকার্ড।
মানববন্ধনে কলেজ শিক্ষক- শিক্ষিকা,স্থানীয় সংবাদকর্মীসহ সামাজিক সংগঠন নেতৃবৃন্দদের কেও দেখা যায়। এতে আইনশৃঙ্খলা বাহনীর লোকজন শৃঙ্খলার কাজে দায়িত্ব পালন করেন। মানববন্ধন শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়, এতে অনেকে বক্তব্য রাখেন।
সূত্রে জানা যায়, ঈদগাঁও একটি জনবহুল উপ জেলা। এ উপজেলার প্রচুর সংখ্যক লোকজন প্রবাসী যাদের আয় হতে পযাপ্ত রেমিট্যান্স দেশে আসে। বিগত সরকারের আমলে প্রায় সব উপ জেলায় স্কুল-কলেজ জাতীয়করন হলেও ঈদগাঁও উপজেলায় কোন স্কুল কলেজ সরকারী করন হয়নি। শিক্ষা ক্ষেত্রে এ উপজেলা দারুন বৈষম্যের শিকার। ঈদগাঁও উপজেলায় বিপুল সংখ্যক গরিব,অসচ্ছল ছাত্র ছাত্রী বিশেষ করে পিছিয়ে পড়া নারী শিক্ষা্থীদের উচ্চ শিক্ষা লাভে রশিদ আহমদ কলেজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেই চলছে। এই কলেজটি উপমহাদেশের প্রখ্যাত পার্লামেন্টারিয়ান,অবিভক্ত পাকিস্তানের সাবেক কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রী কক্সবাজার ৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য খালেকুজ্জামান ও ইঞ্জিনিয়ার শহীদুজ্জামানের শ্রদ্ধেয় পিতা শহীদ মৌলভী ফরিদ আহমদের নামে তাঁর পরিবার কতৃক ১৯ ৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়ে ৩৯ বছর যাবত ধরে এই এলাকায় শিক্ষা বিস্তারে অবদান রাখছে।
বর্তমানে কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক স্নাতক (পাস), স্নাতক (সম্মান) কোর্সে প্রায় ১৪শ জন শিক্ষা্থী অধ্যায়নরত আছে। স্থানীয় রাখাইন সম্প্রদায় ও বান্দরবানের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অনেক সন্তানরাও এ কলেজের শিক্ষা্থী।
দেশের যেসব উপজেলায় কেন সরকারী কলেজ নেই, এমন প্রতিটি উপজেলায় একটি করে বেসরকারী কলেজ জাতীয়করণের সরকারী সিদ্ধান্ত ও জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ ( অধ্যায় ২৭, অনুচ্ছেদ ৯)র আলোকে বৈষম্যহীন শিক্ষা সুবিধা প্রদানের লক্ষে শিক্ষাক্ষেত্রে অনগ্রসর এলাকায় উচ্চ শিক্ষা বিস্তারের নিমিত্তে স্থানীয় জনসাধারণের চাহিদা বিবেচনায় ঈদগাহ রশিদ আহমদ কলেজ জাতীয়করন সময়ের দাবী।