পলাশ চাকমা রাঙ্গামাটি
প্রকৃতিতে শীতের প্রকোপ কমে বসন্ত ঢুকতেই সারি সারি গাছে মুকুলে মুকুলে ছেয়ে গেছে আম বাগানগুলো। থোকায় থোকায় মুকুলের ভারে ঝুলছে আম গাছের ডালপালা। পাশাপাশি মধুমাসের আগমনী বার্তা জানাচ্ছে আমের মুকুল। আর আমের ফলন নির্ভর করছে আবহাওয়ার ওপর। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর পাহাড়ে আমের বাম্পার ফলনের আশা করছেন বাগান মালিকরা। বাগান মালিকদের চোখে ভাসছে সফলতার স্বপ্ন।
জানা যায়, রাঙ্গামাটি জেলা ৩৫০০ হেক্টর জমিতে আম বাগান রয়েছে। এসকল বাগানে বিভিন্ন জাতের আম রয়েছে। সোনালি হলুদ রঙের আমের মুকুলের চেয়ে গেছে বাগানগুলো। আমের মুকুলের ঘ্রাণ যেন সকলের মন কাড়ে। আমের মুকুলগুলোতে এখন মৌমাছির ঘুরে বেড়াচ্ছে গুনগুন শব্দে। এমন দৃশ্যের দেখা মিলে এই সময়ের শুরু থেকে। এ দৃশ্য যে কাউকেই কাছে টানতে বাধ্য।
জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, শহর থেকে পাহাড়ের গ্রামগুলো সর্বত্র আমের মুকুলে হলদ রঙে সেজেছে এক অপরূপ সাজে। আম গাছে শোভা পাচ্ছে কেবলই মুকুল। এ যেন হলুদ আর সবুজের মহামিলন। মুকুলে ছেয়ে আছে গাছের প্রতিটি ডালপালা। চারদিকে ছড়াচ্ছে সেই মুকুলের সুবাসিত পাগল করা ঘ্রাণ।
এদিকে মৌসুমের শুরুতে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মুকুলে ভরে গেছে ব্যক্তি উদ্যোগে লাগানো আম গাছগুলো। বড় আকারের চেয়ে ছোট ও মাঝারি আকারের গাছে বেশি মুকুল ফুটেছে। সেই মুকুলের মৌ মৌ গন্ধ ছাড়িয়ে পড়েছে চারদিকে। আর বাগান গুলোতে রয়েছে, আম্রপালি, রুপালী, রাংগুয়াই, কাঁচামিটা, হাঁড়িভাংগা। এছাড়াও নতুন জাতের মধ্যে বারী-৪ ও স্থানীয় জাতের আম রয়েছে বাগানগুলোতে।
বাগান মালিক কৃষ্ণ কুমার চাকমা ও রমজান আলী জানান, এবার অন্যান্য বারের থেকেও আমের মুকুল দেখা যাচ্ছে বেশি। কোনো কোনো গাছে আমের মুকুল থেকে ছোট ছোট আম গুটি দেখা যাচ্ছে। এবার আমের ভালো ফলন পেতে ছত্রাক নাশক প্রয়োগসহ বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। আর আমের পাশাপাশি লেচুসহ নানান ধরনের ফলের মুকুল আসা শুরু করছে। তারা বলেন, বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর আমের ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।
রাঙ্গামাটি কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ উপ-পরিচালক কৃষ্ণ প্রসাদ মল্লিক জানান, রাঙ্গামাটি জেলা মোট ৩৫০০ হেক্টর জমিতে আমের বাগান রয়েছে। প্রতি বছরের প্রতি বছর আমের উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্রা ৩৫৭০০ মেক্ট্রিক টন। গত মৌসুমে আমের বাজার ভালো থাকায় লাভবান হয়েছিলেন চাষিরা। গত বছরের চেয়ে এ বছর আম বাগান আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। এ জেলার বিরাজমান আবহাওয়া ও মাটি আম চাষের জন্য বিশেষ উপযোগী।
তিনি বলেন, বাগানের সঠিক পরিচর্যা করা গেলে ফল উৎপাদনে যে লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে তা ছাড়িয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জেলায় যে সমস্ত জমি এখনো ফল বাগানের আওতায় আনা যায়নি, তা সরকারের বিশেষ প্রকল্পের আওতায় আনা গেলে দেশে ফলে চাহিদা মিটানো সম্ভব।
All rights reserved © 2020 paharechok.com||
এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি