আকাশ মারমা মংসিং
পহেলা বৈশাখ ও মারমা সম্প্রদায়ের সাংগ্রাই উৎসবের আমেজ নিয়ে কথা হয়েছিল যুব সমাজের তরুনী হ্লাহ্লা এ সাথে। তিনি জানিয়েছেন প্রায় দুই বছর ধরে সাংগ্রাই উৎসব আনন্দ করতে পারেনি। এই বছরে করোনা প্রাদুর্ভাব কমে যাওয়াতেই মনের মধ্যে সাংগ্রাই আমেজ জেগেছে। বহু অপেক্ষা পর সামনে সাংগ্রাই মৈত্রীবর্ষণ উৎসব (পহেলা বৈশাখ) আসছে। এদিনটি কোনভাবে বিফলে যেতে দেব নাহ। সাংগ্রাই আসছে দেখে আনন্দিত হয়ে এইবারে ৩ ধরণের থামি সেলাই করেছি। যাতে তিনদিন অনুষ্ঠানে ভিন্ন রকমে সাজাতে পারি।
পার্বত্য অঞ্চলে বান্দরবানের শুরু হতে যাচ্ছে পহেলা বৈশাখ ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সাংগ্রাই উৎসবের আমেজ। এতে শুরু হয়েছে প্রস্তুতি। তিন পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষের সামাজিক উৎসব সাংগ্রাই উৎসবকে ঘিরে উৎসবের নানান রঙে সাজতে শুরু করেছে পুরো তিন পার্বত্য জেলায়। এতে পাহাড়ের মারমা সম্প্রাদায়ের সাংগ্রাই উৎসব প্রাণ ফিরেছে বলে আনন্দিত মারমা সম্প্রদায়ের জনগোষ্ঠিরা।
এব্যাপারে বান্দরবানে সাংগ্রাই উদযাপন কমিটি সাধারণ সম্পাদক শৈটিং মারমা বলেন, সকল ধরনে প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এ উপলক্ষে ১৩ তারিখ সকাল ৮টায় মঙ্গল শোভাযাত্রার মাধ্যমে এর সূচনা করা হবে। ধর্মীয় অনুষ্ঠান ছোয়াং দান, বুদ্ধ স্নান, শীলগ্রহণ ইত্যাদি আর সামাজিক অনুষ্ঠান মৈত্রী পানি বর্ষণ, আলোক চিত্র প্রদর্শনী, মিনি ম্যারাথন দৌড় এবং পাহাড়ীদের ঐতিহ্য খেলাধুলাসহ নানা আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে। অনুষ্ঠানকে সার্থক করার জন্য সকলেই কাছ থেকে সহযোগীতা কামনা করছি।
জানা গেছে, প্রাণঘাতিক করোনা প্রাদুর্ভাব ও সরকারী নির্দেশনার লকডাউনে কারণে দুইবছর আনন্দ করতে পারেনি মারমা সম্প্রাদায়ের প্রধান উৎসব সাংগ্রাই মৈত্রীবর্ষণ। সেটিকে ঘিরে প্রায় ২ বছর দীর্ঘ অপেক্ষা পর এবছরের ১৪ এপ্রিল শুরুতে হতে যাচ্ছে মারমা সম্প্রেদায়ের প্রধান উৎসব সাংগ্রাই মৈত্রীবর্ষণ। এরই উৎসব আমেজকে ঘিরে শুরু হয়েছে বিভিন্ন গ্রামের নৌকা, পিঠা বানানো প্রস্তুতি।প্রায় অধিকাংশ গ্রামের মধ্যে বাঁশ দিয়ে তৈরী করা হচ্ছে নৌকা। পাশপাশি এই উৎসব আমেজকে ঘিরে তালিকাও করা হয়েছে কি কি উদযাপন করা হবে। আবার উৎসবের প্রথম দিনে চাকমা, ত্রিপুরা ও মারমারা বন থেকে ফুল আর নিমপাতা সংগ্রহ করে সেই ফুল দিয়ে ঘর সাজায় ও মা গঙ্গার উদ্দেশ্যে নদীতে ফুল ভাসায়। মুল বিজুর দিনে ঘরে ঘরে রান্না হয় ঐতিহ্যবাহী পাচন। আর বাংলা নববর্ষের দিনে রাঙ্গামাটির কাউখালীর বেতবুনিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে মারমাদের জলকেলী উৎসব। সেই সাথে উৎসবের প্রথম দিনে চাকমা, ত্রিপুরা ও মারমারা বন থেকে ফুল আর নিমপাতা সংগ্রহ করে সেই ফুল দিয়ে ঘর সাজায় ও মা গঙ্গার উদ্দেশ্যে নদীতে ফুল ভাসায়। মুল বিজুর দিনে ঘরে ঘরে রান্না হয় ঐতিহ্যবাহী পাচন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বান্দরবান সদর উপজেলার অন্তর্গত সুয়ালক মাঝের পাড়া, রেইছা থলি পাড়া, জামছড়ি, বাঘমারা, বালাঘাটা, ডুলুপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় জুড়ে চলছে নৌকা বানানোর প্রস্তুতি। আবার গ্রামের যুবকরা গ্রামের পাশে কিংবা গ্রাম থেকে বাঁশ কেটে কাধে করে নিয়ে আসছে প্রয়োজনীয় আনুষাঙ্গিক যন্ত্রাংশ গুলো। আবার কিছু কিছু গ্রামে ভ্যান গাড়ি সাহায্যে নিয়ে যাচ্ছে বাঁশ। নৌকা কারীগরও মাটি খুঁড়ে বাঁশগুলো গর্তে দিচ্ছে। আবার অনেকে করাত দিয়ে মাপজোর করে কাটছে পরিমাপের মতন।তিনদিন আয়োজনে আগে থেকে প্রস্তুতি রেখেছে যুবসমাজরা।
দুংখী পাড়া নৌকা কারীগর বলেন, সাংগ্রাই উৎসব আসলে আমাদের চাপ পড়ে যায় নৌকা বানাতে। দু’পাশে দু’নৌকা বানাতে বাঁশ লাগে প্রায় ২০টি উপরে। আবার সেখানে পেরাগ, রশ্মি, তেরেপালসহ পানি পাম্প ও প্রয়োজন পড়ে। সব কিছু মিলে নৌকা বানাতে খরচ হয় প্রায় ১৫ হাজার টাকার মতন। বানাতে প্রায় ৬/৭ দিন লাগে। তবে বানানো শেষে নৌকা পাশে ৭ জন যুবক ইচ্ছা মতন এপারে ওপার পানি খেলতে পারবে।
মাঝের পাড়া গ্রামের তরুন নারী হ্লামেপ্রু মারমা বলেন, এইদিন আসলে আমাদের মনের একটা আনন্দ জেগে উঠে। এই দিন আগমণ ঘটলে নিজেকে আনন্দ মুহুর্ত ছেড়ে যায়। আশা করি এই বছরে আনন্দ মুহুর্তটা সবার সাথে কাটিয়ে উপভোগ করতে পারবো।
বান্দরবান ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠির সাংস্কৃতিক ইনষ্ঠিটিউটের পরিচালক মংনুচিং বলেন, মারমাদের বড় উৎসব হল সাংগ্রাই ( নববর্ষ)। নিজেদের ঐতিহ্যবাহী ধরে রাখতে মারমাদের প্রধান আকর্ষণ নৌকা পানি ভরে পানি খেলা ও পিঠা বানানো। কয়েকদিন পর সেটি শুরু হতে যাচ্ছে। আমরাও প্রস্তুতি নিচ্ছি।
বান্দরবান পুলিশ সুপার জেরিন আখতার বলেন, পার্বত্য এলাকায় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের বৈসাবী, বিজু ও সাংগ্রাই আসছে। প্রায় তিনদিন এই উৎসবকে ঘিরে আইনশৃঙলা বাহিনী নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। যাতে সবাই নির্বিগ্নে উৎসব অনুষ্টান উপভোগ করতে পারে ও কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
All rights reserved © 2020 paharechok.com||
এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি