হ্লাছোড়ি মারমা রোয়াংছড়ি
গেল মাসের ৯ মার্চ বুধবার কারিতাসের অর্থ আত্মসাৎতের অভিযোগ উঠে রোয়াংছড়ি উপজেলার সমন্বয়ক মো.ইয়াহিয়া আহমেদের বিরুদ্ধের।
অভিযোগের বলা হয়, লিন প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন সভা ও কর্মশালাতে ৬০-৭০ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকলেও তিনি সে বরাদ্দ অর্থকে তিন ভাগের এক ভাগ খরচ করে অবশিষ্ট দুই ভাগ অর্থ নিজে হাতিয়ে নেন। শুধু তাই নয় প্রতিটি কর্মসূচীতে ১৫ হাজার থেকে ৭০ হাজার পর্যন্ত বরাদ্দ থাকে। বিভিন্ন কর্মসূচীতে যারা অংশ নিয়েছেন তাদের দৈনিক সম্মানী ভাতা থাকলেও সম্মানী ভাতা না দিয়ে নামমাত্র ভাতা প্রদান করেন। যাতায়াত ভাতা প্রদানের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীকে টাকার পরিমাণ না দেখিয়ে খালি বিল কাগজের স্বাক্ষর নিয়ে যে যার মত কিছু টাকা প্রদান করা হয়।
অভিযোগে আরো বলা হয়, ২২ ফেব্রুয়ারী হতে ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২২ইং পর্যন্ত দুইদিন ব্যাপী মারাত্বক তীব্র অপুষ্টি ও মাঝারি তীব্র অপুষ্টি ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণ এর সিডিউলের নির্দিষ্ট সময় বিকাল ৪টা পর্যন্ত থাকলেও সে দিনও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সভা মিলনায়তনে অর্ধ দিবস প্রশিক্ষণ দিয়ে সমাপ্ত করে দেন। পরে প্রশিক্ষণের অর্থ দিয়ে বনভোজন করা হয়েছে। এই অর্ধ দিবসের প্রশিক্ষণের বরাদ্দ টাকা থেকে খরচ করা হয়েছে মাত্র ৫০ পঞ্চাশ হাজার টাকা। বাকি টাকা আত্মসাথের অভিযোগ উঠে মো. ইয়াহিয়া আহমেদের বিরুদ্ধে।
অভিযোগে প্রমাণের সত্যতা পেলে রোয়াংছড়িতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন অর্থায়নে বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান জাতীয় বেসরকারি সংস্থা কারিতাস কর্তৃক লিন প্রকল্পের আওতায় নিউট্রিশন বিষয়ে রোয়াংছড়ি, তারাছা, আলোক্ষ্যং ও নোয়াপতং সহ ৪টি ইউনিয়নের প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে বরাদ্দের টাকা নয়-ছয়, ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়ম করার অভিযোগে উপজেলা সমন্বয়ক মো.ইয়াহিয়া আহমেদকে চাকুরী হতে অব্যাহতি দিয়েছে বেসরকারি সংস্থা কারিতাস কর্তৃক লিন প্রকল্পের কতৃপক্ষ।
মঙ্গলবার ১৯ এপ্রিল বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, দুর্নীতি ও অর্থ আত্নসাতের অভিযোগে গত (১০ মার্চ ২০২২) রোয়াংছড়ি উপজেলা অফিস থেকে অর্থ আত্মসাৎকারী ইয়াহিয়া আহমেদকে জেলা অফিস থেকে প্রত্যাহার করেন।
জানা গেছে, অর্থ আত্মসাৎ অভিযোগ পেয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করে মাঠে নেমে কর্তৃপক্ষরা। বিভিন্ন পর্যায়ক্রমে সত্যতা প্রমান মিললে তদন্ত কমিটি প্রতিবেদনটি সুপারিশ করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেন। তদন্ত প্রতিবেদনে ফলাফল ভাল হবে ইয়াহিয়া আহমেদ চাকুরী থেকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত হতে পারে জানা গেছে।
এব্যাপারে বান্দরবান জেলা কারিতাস অফিসের কর্মরত ও তদন্ত কমিটির সদস্য রুপনা দাশ বলেন, ইয়াহিয়া আহমেদ বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগে ভিত্তিতে কমিটি গঠন করে সঠিক ভাবে যা চাই বাছাই করে তদন্ত প্রতিবেদন কতৃপক্ষে কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। শতভাগ আশাবাদী ফলাফল ভাল হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
লিন প্রকল্পের জেলা কর্মকর্তা প্রভাত চন্দ্র ত্রিপুরা বলেন, মো. ইয়াহিয়া আহমেদকে সাময়িক ভাবে বরখান্ত করা হয়েছে এবং কেন্দ্র থেকে স্থায়ীভাবে বরাখাস্ত আদেশে চিঠি আসছে।
All rights reserved © 2020 paharechok.com||
এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি