নিজস্ব প্রতিনিধি,ঈদগাঁও
বাংলাদেশের স্বাধীনতা,সার্বভৌমত্ব ও গনতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনে কক্সবাজারের ঈদগাঁওয়ের আরিফ উল্লাহ সবকিছু বিসর্জন দিয়েছেন।
আরিফের ক্ষুরধার লেখনী, আগুন ঝরা বিদ্রোহী কবিতা আবৃত্তি,সমাবেশে বজ্রকণ্ঠে বক্তব্যদান, মিছিলে নানা ছন্দেভরা শ্লোগানে, ফ্যাসিবাদীদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটায়। যেই কারণে তাকে বহু বার হামলা ও মামলার শিকার হতে হয়েছে। বাড়ীছাড়া হয়ে পরবর্তীতে দেশত্যাগে বাধ্য হয়। তবুও থামেনি তার কলম। একের পর এক কলাম লিখে,কবিতা,গান লিখে ফ্যাসিবাদীদের জানান দিয়েছেন-তিনি বিদ্রোহী, তিনি দেশকে ভালবাসেন, তিনি দেশ ও দেশের মানুষের জন্য জীবন দিতে রাজি।
জানা যায়, ২০০৯ সালে আওয়ামীলীগের রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসার দুই মাসের মধ্যে পিলখানা ট্রাজেডি হয়। এই নির্মম নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড আরিফ মেনে নিতে পারেনি। এর প্রতিবাদে “বাকরুদ্ধ জাতি” শিরোনামে কবিতা লিখে পোস্টার বের করে নিজ জেলা শহরে লাগিয়েছিলেন।
২০১০ সালে হরতাল চলাকালে রাজপথে হামলায় রক্তাক্ত হয়েছিল। একই বছর দৈনিক আমার দেশ পত্রিকা বন্ধ ও সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে”সংবাদ পত্র ও মিডিয়ার কণ্ঠরোধ কেন” শিরোনামে কলাম লিখে আবারও হামলার শিকার হন।
২০১২ সালে ফেব্রুয়ারিতে “ডিজিটাল ভাইরাসে আক্রান্ত বাংলাদেশ” শিরোনামে বই লিখেছিল। বতমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমেদ আরিফের লিখিত বইটির মোড়ক উন্মোচন করেছিলেন।
২০১৩ সালে আরিফের ১৩ বছর বয়সী কুরআন হাফেজ ভাতিজাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে মারধর পূর্বক মিথ্যা মামলায় একমাসেরও বেশি সময় কারাবন্দী করে রেখেছিল। তারপরেও থামেনি আরিফের কলম!
বহুবার হামলা ও মামলার শিকার হয়ে ঘরছাড়া হয়েছিল। বিগত ১৫ বছরে হাজারেরও বেশি ফ্যাসিবাদ বিরোধী কবিতা লিখেছে,শতাধিক কবিতা ফ্রেমবন্দি করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ রাজনীতি বীদ ও বিশিষ্টজনকে উপহার দিয়েছিলেন।
২০১৭ সালে নিজ এলাকার লোকজনকে সাথে নিয়ে রোহিঙ্গাদের জন্য ট্রাকভর্তি করে খাবার ও কাপড় নিয়ে গিয়েছিল। রোহিঙ্গাদের অসহায়ত্ব ও আহাজারি নিজ চোখে দেখে এসে “জয় হোক মানবতার” শিরোনামে কলাম লিখেছিলেন।
সেই সময়ে তার লেখা “সংগ্রামী মানুষের অশ্রু নদী” শিরোনামে জীবন মুখী গানটি অনেকের হৃদয় ছুঁয়ে ছিল।
২০০৮ সালের ১জানুয়ারি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদাজিয়া সহ- রাজবন্দীদের মুক্তির দাবীতে জরুরী অবস্থা ভেঙে মিছিল বের করেছিলেন। একই দাবীতে ৭ই মার্চ “দেশনেত্রীর মুক্তি চাই” শিরোনামে কবিতা লিখে পোষ্টার বের করে জেলা বিএনপির অফিসে লাগিয়েছিলেন। একিবছর ২৬শে মার্চ ঈদগাঁওয়ের পাহাড়িকা কমিউনিটি সেন্টারে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও করে ছিল আরিফ। এটি যেন জিয়া পরিবারের প্রতি আরিফের অকৃত্রিম ভালবাসার নিদর্শন।
সাগর-রুনি হত্যা প্রতিবাদে- মেঘের কান্না, আমার দেশের সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতার প্রতিবাদে বাংলার ঘরে ঘরে মাহমুদুর রহমান, বেগম খালেদা জিয়াকে বাড়িছাড়া করার প্রতিবাদে কেঁদেছে বেগম জিয়া,কাঁদবে হাসিনা ও” শিরোনামে পত্রিকায় অসংখ্য কলাম লিখেছিলেন। ঢাকা-চট্টগ্রাম, সিলেটসহ- দেশের বিভিন্ন স্থানে গিয়ে প্রতিবাদী কবিতা আবৃত্তি করেছিলেন আরিফ।
২০২৩ সালে ৯ই জুলাই সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে তারুণ্যের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ওই সমাবেশে “তারুণ্যের উত্তাল তরঙ্গে” শিরোনামে একটি কবিতা আবৃত্তি করে। এরপরে তার নামে দুটি মামলা হয়। দীর্ঘদিন বাড়ি ছাড়া হয়ে জীবন বাঁচাতে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন।
তিলে তিলে গড়া শেষমেশ যে দোকানটি ছিল, তাও নির্বাসিত হওয়ার দু’মাস পরে বিক্রি করে দিতে হয়েছে । নির্বাসিত জীবনে রুজি রোজ গারের তাগিদে সৌদি আরবে ঘাম ঝরানো পরি শ্রম করতে বাধ্য হন। একসময় আরিফ অসুস্থ হয়ে পড়েন। চলতি বছরের ৫ ফ্রেরুয়ারী দেশে ফিরে নির্বাচনী কাজে সম্পৃক্ত ছিলেন। এখন ঢাকা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
All rights reserved © 2020 paharechok.com||
এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি