নিজস্ব প্রতিবেদক
এখন চলছে শুষ্ক মউসুম। এই মউসুমে কাপ্তাই লেকের পানি অস্বাভাবিকভাবে শুকিয়ে যায়। পানি শুকিয়ে যাবার ফলে লেকের দুই পাশে বিপুল পরিমান জমি ভেসে উঠে। আবার বর্ষা মউসুম না আসা পর্যন্ত লেকের তীর শুকনো থাকে। এই শুকনো জমি স্থানীয়ভাবে ‘জলেভাসা’ জমি নামে পরিচিত।
এই জমিতে স্থানীয় কৃষকরা বিভিন্ন শাক ও সবজী চাষ করে থাকেন। এই মাটি অত্যন্ত ঊর্বর বিধায় এখাকে যে ফসলের চাষই করা হোক না কেন ফলন খুবই ভালো হয়। কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি সুত্রে জানা গেছে, রুলকার্ভ (পানির পরিমাপ) অনুযায়ী এই মুহুর্তে (৬ মার্চ) কাপ্তাই লেকে পানি থাকবার কথা ৯৬ ফুট মীন সী লেভেল (এম এসএল)।
কিন্তু লেকে পানি রয়েছে ৮৯ ফুট এম এস এল পানি। অর্থাৎ পরিমাপের চেয়ে প্রায় ৭ ফুট পানি কম রয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিনই লেকের পানি কমছে। আবার বর্ষা মউসুম শুরু না হওয়া পর্যন্ত কাপ্তাই লেকের পানি বৃদ্ধি হবার কোন সম্ভাবনা নেই।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে কাপ্তাই উপজেলার কিছু অংশসহ বিলাইছড়ি উপজেলা, জুরাছড়ি উপজেলা, বরকল উপজেলা, লংগদু উপজেলা, নানিয়ারচর উপজেলা, বাঘাইছড়ি উপজেলা, রাঙ্গামাটি সদর উপজেলার কিছু অংশে কাপ্তাই লেকের জমি রয়েছে। শুষ্ক মউসুম হওয়ার কারণে সব উপজেলাতেই জলেভাসা জমি দেখা যায়।
এসব জমিতে স্থানীয় কৃষকরা মউসুমী শাকসবজী বিশেষ করে টমেটো, আলু, বেগুন, শীম, মুলা, শালগম, ফুলকপি, বাঁধাকপি, ধনিয়া, লাউ, মিষ্টি কুমড়া, মরিচ, লাল শাক, ডাটা শাক ইত্যাদির চাষ করে থাকেন। ফলনও ভালো হয়। এসব জলেভাসা জমিতে চাষাবাদ করে অনেকইে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হন বলেও জানা গেছে।
তবে জলেভাসা জমিতে কোন ধরণের চাষাবাদ না করার জন্য কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে বলে জানা গেছে। কারণ এখন শুষ্ক মউসুম চললেও যেকোন মুহুর্তে হঠাৎ ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। সেই বৃষ্টিতে কাপ্তাই লেকের পানি আবার বেড়েযেতে পারে।
আর লেকের পানি বৃদ্ধি পেলে জলেভাসা জমিতে যেসব চাষ করা হয়েছে মুহুর্তে সব তলিয়ে যাবার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই কাপ্তাই লেকের জলেভাসা জমিতে চাষাবাদ না করার জন্য কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের বিধিনিষেধ রয়েছে।
এ ব্যাপারে কাপ্তাই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী এ টি এম আব্দুজ্জাহের বলেন, আমরা প্রতিবছর স্থানীয় জনগণকে সতর্ক করে থাকে তারা যেন জলেভাসা জমিতে চাষাবাদ না করেন। কারণ কাপ্তাই লেকে পানি ধারণ ক্ষমতা ১০৯ ফুট এম এস এল। সেই হিসেবে বর্তমানে লেকের পানি প্রায় ২০ ফুট কম রয়েছে। পানি কম থাকায় বিপুল পরিমান জলেভাসা জমি দৃষ্টিতে পড়ছে। জলেভাসা জমি উর্বর হওয়ায় এখানে যে চাষই করা হোক না কেন ফলন ভালো হয়।
কিন্তু জমি এখন শুকনো থাকলেও যে কোন মুহুর্তে ভারী বৃষ্টি হবার সম্ভাবনা রয়েছে। ভারী বৃষ্টিপাত হলে লেকের পানির উচ্চতাও বেড়ে যাবে। আবার ভারতের আসাম রাজ্যেও বৃষ্টিপাত হলে সেই বৃষ্টির পানিও কাপ্তাই লেকে এসে পড়বে। যার ফলে জলেভাসা জমি যে কোনমুহুর্তে পানিতে তলিয়ে যাবার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলন থাকা অবস্থায় কাপ্তাই লেকে পানি বাড়লে এবং শাকসবজী নষ্ট হলে কৃষক ক্ষতিগ্রস্থ হবেন। তখন অনেকে এই ক্ষতির জন্য কাপ্তাই লেক পরিচালনা কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেন।
তাই কৃষক যাতে কোনভাবে ক্ষতির সম্মুক্ষিন না হন সে জন্য কাপ্তাই লেকের জলেভাসা জমিতে কাউকে চাষাবাদ না করার জন্য আমরা বরাবরই অনুরোধ জানিয়ে আসছি।
বিলাইছড়ি উপজেলার কয়েকজন কৃষক জানান, আমরা গত তিন বছর ধরে জলেভাসা জমিতে চাষাবাদ করছি। এখন পর্যন্ত ক্ষতির মুখে পড়তে হয়নি। তবে যে কোন মুহুর্তে কাপ্তাই লেকের পানি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে সেই আশঙ্কা মাথায় নিয়েই তারা জলেভাসা জমিতে চাষাবাদ করছেন বলে জানান।
All rights reserved © 2020 paharechok.com||
এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি