আকাশ মারমা মংসিং
এইতো গেল কয়েকদিন আগে রেমাক্রি ইউনিয়নের দুর্গম এলাকায় কেসমন পাড়ায় ১৪ বছরের নাবালিকা মেয়ে নিজ বাড়িতে মাকে কাজের সহায়তা করেছিল। পাশপাশি জুম চাষের বাবাকে ও সহযোগীতা করত। কিন্তু হঠাৎ তার ছোট মেয়েটি হারিয়ে গেলে বাবা -মা খুজতে থাকে। পরে শুনতে পায় চাকুরি ও অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে সড়কে সাইট ম্যানেজার অপহরণ করে নিয়ে গেছে।
ঘটনাটি বিষয়ে জানতে রেমাক্রি ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের সদস্য জন ত্রিপুরার সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেন। তবে কেনো নিখোঁজ কিশোরীর ব্যাপারের বিষয়ে তার পিতাকে আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহন করতে পরামর্শ বা সহায়তা দেননি এমন প্রশ্নের উত্তর তিনি এড়িয়ে যান ।
ঘটনাটি ঘটেছে বান্দরবানের থানচি উপজেলার দুর্গম এলাকার রেমাক্রী ইউনিয়নে কেসমন পাড়া গ্রামে।
প্রায় ১০ দিন পর মেয়েটিকে সন্ধান না মিললে দুর্গম এলাকার রেমাক্রি থেকে ছুটে আসেন বান্দরবানের গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে। চোখের পানি ফেলে বলেছিলেন “বাবারা আমার মেয়েটিকে খুজে দাও”।
কথাটি শুনে ঘটনাটি ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে ভুক্তভোগী বাবা বলেন, আমার ছোট মেয়ে বয়স মাত্র ১৪ বছর। পড়ে পঞ্চম শ্রেনীতে দলিয়ান প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। পড়ালেখা পাশাপাশি পরিবার কাজেও সহায়তা করত। এর আগে বান্দরবানে ঠিকাদার আনিসুল ইসলাম সুজন থানচি হতে রেমাক্রি বড়মদক সরকারী সড়কে কাজ চলমান ছিল। সে কাজে দেখা শোনা করত রেজাউল করিম টিপু নামে সাইট ম্যানেজার। প্রায় দু মাস ধরে ওই এলাকায় সড়কের কাজে নিয়োজিত ছিল। সে সুযোগের অভিনব কায়দায় ফেলে ছোট মেয়ে সাথে কথা বলার সুযোগ নেয়। নিষেধ করার পরও সহজ সরল পরিবারকে তোয়াক্কার না করে দিন দিন ক্রমাগত বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ের নাবালিকা মেয়েটিকে টাকা ও চাকরি প্রলোভন দেখিয়ে ১৮ মার্চ শুক্রবারে ভোরে নৌকা যোগে অপহরণ করে নিয়ে যায় রেজাউল করিম টিপু নামে সাইট ম্যনেজার।
অপহরণ ব্যাক্তি রেজাউল করিম টিপু (৪৮), সে বাইশারী ইউনিয়নে ১নং ওয়ার্ডের ক্যাথোয়াই পাড়া মৃত কবির মাস্টার ছেলে।
কথা হয় সার্ক মানবধিকার ফাউন্ডেশনে জেলা সহ-সভাপতি অচমং মারমা সাথে। তিনি বলেন, ১৮ বছরে নিচে হলে মেয়েটি নাবালক। যেহেতু মেয়েটি প্রাপ্ত বয়স্ক হয়নি সেহেতু অপহরণকারী বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা হবে। এবং এটি দন্ডনীয় অপরাধ।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান মো. আলম সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে সংযোগ অয়াওয়া যায়নি।
নাইক্ষ্যংছড়িতে খোজ নিয়ে জানা গেছে, রেজাউল করিম টিপু নাইক্ষ্যংছড়ির রাজনৈতিকতায় জর্জরিত। সে ওয়ার্ড পর্যায়ের যুবলীগের নেতা। বিয়েও করেছেন দুইটি। উপজাতী একটি নারী ও নিজ জাতি। এই ব্যাপারে রেজাউল করিম টিপুকে একাধিকবার ফোন দিলেও ফোনটি রিসিভ করেননি। বরংচ সে গ্রাম থেকে পলাতক বলে জানা যায়।
রেমাক্রি এলাকার স্থানীয় জানান, মোঃ রেজাউল করিম টিপু থানচি উপজেলার রেমাক্রি দলিয়ান পাড়ার সরকারি একটি রাস্তার কাজে ২ মাস ধরে কেরানীর কাজে ছিল। মানুষকে ভুলিয়ে ভালিয়ে সবার সাথে মেলামেশা করতো। আর নিজেকে মাঝে সাজে কন্ট্রাকটার পরিচয় দিতো। সুযোগে নিয়ে কয়েকবার দেখা সাক্ষাৎ হতো হাবৈরুং ত্রিপুরার সাথে এবং পরিচয় দিতো অনেক টাকার অংঙ্কের মালিক।
ভুক্তভোগীর মা জানান, রেজাউল করিকে অনেকবার বারণ করেছি। মেয়ে সাথে কথা না বলার জন্য। পরে চুরি করে আমার মেয়েটিকে চাকরী প্রলোভন দেখান রেজাউল করীম নামে যুবলীগ নেতা। সেই চাকরি প্রলোভনে বাড়ি থেকে কিভাবে চলে গেছে আমরা টের পায়নি। বাড়িতে তার কাগজ পত্র খুজোখুজি শুরু করলে শুধু সার্টিফিকেট মিলে। ১০ দিন পর ও এখন আমার মেয়েকে খুজে পাচ্ছি নাহ।
এব্যপারে ঠিকাদার আনিসুল ইসলাম সুজন সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোনটি রিভিস করেননি।
ঘটনাটি ব্যাপারে রেমাক্রি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মং শৈই থুই মার্মা রনি সাথে কথা হলে তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, সড়কে রাস্তার নির্মাণ কাজের নিয়োজিত ঠিকাদার আনিসুল ইসলাম সুজনের সাথে তাঁর কর্মচারী বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। কিন্ত ৯ দিন অতিবাহিত করার পরেও এখনো পর্যন্ত কোন রকম সহযোগিতা পাইনি।
এ বিষয়ে থানচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি সুদিপ্ত রায় জানান, কিশোরীকে অপহরণের বিষয়ে অপহৃতের পরিবার একটি সাধারণ ডায়েরি করেছে। তদন্তপূর্বক কিশোরীকে উদ্ধার এবং পরবর্তী আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহন করবো।
থানচি থানা’র তথ্য মতে, ২৭শে মার্চ রবিবার সন্ধ্যায় হাবৈরুং ত্রিপুরার দুলাভাই শান্ত ত্রিপুরা থানচি থানায় একটি অপহরণ মামলার সাধারণ ডায়েরি করেন রেজাউল করিম টিপুর বিরুদ্ধে।
বান্দরবান থানচি উপজেলার দুর্গম রেমাক্রি ইউনিয়নের প্রেমের ফাঁদে ফেলে ও চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ১৪ বছর বয়সের এক নাবালিকা কিশোরীকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে ৪৮ বছর বয়সের নাইক্ষ্যংছড়ির উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নে ১নং ওয়ার্ডের যুবলীগ নেতার ও আনিসুল হক সুজন ঠিকাদারের সাইট ম্যানেজার রেজাউল করিম টিপু বিরুদ্ধে।
All rights reserved © 2020 paharechok.com||
এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি