আমিনুল ইসলাম
নাইক্ষ্যংছড়ি (বান্দরবান)প্রতিনিধিঃ
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় সীমান্তবর্তী ল্যান্ডমাইন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে সতর্কতামূলক লাল পতাকা স্থাপনের প্রস্তাব নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে মাইন বিস্ফোরণে প্রাণহানির ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় জনসচেতনতা বাড়াতে এ উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন সভার বক্তারা।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. এনামুল হাসান।
সভায় বক্তারা জানান, গত এক মাসে সীমান্তবর্তী এলাকায় ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে অন্তত ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সেখানে লাল পতাকা টানিয়ে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করার প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়।
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় অংশগ্রহণকারী সদস্যরা বলেন, বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া উপজেলায় সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। গত মাসে মামলার সংখ্যা কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও পুলিশ প্রশাসনের দাবি, সাধারণ মানুষের মধ্যে আইনের প্রতি আস্থা বৃদ্ধির কারণেই অভিযোগ ও মামলা দায়েরের প্রবণতা বেড়েছে। ফলে মানুষ আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে থানার শরণাপন্ন হচ্ছে।
সভায় মাদক নিয়ন্ত্রণে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয় এবং মাদকের বিস্তার রোধে জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।
এদিকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে বিশেষ অবদান রাখায় জেলার শ্রেষ্ঠ নির্বাচিত হওয়ায় নাইক্ষ্যংছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোজাম্মেল হককে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. এনামুল হাসানসহ উপস্থিত সদস্যরা।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইসরাত জাহান ইতু, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এনামুল হক, জেলা বিএনপির সদস্য নুরুল আলম কোম্পানী, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান তোফাইল আহমদ,বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম কেন্দ্রীয় কমিটির পার্বত্য বিষয়ক সম্পাদক আবদুর রশিদ, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল আলিম বাহাদুর, ১১ বিজিবির প্রতিনিধি নায়েব সুবেদার সিরাজুল ইসলাম, ৩৪ বিজিবির প্রতিনিধি নায়েব সুবেদার জাবেদ আহমদসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, দুদক প্রতিনিধি, সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।
এই সংস্করণটি সংবাদপত্রের রিপোর্টিং স্টাইল অনুসরণ করে ভাষাগত ও তথ্যগতভাবে আরও পরিপাটি করা হয়েছে।