সরকারি সার্ভেয়ারের মাধ্যমে সীমানা নির্ধারণে সম্মতি, উসকানিমূলক ব্যানার অপসারণের নির্দেশ
মো. ইসমাইলুল করিম নিজস্ব প্রতিবেদক:
পার্বত্য জেলার বান্দরবানের লামা উপজেলায় কোয়ান্টাম বৃদ্ধাশ্রমের জমিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে চলমান সীমানা বিরোধ নিরসনের লক্ষ্যে সোমবার (২৯ জুন) বিকেল ৩টায় লামা থানায় এক জরুরি শালিসী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে উভয় পক্ষের বক্তব্য মনোযোগসহকারে শ্রবণ করা হয়।বৈঠকে সভাপতিত্বমূলক ভূমিকা পালন করেন লামা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মাসুম সরদার সহযোগিতা ছিলেন লামা থানার সেকেন্ড অফিসার নাসির উদ্দিন।
কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট ফয়সাল আজিজ, পারভেজ মাসুদ, আসাদুজ্জামান খান, সাজেদুর রহমান, মনোয়ার হোসেন ও হাবিবুর রহমান। অপরদিকে আব্দুল গফুরের পক্ষে ছিলেন কামাল উদ্দিন (রাবার কামাল), আব্দুল গফুর, জয়নাল আবেদীন (জানু মেম্বার), আনোয়ার হোসেন (কালা আনোয়ার), গিয়াস উদ্দিন (সরদার) এবং রফিকুল ইসলাম।
দীর্ঘ আলোচনা ও মতবিনিময়ের পর উভয় পক্ষের সম্মতিক্রমে এলাকায় শান্তি, শৃঙ্খলা ও সৌহার্দ্য বজায় রাখার স্বার্থে চারটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ হলো, কোনো পক্ষই নতুন করে কোনো সীমানা নির্ধারণ, স্থাপনা নির্মাণ কিংবা ভূমির বর্তমান অবস্থার পরিবর্তন করিবেন না। প্রত্যেকে নিজ নিজ বর্তমান দখলীয় সীমানা অনুযায়ী স্থিতাবস্থা বজায় রাখিবেন এবং এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ রক্ষায় সচেষ্ট থাকিবেন। কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনকে হেয়প্রতিপন্ন করিবার উদ্দেশ্যে টানানো সকল আপত্তিকর ও উসকানিমূলক ব্যানার অবিলম্বে অপসারণ করা হইবে। এলাকার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও শান্ত হইলে উভয় পক্ষ যৌথভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে সরকারি সার্ভেয়ার নিয়োগের আবেদন করিবেন। পরবর্তীতে সরকারি সার্ভেয়ার মূল দলিল-দস্তাবেজ ও রেকর্ডপত্র যাচাইপূর্বক বিরোধপূর্ণ জমি পরিমাপ করিয়া প্রকৃত সীমানা নির্ধারণ করিবেন এবং উভয় পক্ষই কর্তৃপক্ষের সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মেনে চলিতে বাধ্য থাকিবেন।
লামা সার্কেলের এএসপি মাসুম সরদার জয়নাল আবেদীন (জানু মেম্বার)-কে আপত্তিকর ব্যানার অপসারণ এবং জমি পরিমাপসংক্রান্ত বিষয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সমন্বয় ও মধ্যস্থতার দায়িত্ব অর্পণ করেন। বৈঠকে উপস্থিত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ আশা প্রকাশ করেন, পারস্পরিক সৌহার্দ্য, প্রশাসনের তত্ত্বাবধান এবং সরকারি বিধি-বিধান অনুসরণ করিয়া বিরোধের স্থায়ী ও গ্রহণযোগ্য সমাধান সম্ভব হইবে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখিতে সকল পক্ষকে সংযম, ধৈর্য ও সহযোগিতার মনোভাব প্রদর্শনের আহ্বান জানানো হয়েছে।