নিজস্ব প্রতিনিধি,ঈদগাঁও
ধুয়ে-মুছে পবিত্র জলে শরীর ভিজিয়ে নতুন বছর কে বরণ করবে তরুন-তরুনীসহ সববয়সী মানুষ।সে সাথে আনন্দ উৎসবে প্রতিবছর রাখাইন সম্প্রদায়ের বর্ষবরণ উৎসব ‘সাংগ্রাং’ কিংবা ‘সাংগ্রেং পোয়ে’ উদযাপিত হয় কক্সবাজার সদরের চৌফলদন্ডীর রাখাইন পল্লীতে।জলভেজা এই সাংগ্রাংকে স্থানীয়রা বলেন জলকেলি। রাখাইন সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় সামাজিক উৎসব এটি। ১৬ থেকে ১৮ এপ্রিল তিন দিনব্যাপী এ উৎসব চলবে রাখাইন পল্লী তে। উৎসবকে ঘিরে খুশির আমেজে মুখরিত রাখাইন সম্প্রদায়ের লোকজন।
প্রতিবছর বাংলা নববর্ষের কয়দিন পর শুরু হয় রাখাইন অব্দের নতুন বছর। সাংগ্রাং উৎসব নিয়ে জেলার অন্যান্য স্থানের ন্যায় চৌফলদন্ডীর মধ্যম, দক্ষিণ ও উত্তর রাখাইন পাড়ায় চলছেই প্রস্তুতি।
রাখাইন সম্প্রদায় ৩ দিনব্যাপী জলকেলি উৎসব আয়োজন করেন। উদ্দেশ্য ধনী-গরিব ভেদাভেদ ভুলে সবার মঙ্গল কামনা করা,মানুষকে ভালবাসা
জলকেলি ছাড়াও উৎসবে থাকে সমবেত প্রার্থনা এবং ঘরে ঘরে ভাল খাবার পরিবেশন। উৎসব দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে মূল আকর্ষণ জলকেলি। স্থানীয় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ উপ ভোগ করেন এ উৎসব।
এই রাখাইন তরুণ-তরুণীরা ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত হয়ে উৎসবে মেতে উঠার অপেক্ষার প্রহর গুনছেন। ছেলেমেয়েরা সড়ক ও অলিগলিতে নাচগানে মুখরিত করে তুলবেন। জলকেলির জন্য আগে থেকে বিভিন্ন পল্লিতে তৈরি থাকে ফুল,বেলুন এবং পত্রপল্লব শোভিত মণ্ডপ।মণ্ডপে তরুণীরা অপেক্ষায় থাকবেন তরুন দের জন্য। বিভিন্ন পল্লী থেকে তরুণরা নেচে-গেয়ে মণ্ডপে প্রবেশ করবেন। তরুণরা পছন্দ পাত্রীকে জল ছুড়ে তাঁর সঙ্গে জলকেলিতে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানাবেন।
রাখাইন তরুণ প্রিন্ট ব্যবসায়ী মং জানালেন, জল কেলির জন্য সারা বছর অপেক্ষায় থাকি। নতুন বছর বরণ এবং পুরোনো বছরকে বিদায় জানাতে এই জলকেলি উৎসব। উৎসব শেষে সব মানুষের সুখ-শান্তি ও উন্নতি কামনা করা হয়।
স্থানীয় মেম্বার ওছাচিং রাখাইনের সাথে কথা হলে তিনি জানান, ছোট্ট পরিসরে চৌফলদন্ডী রাখাইন এলাকার তিন পাড়ায় জলকেলি উৎসব হবে।
All rights reserved © 2020 paharechok.com||
এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি