ডেস্ক নিউজ:যশোরের কেশবপুরে কুকুরের কামড়ের শিকার হচ্ছে শিশুরা। গত দু’দিনে কুকুরের কামড়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন ৯ শিশুসহ ১৪ জন। তাদের মধ্যে ক্ষতবিক্ষত ৫ শিশুকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।কেশবপুরে গত ৮ মাসে কুকুর, বিড়াল ও হনুমান মিলে ৬৩১ জনকে কামড়িয়ে আহত করেছে। এ নিয়ে গত ৩ বছরে ১ হাজার ৯৮৮ জন কুকুর ও অন্যান্য প্রাণীর কামড়ে আহত হয়েছে। এর মধ্যে শুধু কুকুরের কামড়েই আহত হয়েছেন ৯৪১ জন। উপজেলাবাসী কুকুরের কামড় আতঙ্কে দিন পার করছে। পিতা মাতারা শিশুদের নিয়ে রয়েছে দুচিন্তায়। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছেন, হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞার কারণে বেওয়ারিশ কুকুর মারা হচ্ছে না। শিশুদের কুকুড়ের কামড় থেকে রক্ষা করতে অভিভাবকদের সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও আহতদের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার উপজেলার নতুন মূলগ্রামের আব্দুল গফুরের ছেলে আশিকুর রহমান (৭) নিজ বাড়ির সামনে কুকুরের আক্রমনের শিকার হয়। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কুকুরে কামড়ে তাকে ক্ষতবিক্ষত করে। দুপুরের দিকে আলতাপোল গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে ইমামুল হাসান (৯), কন্দর্পপুর গ্রামের হাসান আলীর ছেলে রিফাত (৭), মুলগ্রামের সনজিত মন্ডলে ছেলে রাহুল মন্ডল (৭) ও কড়িয়াখালি গ্রামের সবুজ হোসেনের ছেলে জিয়াদ (১১) কুকুরের কামড়ে আহত হয়।
গত সোমবার বিকেলে হাজরাকাটি গ্রামের ইউনুস আলীর ছেলে রাজিবুল হোসেনকে (৫) কামড়ে আহত করেছে। রাজিবুল বসত বাড়ির উঠানে অন্য শিশুদের সাথে খেলা করছিল। হঠাৎ একটি কুকুর এসে কামড়ে তার মুখমন্ডল ক্ষতবিক্ষত করে। সাহাপুর গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে ইসমাইল হোসেন (৬) সোমবার দুপুরে কুকুরের কামড়ে শিকার হয়। নিজ বাড়ির সামনে সে কুকুরের আক্রমনের মাটিতে পড়ে গেলে কুকুরে কামড়ে তার মাথার পিছনের তালু তুলে ফেলে। তার অবস্থা গুরুতর। বিকেলে কেশবপুর গ্রামের রাশেদুল ইসলামের ছেলে আশরাফুল (১০) ও চালুয়াহাটি গ্রামের নাজিমুদ্দিনের ছেলে তাসকিন (৬) কুকুরের কামড়ে আহত হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার আলমগীর হোসেন বলেন, কুকুরের কামড়ে আহত রোগীরা হাসপাতালে আসা মাত্রই যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম এম আরাফাত হোসেন বলেন, হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞার কারণে বেওয়ারিশ কুকুর মারা হচ্ছে না। শিশুদের কুকুড়ের কামড় থেকে রক্ষা করতে অভিভাবকদের সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
All rights reserved © 2020 paharechok.com||
এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি