॥ রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি ॥পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান ও জনসংহতি সমিতির সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমা বলেছেন, ১৯৯৭ সালে ২ ডিসেম্বর চুক্তি করা হলেও দীর্ঘ ২৫ বছর পেরিয়ে গেলেও সরকার সেই চুক্তি দিকে এগিয়ে আসেনি। পাহাড়ে শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের সময়ে আশ্বাস দিয়েছিলেন, চুক্তি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করবে। এটি ছিলো সরকারের মুখের কথা,অন্তরের কথা নয়।
শুক্রবার (২০ মে) সকালে রাঙ্গামাটি জিমনেশিয়াম মাঠে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি) এর ৩৩তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সন্তু লারমা বলেন, পাহাড়ের বুকে আন্দোলন আরো বহু আগে শুরু হয়েছে। এই এলাকার মানুষ ব্রিটিশ আমলেও ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে ছিলো, স্বাধীনতা সংগ্রামের সংগ্রাম করেছে। যে নের্তৃত্ব নিয়ে চুক্তি করা হয়েছিল সরকার সে নের্তৃত্বকেই ধ্বংস করার জন্য কিনা করেছে। দমন পীড়ন, শোষন-নিপীড়ন এমন পর্যায়ে এসেছে যে আমাদেরকে নতুন করে ভাবতে হবে। ২৫ বছর অপেক্ষা করেও সরকার এগিয়ে আসেনি। সরকার চুক্তি বাস্তবায়ন করবে কি করবে না।
তিনি আরো বলেন, চুক্তি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াকে নানা ভাবে বাধাগ্রস্থ করে চুক্তিকে এমন একটা পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, যাতে পাহাড়ের জুম্ম জগগণ একদিন যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, সেটি যাতে তারা ভূলে যায়। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫১ বছর পরেও জুম্ম জনগণের অস্তিত্ব বিলুপ্তির ষড়যন্ত্র বছরের পর বছর ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে যেতে থাকে। চুক্তি বাস্তবায়নের সংগ্রামে যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে।
রাঙ্গামাটি পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি) সভাপতি সুমন মারমার সভাপতিত্বে সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃ-বিজ্ঞান শিক্ষক জোবাইদা নাসরীণ কণা, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক মংসানু চৌধুরী, বিশিষ্ট সাংবাদিক নজরুল কবীর, পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদেও সাবেক ছাত্রনেতা ও শিক্ষক শিশির চাকমা। ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি ফয়েজ উল্লাহ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট কেন্দ্রয়ি কমিটির সহ-সভাপতি রয়হান উদ্দিন, আদিবাসী যুব ফোরামের সাগঠনিক সম্পাদক টনি ম্যাথিউ চিরান প্রমূখ।
All rights reserved © 2020 paharechok.com||
এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি