ইয়ামিন হোসেন:দেশে ভূমিহীন ও গৃহহীন অসহায় মানুষদের মধ্যে যাদের ভূমি নেই তাদের সরকারের খাস জমি থেকে ২ শতাংশ ভিটে এবং ঘর দিচ্ছে সরকার। যাদের ভিটে আছে ঘর নাই তাদের ঘর দিচ্ছে সরকার।
প্রতিটি ঘর দুই কক্ষ বিশিষ্ট। এতে দুটি রুম ছাড়াও সামনে একটি বারান্দা, একটি টয়লেট, একটি রান্নাঘর এবং একটি খোলা জায়গা থাকবে।
ভোলা সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের গুলি গ্রামে ঘুরে দেখা গেছে,উন্নত মানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে ভূমিহীনদের জন্য তৈরি করা হচ্ছে এই আবাসন।
ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের কাছে হস্তান্তর করতে প্রস্তুত করা হচ্ছে ১৪১টি ঘর।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিম্ম মানের সামগ্রী দিয়ে ভূমিহীনদের জন্য ঘর তৈরি হচ্ছে এমন পোষ্ট পেলেও বাস্তবে তার সত্যতা মিলেনি সরজমিনে গিয়ে, আবাসন প্রকল্পে কাজ করা শ্রমিকরা বলেন আমাদের দেখা সেরা সামগ্রী ব্যবহার হচ্ছে এই কাজে, একটি মহল সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য ফেসবুকে মিথ্যা লিখেছে বলে দাবী করেন প্রকল্পের দায়িত্বশীলরা।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকতা নাহিদুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, মুজিব বর্ষে কেউ গৃহহীন থাকবে না- সরকারের এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ভোলা সদরের ধনিয়া ইউনিয়নের গুলি মৌজায় ৩. ৬৯ একর জমিতে ভূমিহীন ১৪১ টি পরিবার পাবে পাকা ঘর।
তিনি আরো বলেন, মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে দেশে ভূমিহীনদের নিজস্ব ঠিকানা করে দেওয়ার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী আশ্রয়ণ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেন। ‘আশ্রয়নের অধিকার শেখ হাসিনার উপহার’ মুজিববর্ষে এই শ্লোগান বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ-প্রকল্পের আওতায় সরকারি খাস জমিতে ভূমিহীনদের জন্য গৃহনির্মাণের কাজ শুরু করে। ইতিমধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের ঘর ভুমিহীনদের মাঝে হস্তান্তর করা হয়েছে। তৃতীয় পর্যায়ে ধনিয়াতে ১৪১ টি ঘরের নির্মাণ কাজ চলছে,, কাজ শেষ হলেই উপহার হিসেবে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের মাঝে প্রদান করা হবে।
তিনি বলেন, সারা দুনিয়াতে এটি প্রথম ঘটনা এবং একমাত্র ঘটনা একসঙ্গে বিনে পয়সায় এত ঘর করে দেওয়া। মাদার অব হিউম্যানিটি সারা দুনিয়াতে একটি নজির স্থাপন করলেন।
সূত্রে জানা যায়, ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবার পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ১৯৯৭ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তত্ত্বাবধানে আশ্রয়ণ নামে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় একটি প্রকল্প গ্রহণ করে। এই প্রকল্পের আওতায় ১৯৯৭ সাল থেকে ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাস অবধি ৩ লাখ ২০ হাজার ৫২টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়।
আশ্রয়ণ প্রকল্পের উদ্দেশ্য হলো- ভূমিহীন, গৃহহীন, ছিন্ন অসহায় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন, ঋণপ্রদান ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহে সক্ষম করে তোলা এবং আয় বাড়ে এমন কার্যক্রম সৃষ্টির মাধ্যমে দারিদ্র্য দূরীকরণ।
এদিকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘরের কাজ শতভাগ সঠিক ভাবে বাস্তবায়ন করতে সার্বক্ষনিক পর্যবেক্ষন করছেন ভোলা সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার তৌহিদুর রহমান।
All rights reserved © 2020 paharechok.com||
এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি