আমিনুল ইসলাম:নাইক্ষ্যংছড়ি প্রতিনিধি:নাইক্ষ্যংছড়ির পাশ্ববর্তী রামু উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের দোছড়ি গলাচিপা নামক গ্রামের এক কৃষক পরিবারের উপর হামলা ও বসতঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা কে ঘটালো নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে।
গত ২৭ আগষ্ট ঘটে যওয়া এ ঘটনা কৃষক সাইফুলের দাবী আমার প্রতি পক্ষ ফেরদৌস গংরা আমার ঘরে আগুন দিয়েছে। ফেরদৌস এর দাবী আমি এবং আমাদের ফাঁসাতে কৌশল হিসাবে নিজের ঘর নিজে পুড়ছে।
স্থানীয় একটি নিরপেক্ষ সূত্রে জানা যায় ফেরদৌসের বাড়ীর চলাচলের পথ নিয়ে দুই পক্ষের মাঝে দখল-বেদখল নিয়ে বেশ কিছু দিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এ বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড মেম্বার ছালেহ আহমদ পক্ষাবলম্বন কারায় বিষয়টি আরো জটিল হয়ে পড়ে। ওই দিন বিকালে সাইফুল ইসলাম ও ফেরদৌসের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। এক পর্যায়ে বিষয়টি কচ্ছপিয়া ইউপি চেয়ারম্যানকে অবগত করলে তিনি ৩ নং ওয়ার্ড মেম্বার শাহজাহান সিরাজ শাকিল সিকদারকে বিষয়টি নিরসনের জন্য পাঠান। শাকিল আসার পর বিষয়টি নিয়ে উভয়ই পক্ষের মাঝে কথা চলাকালীন সময়ে সাইফুলের বউয়ে খারাপ আচরণ করলে ক্ষেপে যায় শাকিল। এক পর্যায়ে সাইফুলের ছেলে ওসমান শাকিলের উপর চড়াও হয়। এসময় শাকিল, ফেরদৌস ও তার ভাইরা এসে সাইফুল এবং ছেলে ওসমানকে ধাক্কা ও চড়থাপ্পড় মারে। এসময় শাকিল কে মারধর করেছে মর্মে খবরে তার কিছু লোকজন এসে হাঁকা বকা করে।
এ ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল ছুটে আসেন গর্জনিয়া ফাঁড়ি পুলিশের এএসআই নুরুন্নবী টিপুসহ একদল পুলিশ এলাকায় এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এরপর উভয় পক্ষের সাথে বসে সৃষ্ট বিরোধ নিরসনের জন্য এর পরদিন পুলিশ ফাঁড়িতে আসার কথা ছিল। পাশাপাশি দু’পক্ষকে পুলিশ শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বলেন। এদিন গভীর রাতে সাইফুলের খামার বাড়িটি অগ্নিকাণ্ডে বাড়িতে রক্ষিত মালামাল পুড়ে ছাঁই হয়ে যায়।
এ বিষয়ে সাইফুল ইসলাম সাংবাদিকদের কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, মেম্বার শাকিল সিকদার, তার লোকজন ও ফেরদৌস, তার ভাই’রা আমাকে এবং আমার ছেলেকে ব্যাপক মারধর করলে আমারা গুরুতর আহত হয়। এদিন রাতে চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যায়। আমরা বাড়িতে না থাকার সুবাদে তাদের পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী গভীর রাতে আমার খামার বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়। আমি পরদিন এসে দেখি আমার খামার বাড়ি, পুড়ে সেখানে থাকা আমার টাকা,ধান চাউল,স্বর্ণলঙ্কার,মালামালসহ সব পুড়ে শেষ হয় গেছে। তারা বাড়ি পুড়ে দিয়ে ক্ষান্ত হননি। আমাদের মারবে, কাটবে বলে হাঁকা বকা করছে। বর্তমানে তাদের ভয়ে আমি এখন এলাকা ছেড়ে আমার শ্বাশুড়বাড়িতে আশ্রয়ে আছি। কে আগুন দিয়েছে এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন,আমার প্রতিপক্ষরা বার বার বলে আসছিল আমার খতিয়ান ভূক্ত জমি হইতে তাদের চলাচলের রাস্তা না দিলে আমাকে এখানে বসবাস করতে দেবেনা। এর রেশ ধরে আমাক উচ্ছেদ করতে তারা এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে। আমি প্রশাসনের কাছে সুস্থ নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবী করছি।
অভিযুক্ত ফেরদৌস থেকে জানতে চাইলে তিনি বলেন,এই জমিতে আমি ঘর নির্মাণ করেছি আজ তিন বছর হল। আমার চলাচলের রাস্তাটি বড় করায় সে আমার সাথে এ ঘটনায় জড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার ছালেহ আহমেদ ও ইউপি চেয়ারম্যান আবু মোঃ ইসমাঈল নোমান অবগত আছেন। গত ২৭ তারিখ পুনরায় ঘটনা সৃষ্টি হলে আমি চেয়ারম্যানকে জানাইলে তিনি মেম্বার শাকিল সিকদারকে পাঠান। শাকিলকে গালমন্দ করায় সামান্য হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। বাড়ি পুড়ানো বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন,সাইফুল ও তার ছেলে আমাদের ফাঁসাতে কৌশল হিসাবে এ অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটিয়েছে। আমি আল্লাহর ৩০ পারা পবিত্র কোরআন শরিফ নিয়ে হলফ করে বলতে পারবো আমি এবং আমাদের পক্ষে কেউ এই অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটায়নি। তবে অন্য কেউ যদি ঘটায় আমরা এর সঠিক বিচার চাই। সাইফুল ইসলাম এ ঘটনায় মেম্বার শাকিল ও ছালেহ আহমেদকে মূল পরিকল্পনাকারী হিসাবে বিভিন্ন সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করায় বিষয়টি কচ্ছপিয়ার সর্বত্রে আলোচনা আর সমালোচনার জড় বইছে। এসব বিষয়ে গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত আইসি মোজাম্মেল হক থেকে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমারা অবগত আছি তবে কে বা কারা এ বসতঘর পুড়ে দিয়েছে সুনির্দিষ্ট করে এলাকার কেউ বলতে পারছেনা। তাই এ ঘটনায় রহস্য জনক বলে মন্তব্য করে গোপনে ও প্রকাশে এর রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে পুলিশ।
এদিকে এলাকার সুশীল সমাজের দাবী বিষয়টি
নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
All rights reserved © 2020 paharechok.com||
এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি