Logo
শিরোনাম
সীমান্ত ও নির্বাচন নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ সতর্কতায় নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন -১১ বিজিবি বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে ভারি অস্ত্র, গুলি সহ আরাকার আর্মির সদস্য আটক রাজস্থলীতে বন্যহাতির আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে সরকারি অনুদানের চেক বিতরণ। বিলাইছড়িতে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি। নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারীতে বিএনপি প্রার্থী সাচিং প্রু জেরীর প্রচারণায় জনতার ব্যাপক সাড়া দুর্গম ফারুয়া ইউনিয়নে ৬ শ  কার্ডধারীদের মাঝে  চাউল বিতরণ ঈদগাহ আদর্শ শিক্ষা নিকেতনের বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন বিলাইছড়ির ১১ দলীয় ঐক্যজোট  রিক্সার প্রতীক আবু বকর সিদ্দিক এঁর পথ সভা বান্দরবানে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল চালক গুরুতর আহত পটিয়ায় সোহেল হত্যার প্রধান আসামি কায়েস বাকলিয়ায় গ্রেফতার।

সীমান্ত ও নির্বাচন নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ সতর্কতায় নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন -১১ বিজিবি

আমিনুল ইসলাম

নাইক্ষ্যংছড়ি(বান্দরবান)প্রতিনিধিঃ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬ সামনে রেখে সীমান্ত নিরাপত্তা ও নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছে নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি)।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়িতে কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানানো হয়।

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান দমন, মাদক ও অস্ত্র পাচার প্রতিরোধ এবং অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিজিবি একটি পেশাদার, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ বাহিনী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। নির্বাচনকালীন সময়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা, ভোটারদের নিরাপত্তা প্রদান এবং জনগণের ভোটাধিকার সুরক্ষাই বিজিবির প্রধান লক্ষ্য।

বিজিবি জানায়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ও নির্বাচন কমিশনের সকল নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করে দায়িত্ব পালন করা হচ্ছে। সকল রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বিজিবি, যাতে নির্বাচন প্রক্রিয়া অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হয়।

ভোটাররা যেন নিরাপদ, শান্ত ও ভয়মুক্ত পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে বিজিবি অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছে। একই সঙ্গে ভোটারদের মধ্যে আস্থা ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে উদ্বুদ্ধকরণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ পর্যায়ে জোরদার করা হয়েছে। সীমান্তবর্তী দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, সংযোগ সড়ক, ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্ট এবং সম্ভাব্য অনুপ্রবেশ পথগুলো বিশেষ নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে, যাতে চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক ও অস্ত্র পাচারসহ সীমান্ত-সংশ্লিষ্ট কোনো অপরাধ নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বিরূপ প্রভাব ফেলতে না পারে।

এ লক্ষ্যে সীমান্ত এলাকায় দিন ও রাতব্যাপী টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। স্থল টহলের পাশাপাশি মোবাইল প্যাট্রোল ও কৌশলগত চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী জনপদে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে তথ্য সংগ্রহ, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও আগাম সতর্কতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও চলাচলের ওপর গোয়েন্দা নজরদারিও বৃদ্ধি করা হয়েছে।

ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বিজিবি পূর্ণমাত্রায় মোতায়েন রয়েছে। সারাদেশে ৩৭ হাজারেরও বেশি বিজিবি সদস্য নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করছেন। দেশের ৪৯৫টি উপজেলার মধ্যে ৪৮৯টি উপজেলায় বিজিবি দায়িত্ব পালন করছে। এরই ধারাবাহিকতায় বান্দরবান পার্বত্য জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি) কক্সবাজার জেলার পেকুয়া উপজেলার ৪৬টি এবং নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ২৬টি কেন্দ্রসহ মোট ৭২টি ভোটকেন্দ্রে ১০টি প্লাটুন মোতায়েন করেছে।

মিডিয়া ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এসকেএম কপিল উদ্দিন কায়েস বলেন, নির্বাচনকালীন সময়ে সীমান্ত নিরাপত্তায় কোনো ধরনের শিথিলতা থাকবে না। সীমান্ত এলাকায় কঠোর ও কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, যা পুরো নির্বাচনকালজুড়েই বহাল থাকবে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন উপলক্ষে বাহিনীর জনবল পুনর্বিন্যাস করা হলেও সীমান্তে প্রয়োজনীয় সংখ্যক সদস্য সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন। ফলে সীমান্ত নিরাপত্তা ও অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা—উভয়ই সমান গুরুত্বের সঙ্গে বজায় রাখা হবে।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল কপিল উদ্দিন কায়েস বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে কোনো মহল যেন সীমান্ত পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে কোনো অপতৎপরতা চালাতে না পারে, সে বিষয়ে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় রেখে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় মোবাইল ও স্ট্যাটিক ফোর্স, র‍্যাপিড অ্যাকশন টিম এবং কুইক রেসপন্স ফোর্স প্রস্তুত রয়েছে।

বিজিবি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, সরকার, নির্বাচন কমিশন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


error: Content is protected !!