নিজস্ব প্রতিবেদক,
বহুল আলোচিত ও পাহাড়সম অভিযোগে মুখে থাকা রাঙ্গামাটির জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী পরাগ বড়ুয়া এখনো বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন। বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যম উঠে আসে। গণমাধ্যম সূত্রে আরো জানা যায় – পতিত আওয়ামী লীগ সরকার শাসনামলে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, ঘুষ বাণিজ্য ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ থাকলেও তাঁর বিরুদ্ধে এখনো কোনো শান্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। স্বৈরাচার সরকারের সময়ে রাঙ্গামাটিতে দায়িত্ব পালনকালে পরাগ বড়ুয়ার বিরুদ্ধে সরকারি পদে থেকে ঠিকাদারি, অফলাইনে টেন্ডার, পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়া, কমিশন নেওয়া এবং টেন্ডার টেম্পারিংয়ের, বিভিন্ন প্রকল্পকাজের অর্থ আত্মসাতের মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠে। স্থানীয় সরকার বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার কাছে এসব অভিযোগ জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
পতিত আওয়ামী স্বৈরাচারের সুবিধাভোগী ও স্বৈরাচার পতিত সরকারের এমপি দীপংকর তালুকদারের সুপারিশে রাঙ্গামাটি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী পরাগ বড়ুয়া প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এখনো পদ জেঁকে বসে আছেন। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর দেশ যখন কলঙ্কমুক্ত হচ্ছে, তখন এই ধরনের দালালরা কীভাবে এখনও স্বপদে বহাল থাকে প্রশ্ন সাধারণ সচেতম মহলের।
জানা যায়, পরাগ বড়ুয়া ছাত্রলীগের ক্যাডার রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিল। তিনি চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক ছাত্রলীগ নেতা।সাবেক আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়–য়ার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠজন। তার প্রভাব খাটিয়েই তিনি এতদিন সব অনিয়ম জায়েজ করেছেন।নামপ্রকাশের অনিচ্ছুক অফিসের কয়েকজন কর্মচারীর অভিযোগ, উচ্চ পর্যায়ে কর্মকর্তা ও প্রশাসনকে নানাভাবে ম্যানেজ করে এখনও নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন এবং আগের মতোই প্রভাব বিস্তার করছেন এবং স্বপদে বহাল থাকার জন্য বিএনপির উপর মহলে বিপুল পরিমাণ অর্থের মাধ্যমে তদবিরের চেষ্টা চালাচ্ছেন। রাঙ্গামাটি পৌর এলাকায় এডিবির অর্থায়নে ৩৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে কাপ্তাই হ্রদের পানি সরবরাহ প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মসহ নানা অভিযোগে গত বছর ২১ আগষ্ট বৃহস্পতিবার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে অভিযান পরিচালনাসহ প্রকল্প স্থান পরিদর্শন করেন, দুদক রাঙ্গামাটি সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আহমেদ ফরহাদ হোসেনসহ দুদকের একটি টিম।
ভুক্তভোগী ঠিকাদারদের অভিযোগ, পরাগ বড়ুয়া টেন্ডারের গোপন রেট ফাঁস করে পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেন। প্রতিটি ওয়ার্ক অর্ডারে ৫ থেকে ৭ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন আদায় করতেন তিনি।নাম না প্রকাশ করার শর্তে এক ঠিকাদার জানান, প্রকল্প বিল ছাড় করাতে হলে পরাগ বড়ুয়াকে ৩% হতে এর উপরে ঘুষ দিতে হতো। ফাইলের সঙ্গে টাকা না দিলে দিনের পর দিন বিল আটকে রাখা হতো। অনেকে ন্যায্য বিল পেতে বছরের পর বছর দৌড়াদৌড়ি করেছেন। এসব দুর্নীতির কাজ পরিচালনায় তাঁর আশপাশে একটি ‘সিন্ডিকেট’ কাজ করে বলেও অভিযোগ রয়েছে।পরাগবড়ুয়া বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও এখন পর্যন্ত জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
ভুক্তভোগীরা বলেন, স্বৈরাচার সরকারের পতনের পরও প্রশাসনের ভেতরে থাকা দুর্নীতিবাজরা বহাল থেকে দুর্নীতির ধারা অব্যাহত রেখেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
All rights reserved © 2020 paharechok.com||
এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি