এম আবু হেনা সাগর, ঈদগাঁও
কক্সবাজারের ঈদগাঁওতে কৃষকের স্বপ্নের সোনালী ফসল বোরো ধান কাটা শুরু হয়। ধানের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসির ঝিলিক ফুটে উঠেছে। তবে রোগাক্রান্ত হয়ে ধান নষ্ট হচ্ছে বলেও অভিযোগ এক চাষীর। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবছর সোনালী ধান চমৎকার রুপ নিয়েছে। ধান কর্তনে শ্রমিকের দাম নিয়ে বিপাকে চাষীরা।
জানা যায়, ঈদগাঁও উপজেলার প্রত্যান্ত গ্রামাঞ্চলে চলতি মৌসুমে সোনালী বোরো ধান কর্তনে হিড়িক পড়েছে। শ্রমিকের চড়া দামে হিমশিম খাচ্ছেন চাষারা। এসব এলাকায় দলবদ্ধ হয়ে শ্রমিকরা চাষীদের বাড়িতে ধান কাটতে যাচ্ছে দ্বিগুন দামে। নিরুপায় হয়ে শ্রমিকদের অতিরিক্ত দামে নিতে হচ্ছে।
দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর ধরে ঈদগাঁও মাইজ পাড়ার ধান চাষী ছব্বির আহমদ লেদু জানান, স্থানীয় মাইজ পাড়া মাদ্রাসা পুকুরের পশ্চিম পাশে আড়াইকানি জমিতে (৭৫ নামের) ধান চাষ করছি এ বছর। কারেন্ট নামের অজ্ঞাত একটি রোগ পুরো ধান নষ্ট করে ফেলছে। ঐ রোগ থেকে বাঁচতে প্রায় ২০/২৫ দিন পূর্বে কাঁচা ধান কর্তন করতে হচ্ছে। পরামর্শ তো দূরের কথা, ঈদগাঁওর কৃষি অফিসার এখানে আসেনা, দীর্ঘদিন ধরে দেখছিনা। এমন অভিযোগ ভোক্তভোগীর। ধানী বিলে এ প্রতিনিধি পরিদর্শনে গেলে রোগে সোনালী ধান নষ্ট হওয়ার দৃশ্য দেখা যায়।
শুক্রবার সকালে ঈদগাঁও বাজারের শাপলা চত্ত্বর ধান কাটতে আসা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শ্রমিক জানান, চলতি মৌসুমে ধান কর্তনের কাজে আসছি। মজুরির দাম চলছে বাজারে ১ হাজার থেকে ১১শত টাকা জনপ্রতি। সঙ্গে তিনবেলা খাবারও।
২৪শে এপ্রিল সকালে ঈদগাঁও জুমবাড়ী জামে মসজিদ সংলগ্ন বিলে সোনালী বোরো ধান কর্তনের দৃশ্য চোখে পড়ে।
ঈদগাঁও ইউনিয়ন উপসহকারী কৃষি কর্মকতা আবদুল্লাহ আল নোমান জানান, এবছর ইউনিয়নে সাড়ে ৬ শত হেক্টর জমিতে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষকের মুখে হাসির ঝিলিক ফুটে উঠেছে। ধানে কারেন্ট রোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, ভোক্তভোগী চাষী তাঁর জমির ধানে রোগের বিষয়ে অবগত না করায় সঠিক পরামর্শ দিতে পারিনি।
All rights reserved © 2020 paharechok.com||
এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি