নিজস্ব প্রতিবেদক
বান্দরবান
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মাহবুব ইলাহীর বিরুদ্ধে টোল ইজারা, খাল পুনঃখনন, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, জন্মসনদ প্রদান ও সরকারি অর্থ অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী, দরদাতা ও কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদের আওতাধীন বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলা হয়েছে।
তাদের দাবি, মিয়ানমারের নাগরিকদের কাছ থেকে অর্থের বিনিময়ে জন্মসনদ ও নাগরিকত্ব সনদ প্রদানের অভিযোগও রয়েছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় নাইক্ষ্যংছড়ি খাল পুনঃখনন কাজে জনবল নিয়োগ ও প্রকল্প বাস্তবায়নেও অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়েছে।
সম্প্রতি ইউনিয়ন পরিষদের টোল আদায় পয়েন্ট ইজারা কার্যক্রমে সর্বোচ্চ দর উপেক্ষা করে একটি বিশেষ সিন্ডিকেটকে সুবিধা দিতে কম মূল্যে ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী দরদাতা সৈয়দ হোছাইন জানান, গত ১২ মে ২০২৬ তারিখে নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়ন পরিষদের টোল আদায় পয়েন্ট ইজারার জন্য উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হয়।
এতে প্রায় ১৪০ জন ব্যবসায়ী অংশগ্রহণ করেন এবং দরপত্র ফরম বিক্রির মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদ প্রায় দেড় লাখ টাকা রাজস্ব আয় করে।
তার দাবি, নিলামে টোল আদায় পয়েন্টের সর্বোচ্চ দর ওঠে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা। কিন্তু সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী সর্বোচ্চ দরদাতাকে ইজারা দেওয়ার পরিবর্তে মাত্র ৬২ লাখ টাকায় একটি বিশেষ পক্ষকে ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এতে সরকার প্রায় ৫৮ লাখ টাকার সম্ভাব্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন দরদাতা বলেন, সরকারি নিয়ম মেনে সর্বোচ্চ দর দেওয়ার পরও তাদের প্রস্তাব বিবেচনা করা হয়নি। বরং একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কম মূল্যে ইজারা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে, যা ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এর আগেও টোল ইজারা কার্যক্রমে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া প্রশাসকের ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসকের স্বাক্ষর জাল করে জন্মসনদ ও নাগরিকত্ব সনদ প্রদানের অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও এ বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রশাসক মাহবুব ইলাহী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন। সামান্য কিছু অর্থের বিষয় নিয়ে এসব অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে টোল ইজারা কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।”
এদিকে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন নাগরিকরা বিতর্কিত ইজারা কার্যক্রম বাতিল করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে পুনরায় উন্মুক্ত টেন্ডার আহ্বান এবং পুরো বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জনসম্মুখে প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন।
তাদের মতে, সর্বোচ্চ দর উপেক্ষা করে কেন কম মূল্যে ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল এবং এর পেছনে কারা জড়িত—তা তদন্তের মাধ্যমে উদঘাটন করা প্রয়োজন।