নিজস্ব প্রতিনিধি,ঈদগাঁও
কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মোবাইলভিত্তিক অনলাইন জুয়া, ইয়াবা সেবনসহ কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। সামাজিক অবক্ষয়ের এই চিত্র তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যা নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্র মতে, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ, যাদের মধ্যে টমটম চালক ও বেকার যুবকদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য, তারা দ্রুত এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। স্মার্টফোন ও সহজলভ্য ইন্টারনেট সুবিধার অপব্যবহার করে গড়ে উঠেছে এক অসাধু চক্র। তারা তরুণদের লোভনীয় অনলাইন জুয়ার দিকে প্রলুব্ধ করছে। প্রাথমিক অবস্থায় অল্প টাকার প্রলোভন দেখালেও, পরবর্তীতে অনেকেই সর্বস্ব হারিয়ে পথে বসছে। সেই সাথে ইয়াবা সম্ভাবনাময় তরুণদের জীবনকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাচ্ছে।
এলাকার বিভিন্ন স্থানে আড্ডার আড়ালে গড়ে উঠছে কিশোর গ্যাং। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই গ্যাংগুলোর মাধ্যমেই এলাকায় মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। এদের দৌরাত্ম্য জনজীবনকে করে তুলছে অস্বস্তিকর ও আতঙ্কিত।
সামাজিক অস্থিরতা ও অপরাধ দমনে মাঠে নেমেছে পুলিশ। ১৮ জুন (বৃহস্পতিবার) রাতে ঈদগাঁও থানা পুলিশের একটি দল উপজেলার হাজীপাড়া, ইসলামাবাদ ও ঢালার দুয়ার এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি করা হয় এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুরো এলাকায় কঠোর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পুলিশের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা। তারা বলছেন, একবার অভিযান চালালে স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। মাদক, জুয়া ও কিশোর গ্যাং নির্মূলে এই ধরনের অভিযান নিয়মিত অব্যাহত রাখলে এলাকায় অপরাধ প্রবণতা অনেকাংশে কমে আসবে এবং শান্তি ফিরে আসবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তরুণ সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে হলে পরিবার, সমাজ এবং প্রশাসন,সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। অভিভাবকদের সচেতনতা এবং প্রশাসনের কঠোর নজরদারি পারে আজকের প্রজন্মকে একটি সুন্দর আগামীর পথ দেখাতে।