• বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০১:২০ পূর্বাহ্ন
Headline
সরকারের সু -দৃষ্টির কামনা করেছেন অসহায় পরিবার বাঙ্গালহালিয়াতে সাত মাসের শিশুকে বুকে নিয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন টুম্পা দাশ,,,, টাকার জন্য থেমে গেছে চিকিৎসা। বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে খাল পূনঃ খনন কাজে ইউ, এন,ও এনামুল হাসান এর সততায় সাশ্রয় ১ কোটি ৩ লাখ ৮৩ টাকা বিলাইছড়ি উপজেলা প্রকৌশলীর দপ্তর কর্তৃক বৃক্ষরোপন কর্মসূচী চলমান ইসলামাবাদে ট্রাকের চাপায় শিক্ষার্থী নিহত, চালক আটক বিলাইছড়িতে সেচ্ছাসেবক দলের নিজ উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণ লামায় প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে বোনের বিয়ে, অভিমানে ভাইয়ের আত্মহত্যা বিলাইছড়িতে সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে কৃষক ও কমিউনিটি নেতাদের নিয়ে সমন্বয় সভা ইসলামাবাদে হাতির আক্রমণে আহত পরিবারের পাশে ঈআশিনি-২০২০ ফ্রেন্ডস সোসাইটি বিলাইছড়িতে কার্বারী সমিতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন ইউএনও মো.জাকির হোসেন ঈদগাঁও মাইজপাড়া খালের উপর অবৈধ স্থাপনা সরাতে ইউএনওর নির্দেশ

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে খাল পূনঃ খনন কাজে ইউ, এন,ও এনামুল হাসান এর সততায় সাশ্রয় ১ কোটি ৩ লাখ ৮৩ টাকা

Reporter Name / ৯ Time View
Update : বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬

আমিনুল ইসলাম
নাইক্ষ্যংছড়ি,(বান্দরবান)প্রতিনিধিঃ

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজে, উপজেলা নির্বাহী অফিসার এনামুল হাসান এর সততায় বিপুল পরিমাণ
সরকারী অর্থ সাশ্রয়।
বরাদ্দ কৃত অর্থ থেকে যথাযথ কাজ
শেষ করে অবশিষ্ট ১কোটি ৩ লাখ ৮৩ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।ঘটনার বিবরণে
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: এনামুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সঠিক পরিকল্পনা তদারকি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সমন্বয়ে বরাদ্দকৃত অর্থের চেয়ে কম ব্যয়ে মানসম্মত কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সদর ইউনিয়নের ও সোনাইছড়ি ইউনিয়নের খাল দুইটি পুনঃখননের জন্য মোট ২ কোটি ২৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয় সরকার। এরমধ্যে ১ কোটি ২০ লাখ ১৭ হাজার টাকা ব্যয় হয়। অবশিষ্ট টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়।
প্রকল্পের আওতায় সোনাইছড়ি ইউনিয়নের জারুলিয়াছড়ি ৪ দশমিক ৫০০ কিলোমিটার খাল খনন এবং নাইক্ষ্যংছড়ি সদরের ২ দশমিক ৫০০ কিলোমিটার পুনঃখনন করা হয়েছে।
এতে খালে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করা, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত করা, কৃষিজমির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিরসন হয়েছে।
চলতি বছরের গত ৩ মে নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ও ১০ জুন সোনাইছড়ি ইউনিয়নের জারুলিয়াছড়ি প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন করে অগ্রগতি ও মান নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রকল্প বাস্তবায়নের পুরো সময়জুড়ে কাজের গুণগত মান ও ব্যয়ের বিভিন্ন খাত নিয়মিত তদারকি করা হয়।
এর ফলে নির্ধারিত মান বজায় রেখেই তুলনামূলক কম ব্যয়ে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়।
প্রায় মাসব্যাপী খননকাজ শেষে শ্রমিকদের মজুরি,যন্ত্রপাতি ব্যবহার, পরিবহন এবং আনুষঙ্গিক ব্যয়সহ সব বিল পরিশোধ করা হয়।
এরপরও ১কোটি ৩লাখ ৮৭ হাজার টাকা অব্যয়িত থাকে।
সরকারি বিধি অনুযায়ী ওই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) একাধিক সদস্য জানান,
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিয়মিত প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেছেন। তিনি নিয়মিত কাজের স্থান পরিদর্শনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন, যাতে নির্ধারিত মান বজায় রেখে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যায়।
তার সুদক্ষ ও সঠিক পরামর্শে প্রকল্পটি ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা হয়।
তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে খালটি দখল ও ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি চলাচলে বাধা সৃষ্টি হচ্ছিল। ফলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ সংকট ছিল নিত্যদিনের সমস্যা।
খাল দুইটি পুনঃখননের ফলে পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক হয়েছে, কৃষিকাজে সুবিধা বাড়বে এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
এলাকাবাসীর দাবি, এই খাল দুইটি দিয়ে অন্তত ৩০টির বেশি বিলের পানি নিষ্কাশন হচ্ছে। আগে জলাবদ্ধার কারণে অনেক বিলে আমন ধান চাষ করা যেত না।
খাল খননের পর পানিপ্রবাহ বেড়েছে। ফলে জলাবদ্ধতা কমেছে। খালটি সচল থাকলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি মাছের প্রাকৃতিক আবাসও পুনরুদ্ধার হবে,
যা স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সোনাইছড়ি ইউনিয়নের জারুলিয়াছড়ি এলাকার কৃষক মো: শাহজান এবং নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের কৃষক ছুরুত আলম বলেন, খাল দুইটি খননের কারণে বর্ষা মৌসুমে পানি জমে থাকবে না। দ্রুত সময়ে পানি নিষ্কাশন হবে।
এতে এলাকার ফসল হানি হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই।

উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, খাল দুইটি পুনঃখননে সরকারি টাকা অপচয় করা হয়নি।
খরচ করার পর অবশিষ্ট টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: এনামুল হাসান বলেন, সরকারি অর্থ জনগণের আমানত।
এই অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতা প্রয়োজন। যেকোনো প্রকল্পের প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছি। সরকারি অর্থের সর্বোচ্চ সাশ্রয় নিশ্চিত করেই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়।
প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করার পর যে অর্থ অবশিষ্ট ছিল, তা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারি সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
জনগণের কল্যাণে বরাদ্দকৃত প্রতিটি টাকার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করাই প্রশাসনের অঙ্গীকার।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা