তবে এবার পাহাড়ে শান্তি ফেরাতে কেএনএফ সদস্যদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে ১৮ সদস্যবিশিষ্ট শান্তি প্রতিষ্ঠা কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ জুন) সকালে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠা কমিটি গঠনে এ তথ্য জানান ।
সংবাদ সম্মেলনে কেএনএ’র সকল সদস্যকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে সরকার এবং কেএনএর সাথে সংলাপের উদ্যোগ করা ও সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত ঘটনাবলীর কারণে যে সমস্ত এলাকায় খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে সেসব এলাকায় খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করাসহ পূর্ণবাসন প্রক্রিয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করায় কমিটির লক্ষ্য বলে জানানো হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্য শৈ হ্লা, সদস্য কাঞ্চন জয় তঞ্চঙ্গ্যা, বম সোশ্যাল কাউন্সিলের সভাপতি লালজারবম, ধর্মীয় গুরু ও উপদেষ্ট রেভা:পাকসিমবয়তুং, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ও ম্রো সোশ্যাল কাউন্সিলের উপদেষ্টা সিংইয়ংম্রো, সাংবাদিক মনিরুল ইসলাম মনু প্রমুখ।
এছাড়াও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্য শৈ হ্লা স্বাক্ষরিত লিখিত বক্তব্য পাঠ করে শোনান শান্তি প্রতিষ্ঠা কমিটির মুখপাত্র কাঞ্চন জয় তঞ্চঙ্গ্যাঁ। তিনি বলেন, কেএনএফ ও কেএনএ’র তৎপরতার কারণে বান্দরবানের বেশ কয়েকটি অঞ্চল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এসব তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা বাহিনীকে অভিযান পরিচালনা করতে হচ্ছে। এর ফলে স্থানীয়দের জনজীবন অস্থিরতা, নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। জীবনযাপনের জন্য সকল জীবিকার সকল পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। একই কারণে বন্ধ হয়ে গেছে বান্দরবানে দেশি বিদেশি পর্যটকদের ভ্রমণ। এরইমধ্যে সেনাবাহিনীর সদস্য এবং স্থানীয়দের অনেকে প্রাণ হারিয়েছেন, হাতহতা হয়েছে কুকি চীনরাও।
তিনি আরো বলেন, কিছু বম জনগোষ্ঠীর বিপথগামী কিছু ছেলে মেয়েরা অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছেন। তাদের দাবি অনুযায়ী পাংখোয়া, খ্যাং, বম, খুমি, লুসাই সহ অনেকে তাদের সাথে আছেন। কিন্তু তারা আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনার পথে না গিয়ে সরাসারি অস্ত্র হাতে নেওয়ায় সমস্যাটি সংকটের রুপ নিয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমরা এর পরিবর্তন চাই। বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ মধ্যস্থতার ভূমিকা নিয়ে বম সোস্যাল কাউন্সিল এবং অন্যান্য সামাজিক প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি শান্তি উদ্যোগ হাতে নিয়েছে। আমরা এরই মধ্যে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছি ।

