হারাধন কর্মকার রাজস্থলী
রাঙ্গামাটি জেলার রাজস্থলী উপজেলার বাঙ্গালহালিয়াতে গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে বাঙ্গালহালিয়া বাজার ও বাজার সংলগ্ন ডাকবাংলা মধ্যম পাড়া ( দক্ষিণেশ্বর কালী মন্দিরের পিছনের সাইডে) প্রায় এক হতে দের শত পরিবার বন্যায় প্লাবিত হয়েছে বসত ঘর সহ উঠানে হাঁটু সমান পানি জমে থাকায় চরম দুর্ভোগে পরেছিলেন পাড়া বাসি। বুধবার বিকালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কাপ্তাই ৩৮ বীর রণজয়ী কাপ্তাই জোনের জোন অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল নাজমুল কাদির শুভ পি এস সি এর নির্দেশনায় বাঙ্গালহালিয়া ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার মেজর আরেফিন। এসময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আদোমং মারমা, ইউপি সদস্য শিমুল দাস, মহিলা সদস্যা বাপ্পী দেব,বাজার কমিটির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সহ বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সাথে আলাপ করেন। এলাকাবাসীকে জনদুর্ভোগ থেকে রক্ষা করতে তাৎক্ষণিক বুলড্রোজার এনে বাজার আশ পাশের সকল ড্রেন পরিস্কার কার্যক্রম শুরু করায় প্রশংসায় ভাসছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। পরিদর্শন কালে মেজর আরেফিন বলেন উপজেলা প্রশাসনকে সাথে নিয়ে সেনাসদস্যরা নিরলসভাবে জনদুর্ভোগ নিরসনে বিভিন্ন তৎপরতা, জরুরি ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা, চিকিৎসা সহায়তা এবং বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সর্বাত্মক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করতে প্রস্তুত রয়েছে।এছাড়াও সেনাবাহিনীর অন্যান্য ফরমেশন নিজস্ব দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে ।বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সেনাবাহিনীর এই মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। উল্লেখ্য, টানা বৃষ্টিতে রাঙ্গামাটির রাজস্থলী উপজেলার বাঙ্গালহালিয়া এলাকায় সড়ক গ্রাম বাজার ডুবে যাওয়ায় সাধারণ জনসাধারণের চলাচল বন্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে। বাজারে ও গ্রামের পাশে পানি নিস্কাসনের জায়গা বন্ধ হওয়ায় জলাবদ্ধ সৃষ্টি হয়। ফলে বাঙ্গালহালিয়া ক্যাম্পের ক্যাম্প অধিনায়কের সার্বিক সহযোগিতায় পানি নিস্কাসনের ব্যবস্থা করেছেন। স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, ডাক বাংলা পাড়া বাজারের ওপর দিয়ে প্রবল স্রোত বয়ে যাচ্ছে।বাঙ্গালহালিয়াতে ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ডুবে গেছে ডাক বাংলা পাড়াসহ বিভিন্ন এলাকা।
গতকাল থেকে পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার জন্য মাইকিং করছে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলার তিন টি ইউনিয়নের এরই মধ্যে ৯টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এদিকে আশ্রয় কেন্দ্র গুলো দফায় দফায় পরিদর্শন করছেন নব যোগদানকৃত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইউসুফ হাসান।