সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা,
রাঙ্গামাটি জেলা প্রতিনিধিঃ বিলাইছড়িতে বিএনপি বিপুল ভোটে জয়ী হলেও, জেলা পরিষদ সদস্য পদকে কেন্দ্র করে শীর্ষ নেতাদের পাল্টা-পাল্টি প্রতিবাদ। যা বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:- মিঃ এ্যাংলিয়ানা গত ২৪/০২/২০২৬ ইং তারিখে বিলাইছড়ি উপজেলা বিএনপি কমিটি কর্তৃক সংবাদ সন্মেলনে যা পাহাড়ের চোখ নামক অনলাইন পত্রিকায় প্রচার সম্পর্কে যে প্রতিবাদ দিয়েছেন এবং এই সংবাদ সন্মেলনের বক্তব্য প্রত্যাহার করার জন্য দাবি তুলেছেন অন্যতায় আমার বিরুদ্ধে আইগত ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন বলিয়া হুমকি প্রদর্শন করার কারণে গত ২৪/০২/২০২৬ ইং এর বক্তব্যকে বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করা হইল। আশা করি আপনার সিদ্ধান্ত থেকে আপনি সরে যাবেন। প্রেস বিজ্ঞাপ্তিতে এ্যাংলিয়ানার প্রতি এম এ সালাম ফকির।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে লিখিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেন। গত ২৪/০২/২০৬ ইং তারিখে বিলাইছড়ি উপজেলা বিএনপির কমিটি কর্তৃক সংবাদ সন্মেলন যা পাহাড়ের চোখ নামক অনলাইন পত্রিকা প্রচার সম্পর্কে মিঃ লাল এ্যাংলিয়ানা যে প্রতিবাদ দিয়েছেন তার সার মর্ম হল- আগামী ৩ দিনের মধ্যে বক্তব্য প্রত্যাহার না হলে যাথাযত আইনত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর জবাবে অদ্য ২৭/০২/২০২৬ ইং আপনাকে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানাচ্ছি যে,আমি আপনার বিরুদ্ধে এমন কোনো বক্তব্য দেইনি যা,আপনার মান- সন্মান ক্ষুন্ন হয়েছে। আপনি নিজেকে বিএনপির একজন উপদেষ্টা দাবী করেছে তা মোটেই ঠিক নহে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে আপনাকে উপদেষ্টা করা হয়েছে। এর অর্থ এই নয় যে,আপনি উপজেলা বিএনপি কমিটির সন্মানিত উপদেষ্টা। নির্বাচন পরিচালনা কালীন আপনাকে উপজেলা নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে মিটিংএ হাজির হওয়ার জন্য জানানো হলে,সেই মিটিংএ হাজির হননি।আপনার বাসভবন বিলাইছড়ি সদরে অবস্থান থেকে অন্য কোন এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণায় গিয়েছেন বলে কেউ জানেন প্রমাণ নেই। অথচ আপনি আপনার প্রতিবাদ লিপিতে উল্লেখ করছেন যে,আপনি উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করার কারণে বিলাই ছড়ি উপজেলায় ধানের শীষ নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনে অগ্রণী ভুমিকা পালন করেছেন।আপনার এই বক্তব্যে বিলাইছড়ি উপজেলা বিএনপির সকল নেতাকর্মীরা মিথ্যা ও অপমানজনক বক্তব্য বলে উল্লেখ করছে। আপনি নিজেকে মিথ্যার আশ্রয়ে বিএনপির বিজয়কে আপনার দক্ষতার প্রমাণ করতে চেয়েছেন।দলের শত শত নেতাকর্মী কঠোর পরিশ্রমকে আপনি অবমূল্যায়ন ও অপমানিত করেছেন।

আপনি আপনার নিজগ্রামে বিএনপির নির্বাচনে প্রচারণার ব্যবস্থা করেছেন তা সত্য। এছাড়া আপনি উপজেলার অন্তর্গত অন্য কোনো এলাকায় যাননি।আপনি বলেছেন আমি নির্বাচনে তফসিল ঘোষণার পূর্বে ৩১ দফার লিফলেট বিতরণে আমি ছিলাম না তা উল্লেখ করে আপনি প্রমাণ করতে চেয়েছেন যে আমি বিএনপি বিরোধী। বাবু দীপেন দেওয়ান যে দিন ফারুয়া লিফলেট বিতরণের তারিখ দিয়েছেন সেই দিনটি ছিল আমার জন্য খুব দুঃখের। যা প্রিয় নেতা বাবু দীপেন দেওয়ানকে অবহিত করেই সেই প্রোগ্রামে উপস্থিত হতে পারি নাই। এই বিষয়টি আপনাকে উল্লেখ করা কোন প্রয়োজন ছিলনা। আপনি অতি সত্য কথা উল্লেখ করছেন যে,মাননীয় রাষ্ট্রপতি প্রয়াত নেতা জিয়াউর রহমান পাংখোয়া সম্প্রদায়ের জন্য ১২০ নং(এ) তিনকুনিয়া মৌজা বরাদ্দ দেন এবংএই সুবাদে পাংখোয়া সম্প্রদায় বেঁচে থাকার জন্য বিরাট সুযোগ পেয়েছেন।এই অবদানের স্বীকৃতি স্বরুপ জিয়ার আদর্শ তথা বিএনপির আদর্শ লালন করা আপনাদের বিরাট দায়িত্ব ছিল। আপনি ২০১০ সালে উপজেলা সভাপতি প্রতিদ্বন্ধিতা করে পরাজিত হলে সেদিন থেকে আর বিএনপি আদর্শকে অসম্মান দেখিয়ে সন্ত্রাসী আওয়ামী লীগের একজন বড় নেতা সেজে অনেক ফায়দা লুটে নিয়ছিলেন।ফলশ্রুতিতে আপনার ভাতিজা রেমলিয়ানা পাংখোয়াকে জেলা পরিষদ সদস্য মনোনীত করে তার মাধ্যমে আপনার গোষ্ঠী ও আত্মীয়দের চাকরির ব্যবস্থা করেছেন। এছাড়াও আপনার এলাকায় শুধু বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ড করাতে সক্ষম হয়েছেন।
মনে রাখা উচিত যে, আপনি শুধু পাংখোয়া সম্প্রদায়ের একাংশের হেডম্যান নন।পাংখোয়া সম্প্রদায়ের একটি অংশকে ও আপনার মৌজার অন্যান্য সম্প্রদায়ের লোকদের কোন সুযোগ- সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থা করেন নাই।যা আপনার ভাতিজা রেমলিয়ানা পাংখোয়ার দ্বারা সম্ভব ছিল।যা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই। কেমনা ২০০৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাবু মনি স্বপন দেওয়ানের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে বাবু দীপংকর বাবুর পক্ষে নির্বাচন করেছেন। ইউপি নির্বাচনে বিলাইছড়ি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে বাবু নেইলাই পাংখোয়ার বিরুদ্ধে, আপনি অন্য প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচন করেছেন। এবং তাকে বিএনপির পক্ষে চেয়ারম্যান প্রার্থী না হওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে তাকে হেস্ত-,ন্যস্ত করেছিলেন। যা ঐ প্রার্থীও অন্য ভোটারাও অবহিত আছেন।এতে প্রমাণিত হয় যে,আওয়ামী আমলে বিএনপির বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে আওয়ামী লীগের জন্য দায়িত্ব পালন করেছেন তা আপনি অস্বীকার করতে পারবেন না।
২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকার পতনের পর আবার সুযোগ বুঝে পুনরায় বিএনপির লেবাস ধরে সুযোগ সন্ধানীর উদ্দেশ্যে রাঙ্গামাটি বিএনপির অফিসে গিয়ে পুমরায় বিএনপিতে যোগদান করলেও বিএনপির পক্ষে নেতা- কর্মী সাথে আপনার কোন সুযোগ নেই বা ছিলনা।এমনকি কোন দায়িত্ব পালন করেন না-ই। অথচ নিজেকে একজন শীর্ষ নেতা হিসেবে দানী করছেন। আপনার এই দাবী মোটেই সত্য নয়।আমাকে অযোগ্য বেলেছন কিন্তু আপনার জানা উচিত আমি বিগত ৫ বছর যাবৎ সাধারণ সম্পাদক ও ১০ বছর যাবৎ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সভাপতি হিসেবে সুস্থভাবে দায়িত্ব পালন করে দলকে মজবুত ও সুসংগঠিত করার কারণে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও ত্যাগের বিনিময়ে আশাতীত ফল হইলেও এই দূর্গম এলাকার যাতায়াতের অসুবিধার কারণে আশাতীত ফল লাভ করতে পারি নাই। যদি অযোগ্য বললেও আমার কোন দুঃখ নেই।
গণতান্ত্রিক ধারায় আমি যেমন আপনার বিরুদ্ধে বলেছি, আপনি ও আমার বিরুদ্ধে বলতে পারেন। সম্ভব হলে আগামী দলীয় নির্বাচনে আমার সাথে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্ধিতা করার আহ্বান জানাচ্ছি।
মোঃ আব্দুল সালাম ফকির
সভাপতি
উপজেলা বিএনপির
বিলাইছড়ি, রাঙ্গামাটি।
All rights reserved © 2020 paharechok.com||
এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি