সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা,
রাঙ্গামাটি জেলা প্রতিনিধিঃ বিলাইছড়িতে গোডাউন,ক্লোনি,হাসপাতাল এবং উপজেলা এলাকার শিমুল গাছগুলো সৌন্দর্য ছড়াচ্ছে। এক একটি গাছ প্রায় ১২ থেকে ১৮ ফুটের উপড়ে । বিশালকায় এই গাছগুলো যেন পাখিদের আবাসস্থল হয়েছে। প্রতিদিন শালিক, ফিঙে, ঘুঘু,কাক,চড়ুই পাখি ও অন্যান্য পাখির কলকাকলিতে মুখর। ভোরে ঘুম থেকে জেগে তুলে এবং সন্ধ্যায় ঘুমিয়ে দেয়। সেদিকে আসা পথিকরা মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকেন। বসন্ত কালে ফোটে। এইসময় গাছে গাছে জেগে উঠেছে সবুজ পাতা আর আমের মুকুল দেখে বোঝা যায় শীত বিদায় নিয়ে আবার এসেছে ফাগুন, ফিরেছে বসন্ত কাল। ঋতুরাজ বসন্তের আগমনে আবহমান গ্রাম বাংলার প্রকৃতিকে রাঙিয়ে তুলেছে নয়নাভিরাম শিমুল ফুলের মেলা। কিন্তু কালের বিবর্তনে অগ্নি ঝরা ফাগুনে চোখ ধাঁধানো গাঢ় লাল রঙের অপরূপ সাজে সজ্জিত শিমুল গাছ বিলাইছড়িতে তেমন আর দেখা যায় না। স্থানীয় ভাষায় তুলা গাছ নামে চিনে।অসাধু ব্যবসায়ীরা কেটে শেষ করে ফেলেছে। উপজেলা ও বাজার এলাকায় ৫ -৭ টি বড় বড় শিমুল গাছ দেখা গেলেও গ্রামাঞ্চলে তেমন আর দেখা যায় না।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে বয়স্ক মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে,আগে গ্রামের অধিকাংশ বাড়ির আনাচে-কানাচে, সরকারি রাস্তায়, পতিত ভিটায় প্রচুর শিমুল গাছ দেখা যেত। গাছে গাছে ফোটা শিমুল ফুলই মনে করিয়ে দিত বসন্তের আগমনী বার্তা। কৃষিতে আধুনিকতার ছোঁয়ায় অনেক ফুলের দেখা মিললেও চোখে পড়েনা সেই চোখ ধাঁধানো গাঢ় লাল রঙ্গের শিমুল ফুল। শিমুল গাছ ধ্বংস করায় পরিবেশে পড়েছে নেতিবাচক প্রভাব। বসন্তের বার্তাবাহক গাছ বিলুপ্তির জন্য কৃষি বিভাগের উদাসিনতাকে দায়ী করছেন অনেকে।
শিমুল গাছ বসন্তের শুরুতেই ফুল ফোটে। চৈত্র মাসের শেষের দিকে ফল পুষ্ট হয়। বৈশাখ মাসের দিকে ফলগুলো পেকে শুকিয়ে গিয়ে বাতাসে আপনা- আপনিই ফল ফেটে প্রাকৃতিকভাবে তুলার সঙ্গে উড়ে উড়ে দূর-দূরান্তে ছড়িয়ে পড়া বীজ থেকেই এর জন্ম হয়। প্রাকৃতিকভাবেই শিমুল গাছ বেড়ে উঠে। বিলাইছড়ি উপজেলা, গোডাউন,হাসপাতাল, ক্লোনি এলাকা শিমুল গাছগুলো কাটা হয় না বলে সবার মন কেড়ে নিচ্ছে। ছোটবেলায় দেখেছি বাড়ির লেপ, তোষক, বালিশ তৈরী করা হতো শিমুল তুলা দিয়ে। প্রাকৃতিকভাবে তুলা আহরণের অন্যতম অবলম্বন শিমুল গাছ। এ গাছে বিভিন্ন ধরনের পাখি বাসা বেঁধে বসবাস করতো। শিমুল ফুলগুলো অনেকে মাছ,ইছা সাথে তরকারি হিসেবে খেয়ে থাকে।পাহাড়িরা সিদ্ধ করে শুটকির সঙ্গে মরিচ মিশিয়েও খেয়ে থাকে।
গাছ উজাড় হওয়ায় পাখিরা আবাসস্থল হারিয়ে অস্তিত্ব সংকটে এবং ধিরে ধিরে এসব পাখিরাও হারিয়ে যাচ্ছে। সরকারী ভাবে উদ্যোগ গ্রহন করলে একটি বড় ধরনের শিমুল গাছ থেকে তুলা বিক্রি করে কয়েক হাজার টাকা আয় করা সম্ভব। শিমুল ঔষধি গাছ হিসাবে সুপরিচিত। উপকারী গাছটি বিলুপ্তির পথে। শিমুল গাছের চারা রোপণে কৃষকের উদাসীনতার পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি কোনো উদ্যোগ না থাকাকে বিলুপ্তির কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। সরকারী খাস জমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বড়বড় রাস্তার ধারে কৃষি বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগ শিমুল গাছ রোপনের কর্মসূচি গ্রহনের দাবী এলাকাবাসীর।
All rights reserved © 2020 paharechok.com||
এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি