মোঃ ইসহাক, ঈশ্বরগঞ্জ(ময়মনসিংহ)প্রতিনিধিঃস্টেশন মাষ্টার ও ট্রেন সংকটে মাস খানেক ধরে তালা ঝুলছে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ পৌর এলাকা ও সোহাগী ইউনিয়নে অবস্থিত দু’টি রেলওয়ে স্টেশনে। ফলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্টেশনে আগত যাত্রীদের। ট্রেন কখন আসবে, কোথায় আছে, কোনো সমস্যায় ট্রেন আসবে কি আসবেনা তা এ স্টেশনের যাত্রীরা জানতে পারেনা। স্টেশন মাস্টার না থাকায় বিক্রি হয়না টিকেট, যাত্রী ওয়েটিং রুম ও পাবলিক টয়লেট থাকে তালাবদ্ধ।
সরেজমিনে জানা গেছে, ময়মনসিংহ-গৌরিপুর-ভৈরব রেলপথটি এ উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে গেছে। ১১ ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার এ উপজেলার মধ্যে মোট ৩টি রেলওয়ে স্টেশন রয়েছে। স্টেশনগুলো হলো-ঈশ্বরগঞ্জ, সোহাগী, আঠারোবাড়ি।
কিন্তু ঈশ্বরগঞ্জ স্টেশনে যাত্রা বিরতি করতো লোকাল, ময়মনসিংহ এক্সপ্রেস, ঈশা খাঁ এক্সপ্রেস ও মেইল ট্রেন। গত দেড় মাস যাবত ঈশ্বরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে কোন ট্রেনের স্টপেজ না থাকায় বন্ধ রয়েছে স্টেশনটি, কন্ট্রোল ওয়াডারে স্টেশন মাস্টার কে নিয়ে যাওয়া হয়েছে কিশোরগঞ্জ। এ অঞ্চলের প্রধানতম যানবাহন ট্রেন হওয়ায় বিঘ্নিত হচ্ছে যাত্রীসেবা ও বিরুপ প্রভাব পড়েছে স্থানীয় ব্যবসা বাণিজ্যে।
সম্প্রতি দেখা গেছে, স্টেশনে লোকাল ট্রেনের অপেক্ষায় প্রতিদিন নানান দুর্ভোগের শিকার হতে হয় যাত্রী সাধারনকে। ট্রেনের অপেক্ষায় থাকা যাত্রীরা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে অবশেষে বাড়ি ফিরে যেতে হচ্ছে। মানুষের জীবনের মূল্যবান সময় এ স্টেশনে অপেক্ষার মাধ্যমে শেষ হয়। এ পরিস্থিতিতে যাত্রীরা বিকল্প রাস্তায় দেশের বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াত করে। ট্রেনের অপেক্ষায় বিরক্ত হয়ে অনেক যাত্রীকে স্টেশন ত্যাগ করতে দেখা যায়। অপরদিকে পরিচর্যার অভাবে নষ্ট হচ্ছে স্টেশনের অবকাঠামো।
এ ব্যাপারে ঈশ্বরগঞ্জ চরনিখলা এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে সীমাহীন অসুবিধায় আছি। সকালে একটি ট্রেন দুই মিনিটের জন্য এসে দাঁড়ায়। অনেকে না জেনে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকেন। আগে প্রতিদিন বহু যাত্রী ঈশ্বরগঞ্জ স্টেশন থেকে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতেন।
তিনি আরো বলেন, স্টেশনের টয়লেট তালাবদ্ধ থাকে। বৃদ্ধ ও নারী যাত্রীদের বিশ্রাম এবং পয়ঃপ্রণালির অবস্থা বেহাল।
স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী শাবিকুল মিয়া বলে জানা যায়, এ এলাকার ডিম, কাঁচামালসহসহ বিভিন্নন পণ্য সামগ্রী দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়ে বিক্রি করা হয়। ট্রেনের মাধ্যমে এ পণ্য গুলো ঢাকায় পৌঁছানো হতো। এখন ট্রেন সার্ভিস না থাকায় বিপাকে পরেছেন উপজেলার কৃষকসহ সকল ব্যবসায়ী।
এ এলাকার যাত্রী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগ লাঘবের জন্য বন্ধ থাকা ঈশ্বরগঞ্জ স্টেশনে মাস্টার ও অন্যান্য কর্মচারি নিয়োগ দেওয়া সহ আন্তঃনগরসহ সকল ট্রেন সার্ভিস চালু করার মাধ্যমে পুনঃরায় স্টেশনটি সচল করার জন্য রেল কর্তৃপক্ষের কাছে এলাকাবাসীর দাবী। এ উপজেলার চাকুরীজীবী, শিক্ষার্থী সহ বিভিন্ন পেশার মানুষ প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াত করে নিয়মিত।
ঈশ্বরগঞ্জ রেল স্টেশনের প্রিমেন্ট সুমন রেলওয়ে স্টেশন বলেন, নতুন করে মাস্টার নিয়োগ না দেয়া পর্যন্ত এ দুর্ভোগ থেকে উত্তরণের কোন সম্ভাবনা নেই।
পূর্বের স্টেশন মাস্টার মিজানুর রহমান এর সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, লোকবল সংকটে আপাতত বন্ধ আছে ঈশ্বরগঞ্জ স্টেশন। আমাকে ঈশ্বরগঞ্জ থেকে কন্ট্রোল ওয়াডারের মাধ্যমে কিশোরগঞ্জ নিয়ে আসায় এখন কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে দায়িত্ব পালন করছি।
এ ব্যাপারে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজা জেসমিন বলেন, ট্রেন নির্ভর ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মানুষ। তাই প্রতিটি স্টেশনে লোকাল ট্রেন এর পাশাপাশি আন্তঃনগর বিভিন্ন ট্রেন স্টাপিজ দেয়া হলে এ উপজেলার মানুষ উন্নত সেবা পাবে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ যেন দ্রুত সময়ের মধ্যে স্টেশনে মাস্টার নিয়োগ প্রদান করে স্টেশনটি সচল করার আবেদন করি।
এবিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসা. হাফিজা জেসমিন জানান, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
All rights reserved © 2020 paharechok.com||
এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি