রনজিত কুমার পাল (বাবু)ঢাকা জেলা প্রতিনিধি -পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন ধামরাই উপজেলার কামার শিল্পীরা।
দম ফেলারও যেন সময় তারা পাচ্ছেন না।টুং-টাং শব্দে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। দা-ছুরি-বটি বানাতে দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছে কয়েকশ কামার।
বুধবার (৬ জুলাই) সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, ধামরাই পৌর এলাকার ইসলামপুর, বড় বাজার, কায়েতপাড়া সহ ধামরাই উপজেলার অন্যান্য এলাকায় জমে উঠেছে প্রতিটি কামারশালা। লোহা পুড়িয়ে ধারালো অস্ত্র তৈরির কাজ চলছে বিরতিহীন।
জানা গেছে, মানভেদে স্প্রিং লোহা
৩০০-৫০০ টাকা, পশুর চামড়া ছাড়ানো ছুরি ১৫০-২০০ টাকা, দা ৩০০-৫০০ টাকা, বটি ২০০- ৫০০ টাকা টাকা, পশু জবাইয়ের ছুরি ১৩০০-১৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
পৌর এলাকার ইসলামপুর ঢাকা- আরিচা মহাসড়ক সংলগ্ন কামারশালার মালিক জানান,চাপ বেশি থাকায় রাতদিন কাজ করতে হচ্ছে তাদের। নতুন সরঞ্জামের চাহিদার পাশাপাশি পুরাতনগুলোতে শান দেওয়া হচ্ছে। তবে এ বছর বেশিরভাগ ক্রেতা পুরাতন সরঞ্জাম মেরামত করতে নিয়ে আসছেন। বিক্রি একটু কম হচ্ছে।
২০ বছর ধরে এই পেশায় যুক্ত আছি। আমার পূর্বপুরুষরাও এই কাজ করতেন। এখন সারা বছর তেমন কোনো কাজ থাকে না। তবে কোরবানির ঈদের আগে কাজের চাপ থাকে। খুব বেশি বিক্রি হচ্ছে না, ঈদের এক-দুই দিন আগে বিক্রি বাড়বে।’
তিনি আরো জানান,আগে কমমূল্যে কাঠকয়লা পাওয়া যেত, এখন বাড়তি দামেও পর্যাপ্ত কয়লা মিলছে না। আগে কাঠকয়লা প্রতি টিন ৫০ টাকায় কিনতাম । বর্তমানে প্রতি টিন ৭০ থেকে ৮ ০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। এ কারণে দা-ছুরি-বটির দাম তুলনামূলক বেশি।
ধামরাই পৌরসভার হুজুরীটোলা নিবাসী মাসুদ রানা নামে এক ক্রেতা বলেন, ‘ঈদের আর কয়েকদিন বাকি। ‘পশু জবাইয়ের সরঞ্জাম কেনার পাশাপাশি পুরাতনগুলোতে শান দিতে নিয়ে এসেছি। ২ শত টাকা দিয়ে চাকু শান দিচ্ছি । অন্য জায়গার চেয়ে এখানে মজুরি অনেক কম।
আমিনুল ইসলাম জানান, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে আমি একটা নতুন কাটারী বানাতে দিয়েছি। সেটার মজুরি নেবে ১০০০ টাকা।সবচেয়ে ভালো তৈরি করে বলে এখানে দিয়েছি। এবং তার ভাই শহরে মধ্যে ভালো কাজ করে।
ঢাকার ধামরাইয়ে টুং টাং শব্দেই যেন জানান দিচ্ছে আর কয়েক দিন পরেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আযহা।
ধামরাই উপজেলার বিভিন্ন বাজারে লোহার সরঞ্জাম তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন স্থানীয় কামাররা। প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাব, আর্থিক সংকটসহ নানা কারণে হারিয়ে যেতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী এই শিল্প। পাশাপাশি কয়লা আর কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় লাভের পরিমাণ কমেছে বলেও জানায় কার্মকাররা। বর্তমান আধুনিক যন্ত্রাংশের প্রভাবে কামার শিল্পের দুর্দিন চললেও পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে জমে উঠেছে এ শিল্প। শান দেয়া নতুন দা, বঁটি, ছুরি ও চাকু সাজিয়ে রাখা হয়েছে দোকানের সামনে। ভিতরে চলছে কাজ। দোকানের জ্বলন্ত আগুনের তাপে শরীর থেকে ঝরছে অবিরাম ঘাম। চোখে মুখে প্রচন্ড ক্লান্তির ছাপ। তবু থেমে নেই তারা। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে কাজের ব্যস্ততা।.
ধামরাইয়ের শংকর কামার শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিক শিক্ষক দয়াল সরকার বলেন প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাব, আর্থিক সংকটসহ নানা কারণে হারিয়ে যেতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী এই শিল্প। পাশাপাশি কয়লা আর কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় লাভের পরিমাণ কমেছে বলেও জানায় বর্তমান আধুনিক যন্ত্রাংশের প্রভাবে কামার শিল্পের দুর্দিন চলছে।
কামার শিল্পী ভোলানাথ সরকার বলেন
আসন্ন১০ জুলাই – ২০২২ রোজ রবিবার পবিত্র ঈদুল আজহার কারণে আমরা আশায় আছি এসময় কিছু বড় ধরনের কাজ পাব।
কামার শিল্পী নয়ন বলেন মহামারী করোনার কারণে আমাদের কামার শিল্পীদের খুবই খারাপ সময় পার করতে হয়েছে আমরা আশাবাদী এবার ঈদুল আজহা আমাদের সকল সংকট সমাধানে অনেক কাজ আসবে তাতে আমাদের কাজের সংকট কেটে যাবে।
কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলার স্থানীয় কামার শিল্পীরা। কোরবানির পশু জবাই ও মাংস কাটার জন্য তৈরি করা হচ্ছে ছুরি, চাপাতি, দা, বঁটিসহ নানাবিধ সরঞ্জাম। কামারের দোকানে গেলেই শোনা যায় হাতুড়ি পেটানোর শব্দ। কেউ ভারি হাতুড়ি দিয়ে পেটাচ্ছেন আগুনরঙা লোহার খণ্ড। কেউ পুরনো দা-ছুরিতে শাণ দিচ্ছেন। কেউবা হাপর টানছেন। কেউ আবার কয়লার আগুনে বাতাস দিচ্ছেন।
কামার শিল্পী হরিপদ জানান আমরা দুটি ঈদকে উপলক্ষে করে আশায় থাকি অনেক অর্ডার পাব।এবার এখন পর্যন্ত বড় কোন কাজের অর্ডার পাইনি আশা করছি দু’ একদিনের ভিতর প্রচুর কাজের অর্ডার পাব ।
All rights reserved © 2020 paharechok.com||
এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি