Logo
শিরোনাম
‎‎পাহাড়ী জনপদ ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কে ইউপি সদস্য রুস্তম আলীকে অপহরন পটিয়ার  নাইখাইনে গরু চুরি হওয়া  থানায় অভিযোগ: উল্টো  ভুক্তভোগী কৃষকের বড় ভাইকে  হয়রানি শিকার। ফুটবল ও ক্রিকেটে খেলোয়াড় বাছাই….. ঈদগাঁওতে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস্ কর্মসূচির বাছাই কার্যক্রম সম্পন্ন হারবাংয়ে ৩০শতক বনভূমি দখলমুক্ত, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ বিলাইছড়িতে এসএসসি পরীক্ষায় ৩০৮ পরীক্ষার্থীর মধ্যে  অনুপস্থিত  ৬ ঈদগাঁওতে ৩ কেন্দ্রে এসএসসিও দাখিল পরীক্ষা শুরু বিএনপির সভাপতি এমএ সালাম ফকিরকে দেখতে হাসপাতালে VL পাংখোয়া গ্যাসের দাম বৃদ্ধিতে ঈদগাঁও-ঈদগড়-বাইশারী সড়কে সিএনজি ভাড়া বৃদ্ধি পোকখালী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে জেন্ডার ও সুশাসন বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে আলোচনা ঈদগাঁওর কালিরছড়া খালে পড়ে যুবকের মৃত্যু 

ভারতের ত্রিপুরায় ঈদের সময়ে ‘বেআইনি’ কোরবানি বন্ধ করতে প্রশাসনকে নির্দেশ সরকারের

কোরবানির সময়ে ত্রিপুরার কোথাও যাতে ‘বেআইনিভাবে’ গরু, বাছুর, উট বা অন্য কোনও প্রাণী হত্যা না করা হয়, তার জন্য জেলা প্রশাসন ও পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার।

ত্রিপুরার প্রাণী সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী ভগবান দাস বিবিসিকে জানিয়েছেন তারা কোরবানি বন্ধ করার কোনও নির্দেশ দেননি, তবে নিয়ম মেনেই পশু জবাই করতে হবে। এছাড়াও, তিনি বলেন, “অন্যান্য ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষের ভাবাবেগে আঘাত” যাতে না লাগে, সেটাও নিশ্চিত করতে হবে।

কোরবানি কীভাবে দেওয়া হবে: চিন্তায় মুসলিম পরিবারগুলো

যেমন, উত্তর ত্রিপুরার বাসিন্দা তানিয়া খাতুনের পরিবারও চিন্তায় পড়েছে যে এবার তারা কোরবানি কীভাবে দেবে।

“ওই নোটিসে পশু পরিবহনের ব্যাপারে বলা হয়েছে। কোরবানির জন্য পশু তো হাট থেকেই কিনতে হবে। তা নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে যদি প্রশাসন আটকে দেয়?” প্রশ্ন মিস খাতুনের।

মূল নির্দেশিকার পরে বাংলায় একটি ‘কী করা যাবে, কী করা যাবে না’ ধরণের তালিকা রাজ্য সরকার দিয়েছে, যেখানে ভেড়া, ছাগল, শুকর, গৃহপালিত পশু, মুরগি আর মাছের কথা লেখা আছে।

নির্দেশিকায় এটাও বলা হয়েছে যে ভারতের পশু কল্যাণ পর্ষদের নির্দেশিকা অনুযায়ীই এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ত্রিপুরার প্রাণী সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী ভগবান দাস অবশ্য বলছেন এই নির্দেশের সঙ্গে ঈদের কোনও সম্পর্ক নেই।

“এটা আমার দপ্তর থেকে গত মাসের ১৮ তারিখ দেওয়া হয়েছে। ভারতের প্রাণীসম্পদ পর্ষদ প্রত্যেক রাজ্যের কাছে যে নির্দেশনা পাঠিয়েছিল, সেটাই জেলা প্রশাসনগুলোকে আমরা পাঠিয়ে দিয়েছি। এর দুটো উদ্দেশ্য। প্রথমত যেভাবে গরু বা পশুগুলিকে পরিবহন করে নিয়ে আসা হয়, সেটা একটা নিষ্ঠুরতা। এটা বন্ধ হওয়া দরকার,” বলছিলেন মি. দাস।

ত্রিপুরাতেও গরু জবাইতে নিয়ন্ত্রণ আসছে?ত্রিপুরায় শাসনক্ষমতায় রয়েছে বিজেপি। দেশের প্রায় সব বিজেপি শাসিত রাজ্যেই গরু জবাই করার ওপরে হয় নিষেধাজ্ঞা অথবা কড়া নিয়ন্ত্রণ আছে।

ত্রিপুরায় সেই নিয়ন্ত্রণ এতদিন ছিল না।

ত্রিপুরা রাজ্য ইমাম অর্গানাইজেশনের সাধারণ সম্পাদক সিরাজউদ্দিন আহমেদ বলছেন, “এই নির্দেশিকা এটাই ইঙ্গিত করছে যে উত্তরপ্রদেশ সহ নানা রাজ্যে যে ধরণের নিষেধাজ্ঞা আছে, বা পার্শ্ববর্তী আসামেও যেরকম কড়া নিয়ন্ত্রণ রয়েছে গরু জবাইয়ের ওপর এখানেও হয়তো নিষেধাজ্ঞা বা নিয়ন্ত্রণ চালু করা হবে।”

আবার রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ও সিপিআইএম নেতা শাহিদ চৌধুরী প্রশ্ন তুলছেন, “কোরবানির কারণে এতবছর তো কারো ভাবাবেগে আঘাত লাগেনি, এখন এই কথা সরকার কেন তুলছে?”

সরকারি নির্দেশিকার পরে রাজ্যের মুসলমানদের মধ্যে যেমন তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি, তেমনই ভয়।

তানিয়া খাতুনের কথায়, “রাস্তাঘাটে সবাই এটা নিয়েই আলোচনা করছে। সবার মনেই একটা ভয় তৈরি হয়েছে যে কীভাবে ঈদ সেলিব্রেট করব আমরা। আর তো মাত্র দু একদিন বাকি, এর মধ্যেই এরকম নোটিস এল!”

ত্রিপুরায় ৩৮ লক্ষ মানুষের মধ্যে নয় শতাংশ মুসলমান। ত্রিপুরায় আগে কখনই সাম্প্রদায়িক অশান্তি লক্ষ্য করা যায় নি।

কিন্তু গত কয়েক বছরে কখনও মুসলমানদের বাড়ি-দোকান ভাঙচুর, মসজিদ ভাঙচুর বা অতি সম্প্রতি কবরস্থান দখল করে গেরুয়া পতাকা টাঙ্গিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে

বিজেপি সরাসরি এধরণের ঘটনা থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে রাখলেও হিন্দুত্ববাদী কিছু সংগঠনের নাম উঠে আসছে এইসব ধর্মীয় অশান্তির পেছনে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


error: Content is protected !!