ইসমাইলুল করিম : লামা প্রতিনিধি:কৃষক বাঁচাও, বাঁচাও দেশ’ স্লোগান সামনে রেখে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন কৃষক লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী (১৯ এপ্রিল) বুধবার। দেশের কৃষি এবং কৃষকদের স্বার্থ রক্ষার জন্য ১৯৭১ সালের ১৯ এপ্রিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষক লীগ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ৫১ বছর পূর্তি উপলক্ষে সংগঠনটির পক্ষে সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি পালন করা হবে। তবে সংগঠনটিকে কৃষকের দাবি আদায়ে তেমন সক্রিয় অবস্থানে দেখা যায়নি নিকট অতীতে। যদিও কৃষক লীগের নেতাদের দাবি, অতীতে কৃষি উপকরণের দাবি আদায়ে পুলিশের গুলিতে কৃষকের প্রাণ হারাতে হয়েছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার ভর্তুকি মূল্যে কৃষি উপকরণ কৃষকের হাতে পৌঁছে দিচ্ছে। এ কারণে উপকরণগুলো যাতে যথাযথভাবে কৃষকের হাতে পৌঁছায় সেই কাজ করছে কৃষক লীগ।
সেই উপলক্ষে লামা উপজেলা ও পৌর কৃষক লীগের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠাতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন আজ সকালবেলা। লামা উপজেলা কৃষক লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি মো. ইউছুপ মজুমদার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক,পৌর মেয়র মো. জহিরুল ইসলাম, আওয়ামীলীগ সাংগঠনিক সম্পাদক প্রদীপ কান্তি দাশ, বান্দরবান জেলা কৃষকলীগ সহ সভাপতি এম, কামরুল হাসান টিপু,লামা পৌর আওয়ামীলীগ সভাপতি ৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. রফিক, উপজেলা কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম কাউসার, উপজেলা সহ সভাপতি আবদুল্লাহ আল মামুন, জুয়েল সরকার, সাবেক সহ সভাপতি মো. শাহজাহান, উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জাকির কাজী, পৌর কৃষক লীগ সভাপতি মো. মনজুর আলম, পৌর কৃষক লীগ সাধারণ সম্পাদক মো.শফিক সহ উপজেলা ও পৌর কৃষক লীগ নেতৃবৃন্দ সহ প্রমূখ।
পৌর আওয়ামীলীগ সভাপতি কাউন্সিলর মো. রফিক বলেন, শুরুতে গভীর শ্রদ্ধার সহিত স্মরণ করেন কৃষক লীগের প্রতিষ্ঠাতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে এবং তার সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। তিনি কৃষক লীগের সকল স্তরের নেতৃবৃন্দকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে লাল গোলাপের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। তিনি আসন্ন বোরো মৌসুমে জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে কৃষক লীগ নেতৃবৃন্দকে সারা বাংলাদেশের কৃষকের পাশে থেকে ধান কেটে দেয়ার নির্দেশনা প্রদান করেন।
বান্দরবান জেলা কৃষকলীগ সহ সভাপতি এম, কামরুল হাসান টিপু বলেন, আগে কৃষক ফসলের ন্যায্য দাম পেতেন না, এখন তারা ন্যায্য মূল্য পান। তাতে কৃষক খুশি। কৃষককে সারের জন্য গুলি খেয়ে মারা যেতে হয় না। বীজের জন্য লাইন দিতে হয় না। কৃষকের জন্য আমরা দাবি করার আগেই শেখ হাসিনা উদ্যোগ গ্রহণ করেন। সেগুলো বাস্তবায়নে সরকারের পাশে থেকে যদি কোনো ব্যত্যয় ঘটে সেখানে কৃষকলীগ অবশ্যই কৃষকের পাশে থাকে।
আওয়ামীলীগ সাংগঠনিক সম্পাদক প্রদীপ কান্তি দাশ বলেন, কৃষক ও কৃষিজীবীদের জন্য বাংলাদেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। খাদ্যের জন্য আমাদের বিশ্বের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয় না। সার, বীজ, বিদ্যুতের জন্য বিএনপি-জামায়াত জোটের বিরুদ্ধে কৃষকদের সাথে নিয়ে কৃষক লীগের আন্দোলন লড়াই সংগ্রামে শহীদ নেতৃবৃন্দের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। তিনি বিএনপি-জামায়াত জোটের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করেন কারণ তারা বিদেশী বন্ধুদের কাছে নালিশ এবং বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্র বানানোর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। কৃষক লীগের গৌরব সমুন্নত রাখতে কৃষক লীগের সমস্ত নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে পরামর্শ প্রদান করেন। আগামী দ্বাদশ সংসদীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে জয়যুক্ত করে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে চতুর্থবারের মত প্রধানমন্ত্রী ওপার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি’কে নির্বাচিত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক ও মেয়র মো. জহিরুল ইসলাম বক্তব্য বলেন,পৃথিবীর সব দেশে শ্রমিকদের বেশি গুরুত্ব দেয়া হয় কিন্তু বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশে কৃষকদের বেশি গুরুত্ব দিয়ে কৃষক, শ্রমিক ও জনতা নিয়ে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠার প্রয়াস করেছিলেন। বাংলাদেশ কৃষক লীগের সমস্ত নেতাকর্মীদের তাদের গুরুত্ব অনুধাবনের আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা’র নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে তা আজ আরও বলিয়ান এবং দৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দানের জন্য কৃষক লীগ নেতৃবৃন্দকে নিরলস কাজ করে যাওয়ার নির্দেশনা প্রদান করেন।
উপজেলা কৃষক লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি মো. ইউছুপ মজুমদার কৃষকলীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে কৃষক লীগের সকল স্তরের নেতৃবৃন্দকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। দেশের কৃষির উন্নয়ন এবং কৃষকের স্বার্থ রক্ষার জন্য জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ১৯ এপ্রিল বাংলাদেশ কৃষক লীগ প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকে কৃষকলীগ কৃষকদের সংগঠিত করা, তাদের দাবি আদায় এবং দেশের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা পালন করে আসছে। কৃষক লীগের নেতা-কর্মীরা কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নের পাশাপাশি পার্বত্য বান্দরবান লামাসহ দেশের সাধারণ মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে বেশি বেশি কাজ করতে ও জাতির পিতার ক্ষুধা, দারিদ্র্য এবং নিরক্ষরতামুক্ত স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে একযোগে কাজ করার আহবান জানান তারা।
তিনি আরও বলেন, এছাড়াও আগামী জাতীয় নির্বাচনে কৃষকলীগের নেতাকর্মীরা শেখ হাসিনা এবং মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি ও ভ্যানগার্ড হিসেবে মাঠে থাকার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে। সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে আগামী দিনগুলোতেও কৃষকদের পাশে থাকার এবং তাদের অধিকারের প্রতি সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।
All rights reserved © 2020 paharechok.com||
এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি