আমিনুল ইসলাম
নাইক্ষ্যংছড়ি (বান্দরবান) প্রতিনিধিঃ
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে পার্বত্য অঞ্চলের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী সাংগ্রাই উৎসব–২০২৬। সোমবার (২০ এপ্রিল) উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের লামার পাড়া বৌদ্ধ বিহারে দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এবং পালস বাংলাদেশ সোসাইটি ও স্থানীয় সাংগ্রাই উৎসব কমিটির সহযোগিতায়, ইউনেস্কোর আর্থিক সহায়তায় এ উৎসব আয়োজন করা হয়।
সকাল ১০টায় ত্রিপিটক পাঠ, শুভেচ্ছা বিনিময় ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে দিনের কার্যক্রম শুরু হয়। পরে মারমা ও ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণে পরিবেশিত হয় বর্ণিল ঐতিহ্যবাহী নৃত্য। রঙিন পোশাকে সজ্জিত পাহাড়ি তরুণ-তরুণীদের প্রাণবন্ত পরিবেশনা দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে।
উৎসব ঘিরে গিলা খেলা, বাঁশে ওঠা, দড়ি টানাটানিসহ বিভিন্ন গ্রামীণ ক্রীড়া আয়োজন দর্শকদের বাড়তি আকর্ষণ ছিল। পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হয় ঐতিহ্যবাহী পানি উৎসব বা জলকেলি, যা উৎসবের অন্যতম প্রধান আকর্ষণে পরিণত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের পরিচালক আসমা ফেরদৌসি বলেন, সাংগ্রাই উৎসব পার্বত্য অঞ্চলের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাদুঘরের সচিব সাদেকুর রহমান, পালস বাংলাদেশ সোসাইটির উপদেষ্টা আলী রেজা মানিক, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ, পালস বাংলাদেশের কলিম উল্লাহ ও জসিম উদ্দিন প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাংগ্রাই উৎসব আয়োজক কমিটির সভাপতি ময়ে মার্মা এবং সঞ্চালনা করেন উকে মং মার্মা।
আয়োজকরা জানান, সকল সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণে এ ধরনের আয়োজন পার্বত্য অঞ্চলের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে।
অনুষ্ঠান শেষে বিকেলে সোনাইছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমে সাংগ্রাই উৎসব নিয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
All rights reserved © 2020 paharechok.com||
এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি