এম আবু হেনা সাগর, ঈদগাঁও
বয়োবৃদ্ধ জাফর আলম। বয়স তার ৬৫। এমন বয়সেও ফুলের প্রতি যে অকৃত্রিম ভালবাসা দেখিয়েছেন। তা সত্যিই অসাধারণ। সৌন্দর্যের প্রতীক ফুল। বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ করে ভাগ্য ফিরলো সেই জাফর আলমের। ঈদগাঁও দরগাহ সড়কের প্রবেশ পথে ধানী জমিতে গোলাপ ফুল চাষ করে সফলতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেন তিনি। পূর্বের বাড়ী চকরিয়া হলেও বতমানে দীর্ঘবছর ধরে ঈদগাঁও ভাদীতলা এলাকায় তার বসবাস।
ধানের চেয়ে ফুল লাভজনক ব্যবসা। বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে আশি কড়া জমিতে গড়ে তোলেন গোলাপের বাগান। বর্তমানে তিনি দৈনিক ফুল বিক্রি করে বহু টাকা আয় করে যাচ্ছেন। গোলাপ চাষাবাদে তার চমৎকার সাফল্য দেখে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বাগান দেখতে আসা নারী-পুরুষরা।
সোমবার পড়ন্ত বিকেলে বাগান পরিদর্শনে গেলে স্থানীয় পর্যটকদের পদচারনার দৃশ্য চোখে পড়ে। পুরো জমি জুড়ে গোলাপে ভরে গেছে। নান্দনিক সৌন্দর্য সত্যিই মন কেড়ে নেয়। চারেদিকে সুগন্ধি ছড়িয়ে পড়েছে। অসাধারণ এক পরিবেশ।
বাগান মালিক জাফর আলমের সাথে আলাপচারিতায় জানা যায়, তার পৈত্রিক বাড়ী চকরিয়ায় আত্বীয় স্বজনরা ফুল ব্যবসার সাথে দীর্ঘসময় ধরে জড়িত থাকলেও ঈদগাঁওতে দু-বছর যাবত ধরে এ ফুল ব্যবসা শুরু করেন তিনি। শুরুতেই যেন সফল। বাগানের চাষকৃত গোলাপ ফুল ঈদগাঁও বাজারের ফুল ব্যবসায়ীদের চাহিদা মেটাতে সক্ষম। এছাড়া স্থানীয়সহ দূরদূরান্তের ক্রেতারা বাগানে এসে ভীড় করে। পরিশ্রম ছাড়া সৌভাগ্য আসেনা। স্বপ্নের এ বাগানের পেছনে বহু মেহনত আর কষ্টের বিনিময়ে গড়া আজকের এ ফুলের উৎসব। তিনি কোরবানির ঈদের দিনসহ কয়েকদিনে প্রায় ২০ হাজার টাকাও বেশি ফুল বিক্রি করার কথা জানান। বাগান দেখতে আসা ভ্রমণ পিপাসু নর-নারীরাও ফুল কিনছেন প্রায়শ
স্থানীয়রা জানান, বয়োবৃদ্ধ জাফর চকরিয়া থেকে চারা সংগ্রহ করে গড়ে তোলেন গোলাপের বাগান। জীবনের শেষ মুহুর্তে এসে ফুলের প্রতি যে তার অকৃত্রিম ভালবাসা, সেটি প্রমান করল। তার কাছে টাকা মূখ্য নয়। ফুলের নান্দনিক সৌন্দর্য ও যত্নই প্রিয়। প্রায়শ বিকেলে নারী পুরুষের উপস্থিতি থাকে পোলাপ বাগানটিতে। কেউ কেউ ফুলের সাথে নিজেকে সেলফি বন্ধি করে রাখেন, আবার কেউ কেউ বন্ধু-বান্ধবদের সাথে নিয়ে ঘুরতে আসেন বাগানে।
বাগান দেখতে আসা সুবাহসহ কজন জানান, বাগান মালিক একজন রুচিশীল মানুষ। চাইলে সে গোলাপ চাষ না করে অন্যন্য চাষাবাদ করতে পারতেন। ফুল চাষের মাধ্যমে জানান দিয়েছেন তার রুচির আসল পরিচয়। মুরব্বিকে সাধুবাদ।