নিজস্ব প্রতিনিধি,ঈদগাঁও
অভিবাসী কর্মীদের জন্য কমিউনিটি-ভিত্তিক অভিযোগ ব্যবস্থাপনা কাঠামোকে আরো কার্যকর ও টেকসই করতে কক্সবাজারে সিমস্ প্রকল্পের উদ্যোগে জিএমসি কেস্ ম্যানেজমেন্ট বিষয়ক বার্ষিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
৯ জুন (মঙ্গলবার) ঈদগাঁও জাহানারা ইসলাম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে উপজেলা পরিষদের কার্যালয়ের অস্থায়ী সম্মেলন কক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়।
সুইজারল্যান্ড সরকারের অর্থায়নে, হেলভেটাস বাংলাদেশ এর কারিগারি সহযোগিতা ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা”প্রত্যাশী”র আয়োজনে এ সভার আয়োজন করা হয়।
অভিবাসী কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের অভিবাসন-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিরোধ ও অভিযোগ দ্রুত, সহজলভ্য ও গ্রহণযোগ্য সমাধান প্রদানে কাজ করছে জানায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা প্রত্যাশী।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, কক্সবাজার জেলার সিনিয়র সিভিল জজ ও লিগ্যাল এইড অফিসার অভিজিৎ চৌধুরী।
বিশেষ অতিথি ছিলেন ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা দেলোয়ার হোছাইন। উপস্থিত ছিলেন রশিদা খাতুন,জেলা সমন্বয়কারী, সিমস্ প্রকল্প, প্রত্যাশী, একই সংস্থা ও প্রকল্পের প্রজেক্ট অফিসার সুলতান মাহমুদ, প্রজেক্ট অফিসার তৌহিদা জান্নাত শিমু, ঈদগাঁও উপজেলা সমন্বয়কারী মোহাম্মদ আজগরসহ জিএমসি’র চেয়ারপার্সন, সদস্য সচিব, নারী সদস্যবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা।
এতে অভিযোগ ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়া, মামলা পরিচালনার অভিজ্ঞতা বিনিময়,চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করণ, রেফারেল ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সমন্বয় জোরদার করার বিষয় গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
প্রধান অতিথি জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার অভিজিৎ চৌধুরী বলেন, ‘মধ্যস্থতার মূল উদ্দেশ্য হলো সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমিয়ে দ্রুত, সহজ ও গ্রহণযোগ্য উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ সৃষ্টি করা।
তিনি উল্লেখ করেন যে, গ্রিভ্যান্স ম্যানেজমেন্ট কমিটি (জিএমসি)-র মাধ্যমে অভিবাসন-সংক্রান্ত প্রতারণা ও বিরোধের অনেক ঘটনাই স্থানীয় পর্যায়ে মধ্যস্থতার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। কোন অভিযোগ মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি না হলে ইউনিয়ন পরিষদ অফিসিয়াল প্যাডে সুপারিশসহ তা লিগ্যাল এইড অফিসে প্রেরণ করা হলে বিষয়টি অধিক গ্রহণযোগ্যতা পায় ও প্রয়োজনীয় নথিপত্রের ঘাটতি থাকলেও তা একটি নির্ভরযোগ্য ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তিনি আরও বলেন, ‘বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন, ২০১৩’ সম্পর্কে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কমিউনিটি নেতা, সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা গেলে অভিবাসন-সংক্রান্ত প্রতারণার ঘটনা উল্লেখ যোগ্য ভাবে হ্রাস পাবে।
সভা শেষে অংশগ্রহণকারীরা জিএমসির কার্যকারিতা বৃদ্ধি, অভিযোগ ব্যবস্থাপনার মানোন্নয়ন, স্থানীয় প্রশাসনের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং অভিবাসী কর্মীদের জন্য আরো কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক সেবা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেন।