এম আবু হেনা সাগর, ঈদগাঁও
ঈদগাঁও উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের জরাজীর্ণ পরিত্যক্ত ভবনের স্থলে ৫ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে এক আধুনিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে ইতোমধ্যে পুরোনো ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়। নতুন ভবন নির্মাণ টেন্ডার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত প্রকল্প বাস্তবায়ন খবরে এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ও উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে।
বর্তমানে এই উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে ঈদগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অস্থায়ী কার্যক্রম চলছে। একই সঙ্গে এখানে জালালাবাদ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে কার্যক্রমও পরিচালিত হচ্ছে। সীমিত পরিসরে দুটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চলায় চিকিৎসাসেবা দিতে কর্মকর্তা ও কর্মচারী দের নানান সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটিতে বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারের আটটি মেডিকেল অফিসারের পদ থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র তিনজন। পর্যাপ্ত কক্ষ,অবকাঠামো গত সুবিধার অভাব এবং ঈদগাঁও উপজেলার স্বাস্থ্য বিভাগের জন্য পৃথক প্রশাসনিক, আর্থিক ব্যবস্থাপনা না থাকায় চিকিৎসকদের এখানে দীর্ঘদিন ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অর্থায়নে বিগত অর্থবছরে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য ৫ কোটি ৩৫ লাখ টাকার বরাদ্দ অনুমোদিত হয়। পুরোনো ভবন অপসারণের কাজ শেষ হয়েছে। টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে মূল নির্মাণ কাজ শুরু হবে।
নতুন ভবন নির্মিত হলে সেখানে বহির্বিভাগের চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণের পাশাপাশি মা ও শিশুস্বাস্থ্য সেবা,গর্ভবতী মায়েদের চিকিৎসা সেবা,নিরাপদ প্রসব (ডেলিভারি) সুবিধা,পরীক্ষা নিরীক্ষার সুযোগ তৈরি হবে। সঙ্গে প্রয়োজনীয় জনবল ও কনসালট্যান্ট চিকিৎসক নিয়োগের পথ সুগম হবে। যার ফলে ঈদগাঁওসহ আশপাশ এলাকার প্রায় লক্ষাধিক মানুষ উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে বর্তমানে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রধান ফটক টি নড়বড়ে অবস্থায় রয়েছে। কেন্দ্র বাউন্ডারীর বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকায় যেন পরিবেশও অপরিচ্ছন্ন। সেবা নিতে আসা কয়েক জন রোগী অভিযোগ করে বলেন, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতাও তদারকির অভাবে এখানে অস্বাস্থ্য কর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নতুন ভবন নির্মাণ ঈদগাঁওবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি। তারা আশা করছেন,টেন্ডার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে,যাতে সাধারণ মানুষ আধুনিক ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পেতে পারেন।
জানা যায়, ঈদগাঁও উপজেলার কৃতি সন্তান ও স্বাস্থ্য পরিচালক (ইনসিটু) ডা.কামরুল আযাদের বিশেষ উদ্যোগ ও প্রচেষ্টায় প্রকল্পটির বরাদ্দ অনুমোদিত হয়েছে। তিনি জানান, টেন্ডার কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নির্মাণকাজ শুরু হবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।
উল্লেখ্য, সামাজিক সংগঠন ‘ঈদগাঁও যুব ঐক্য পরিবার’ দীর্ঘদিন ধরে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি পুন র্নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছিল। তাদের দাবি বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করায় সংগঠনটির পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, নতুন ভবন নির্মাণের মাধ্যমে ঈদগাঁওর স্বাস্থ্যসেবায় একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে।