• শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৬ অপরাহ্ন
Headline
চুনতির ১৯ দিন ব্যাপী সীরাতুন্নবী (স:) মাহফিলে আখেরী মোনাজাত ১২ই সেপ্টেম্বর নাইক্ষ্যংছড়িতে ৩৪ বিজিবির অভিযানে -৪,৪০১ কেজি ইউরিয়া ও টিএসপি সার, জব্দ তারেক রহমান যেন আরেকটি হাসিনা না হন: লামায় নাগরিক সমাবেশে মামুনুল হক পাহাড়ের দুর্গম জনপদে পানির সংকট কাটাচ্ছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল পাহাড়ের দুর্গম জনপদে পানির সংকট কাটাচ্ছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল ঈদগাঁওতে নিজস্ব অর্থায়নে বাজার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে গুন্নুর প্রশংসনীয় উদ্যোগ আকস্মিক বিলাইছড়ি উপজেলা পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী নাইক্ষ্যংছড়িতে অসহায়-দুস্থদের মাঝে ঢেউটিন ও চেক বিতরণ নাইক্ষ্যংছড়িতে সড়ক দুর্ঘটনায় কলেজ ছাত্রী নিহত ঈদগাঁও প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল অসুস্থ, দোয়া কামনা

আলীকদম উপজেলায় ডিজিটাল যুগেও বিচ্ছিন্ন কুরুকপাতা আলীকদমের দুর্গম পাহাড়ি কুরুকপাতার একাংশ

Reporter Name / ৫৩ Time View
Update : বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক :
পার্বত্য জেলার বান্দরবানের লামা-আলীকদম উপজেলার ৪নং কুরুকপাতা ইউনিয়নের মানুষ সেই সুবিধা থেকে অনেকটাই বঞ্চিত দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও যখন ডিজিটাল প্রযুক্তির বিস্তার ঘটছে, সরকারি নানা সেবা অনলাইনে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ চলছে, তখনও বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণ ও পূর্বপ্রান্ত মায়ানমার সীমান্তবর্তী। এখানে মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সুবিধার সংকট, বিদ্যুতের অভাব, ইউনিয়ন পর্যায়ে ডিজিটাল সেন্টার না থাকা এবং নিজস্ব কার্যালয়ের সংকটের মাশুল গুনতে হয়। নাগরিক সেবা পেতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এখানকার স্থানীয় বাসিন্দারা বুধবার ২৬ আগষ্ট সকালে অনুসন্ধানে এমন তথ্য উঠে আসেন। স্থানীয় বাসিন্দার মেসা ম্রো,অর্জন ত্রিপুরা জানান, কুরুকপাতা ইউনিয়নের প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকা গুলোতে মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সুবিধা না থাকায় অনলাইনভিত্তিক সরকারি সেবা নেওয়া প্রায় অসম্ভব। বয়স্ক,বিধবা ও মাতৃত্বকালীন ভাতাসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আবেদন, জন্মনিবন্ধন, অনলাইন আবেদন, তথ্য যাচাইসহ নানা কাজে তাঁদের নির্ভর করতে হয় ইউনিয়নের বাইরে থাকা সেবাকেন্দ্রের ওপর। ইউনিয়ন পর্যায়ে ডিজিটাল সেন্টার না থাকায় এসব সেবা নিতে অনেক বাসিন্দাকে আলীকদম উপজেলা সদরে যেতে হয়। দুর্গম পাহাড়ি পথের কারণে কোনো কোনো এলাকা থেকে উপজেলা সদরের দূরত্ব ৬০ থেকে ৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত। যাতায়াতে সময়ের পাশাপাশি বাড়তি অর্থও খরচ হয়। দুর্গম সড়কের কারণে যানবাহনের ভাড়াও তুলনামূলক বেশি বলে জানান স্থানীয়রা।‎‎কুরুকপাতা ইউপি সদস্য জগৎ চন্দ্র ত্রিপুরা,কাম্পুক ম্রো বলেন,নিজ ইউনিয়নে কার্যকর ও স্থায়ী প্রশাসনিক অবকাঠামো না থাকায় নাগরিক সেবা আরও জটিল হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সুবিধা না থাকায় আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সেবা চালুর সুযোগও সীমিত।

‎‎কুরুকপাতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো.আবু শামা বলেন, দূগর্ম কুরুকপাতা ইউনিয়নে মাধ্যমিক বিদ্যালয় না থাকার কারণে শিক্ষাব্যবস্থাতেও রয়েছে বড় ঘাটতি। ইউনিয়নে কোনো মাধ্যমিক বিদ্যালয় না থাকায় প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করার পর শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার জন্য দূরের এলাকায় যেতে হয়। দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থা ও বাড়তি খরচের কারণে অনেক পরিবারের পক্ষে সন্তানদের দূরে রেখে পড়াশোনা করানো কঠিন।তিনি আরও বলেন, এ কারণে পাহাড়ের অনেক কোমলমতি শিক্ষার্থী প্রাথমিক শিক্ষার পর আর নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে না। ফলে উচ্চশিক্ষার সুযোগ থেকেও তারা পিছিয়ে পড়ছে।‎ইন্টারনেট সুবিধার অভাবে অনলাইন শিক্ষা, ডিজিটাল শিক্ষাসামগ্রী ও তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। দেশের অন্য এলাকার শিক্ষার্থীরা যেখানে সহজেই অনলাইনভিত্তিক শিক্ষার সুবিধা পাচ্ছে,কুরুকপাতার শিক্ষার্থীদের জন্য তা এখনো অনেকটা দুর্লভ।যোগাযোগব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার প্রভাব পড়ছে স্বাস্থ্যসেবাতেও। জরুরি স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য, চিকিৎসকের পরামর্শ কিংবা অনলাইনভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ সীমিত। দুর্গম এলাকার বাসিন্দাদের চিকিৎসার জন্যও অনেক দূরে যেতে হয় বলে জানান তারা।

‎‎স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য মতে,ভৌগোলিকভাবে কুরুকপাতা দুর্গম হলেও এখানকার মানুষ দেশের অন্য এলাকার নাগরিকদের মতোই সরকারি সেবা পাওয়ার অধিকার রাখেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাবে তাঁরা সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।‎‎দ্রুত অবকাঠামো গড়ার দাবি কুরুকপাতা ইউনিয়নের বাসিন্দারা সেখানে দ্রুত মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সুবিধা সম্প্রসারণের দাবি জানান। একই সঙ্গে একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল সেন্টার, বিদ্যুৎ সুবিধা এবং ইউনিয়নের নিজস্ব স্থায়ী কার্যালয় স্থাপনের দাবিও তাঁদের। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সুযোগ বাড়াতে ইউনিয়নে অন্তত একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং স্বাস্থ্যসেবায় ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে স্থানীয়রা।‎‎তাঁদের বক্তব্য,দুর্গমতার কারণে কোনো জনপদ নাগরিক সেবা থেকে পিছিয়ে থাকতে পারে না। সরকারের ডিজিটাল সেবার সুফল পাহাড়ের প্রত্যন্ত মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে কুরুকপাতার মতো দুর্গম ইউনিয়ন গুলোতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যোগাযোগ ও সেবা অবকাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন।‎‎৪নং কুরুকপাতা ইউপি চেয়ারম্যান ক্রাতপুং ম্রো প্রতিবেদক’কে বলেন, এই ইউনিয়ন এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক বা ইন্টারনেট না থাকার ফলে আলীকদম সদর ইউনিয়নের এলাকায় একটি ভাড়া করা কক্ষ থেকে ইউনিয়নের সকল কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা