আমিনুল ইসলাম
সংবাদ দাতাঃ
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সাচিং প্রু এমপি বলেছেন, বান্দরবান শহরটি ছোট কিন্তু এটি একটি অপরূপ সৌন্দর্যের শহর। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী, ব্যবসায়ী, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের সমন্বিত প্রচেষ্টায় আমরা এটিকে একটি পরিচ্ছন্ন ও পর্যটনবান্ধব শহর হিসেবে গড়ে তুলতে পারি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সকলের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ থাকলে বান্দরবানের সৌন্দর্য ও পরিচ্ছন্নতা রক্ষা করা মোটেও কঠিন কোনো কাজ নয়।
আজ বান্দরবান জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত বিশ্ব পর্যটন দিবস-২০২৬ উপলক্ষে বান্দরবান পার্বত্য জেলায় পর্যটন শিল্পের সার্বিক বিকাশ, শহরের শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সাঙ্গু নদীকে কেন্দ্র করে পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জনজীবনের মানোন্নয়ন বিষয়ে অংশীজনদের সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী সাচিং প্রু, এমপি।
এসময় পার্বত্য অঞ্চলের প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন মন্ত্রী।
পর্যটন মৌসুমে পার্বত্য চট্টগ্রামে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আগমনের নির্বিঘ্ন করতে নিরাপত্তা জোরদার, শহরের যানজট নিরসন এবং স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষকে পর্যটকদের সাথে মানবিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ করার আহ্বান জানান মন্ত্রী।
ব্যক্তিগত পর্যায় থেকে শুরু করে পুরো শহরের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রত্যেকের বাসাবাড়ির পরিচ্ছন্নতা থেকে শুরু করে সকল কাজে স্পষ্ট জবাবদিহিতা এবং পারস্পরিক সমন্বয় থাকতে হবে।
পার্বত্য অঞ্চলের কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির সংযোজন এবং পতিত জমিতে চাষাবাদের তাগিদ দেন মন্ত্রী সাচিং প্রু এমপি। বিশেষ করে বান্দরবানের মাটিতে কফি ও কাজুবাদাম চাষের ব্যাপক সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে কৃষকদের উৎসাহিত করার নির্দেশ দেন তিনি।
পার্বত্য এলাকায় পানির তীব্র সংকটের টেকসই সমাধানের জন্য বৃষ্টি, ঝিরি, নদী ও লেকের পানি সংরক্ষণের পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারের তাগিদ দেন তিনি।
প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সার্বিক কল্যাণে দেশি-বিদেশি উন্নয়ন সংস্থাসমূহকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার অনুরোধ জানান মন্ত্রী সাচিং প্রু এমপি।
বান্দরবান পার্বত্য জেলার জেলা প্রশাসক জনাব মোঃ সানিউল ফেরদৌস-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার জনাব মোঃ ওহাবুল ইসলাম খন্দকার। এছাড়াও সভায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী এবং পর্যটন খাতের অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন।