পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:চট্টগ্রামের পটিয়া পৌর সদর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও জনবহুল এলাকায় অবৈধ হকার, ফুটপাত দখল এবং যত্রতত্র যানবাহন পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে পটিয়া উপজেলা প্রশাসন। যানজট নিরসন, পথচারীদের চলাচল নির্বিঘ্ন করা এবং সড়কের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) এ অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার ভুমি কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন। পটিয়া শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও এলাকায় পরিচালিত অভিযানে সড়ক ও ফুটপাত দখল করে বসানো হকারের দোকানপাট, পণ্যসামগ্রী ও চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী বিভিন্ন স্থাপনা সরিয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রধান সড়কের পাশে ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে অবৈধভাবে পার্কিং করে রাখা যানবাহন সরিয়ে সড়ক যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।
অভিযানকালে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ফুটপাত ও সড়ক দখল করে ব্যবসা পরিচালনা না করার পাশাপাশি নির্ধারিত স্থান ছাড়া যানবাহন পার্কিং না করতে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়। জনসাধারণের চলাচলের পথ উন্মুক্ত রাখা এবং সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পটিয়া শহরের ছবুর রোড, স্টেশন রোড, আদালত রোড, ক্লাব রোডসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ফুটপাত ও সড়কের অংশ দীর্ঘদিন ধরে হকারদের দখলে রয়েছে। এর পাশাপাশি সিএনজি অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন যত্রতত্র পার্কিং করায় সড়কের কার্যকর প্রশস্ততা কমে যাচ্ছে। ফলে ব্যস্ত সময়ে এসব এলাকায় যানজট তীব্র আকার ধারণ করছে।বিশেষ করে অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছুটির সময়ে যানবাহনের চাপ বাড়লে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, রোগী ও সাধারণ পথচারীদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে পথচারীদের ফুটপাতের পরিবর্তে মূল সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হয়, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে সড়ক ও ফুটপাত দখলের কারণে পটিয়া শহরের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। হকারদের পাশাপাশি অবৈধ পার্কিং নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে নিয়মিত যানজটের সমস্যা থেকে উত্তরণ কঠিন হবে। এ কারণে উচ্ছেদ অভিযানের পাশাপাশি নিয়মিত তদারকি ও কার্যকর পার্কিং ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।
পটিয়া বণিক সমিতির সভাপতি গাজী আমির হোসেন বলেন, প্রশাসনের এ অভিযানকে আমরা স্বাগত জানাই। তবে শুধু একদিন অভিযান পরিচালনা করলে হবে না। অবৈধ পার্কিং বন্ধ করতে হবে এবং এ উচ্ছেদ অভিযান স্থায়ী করতে নিয়মিত তদারকি করতে হবে। সড়ক ও ফুটপাত যাতে আবার দখল হয়ে না যায়, সে বিষয়ে প্রশাসনের ধারাবাহিক নজরদারি প্রয়োজন।
ব্যবসায়ী দিদারুল আলম, গাজী আমির হোসেন, জাফরুল ইসলাম জানান,
‘অবৈধ হকার ও পার্কিং উচ্ছেদে প্রশাসনের উদ্যোগকে আমরা ধন্যবাদ জানাই। তবে ফুটপাত দখলমুক্ত করার বিষয়টির স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন। অভিযান শেষ হওয়ার পর আবার যাতে আগের পরিস্থিতি ফিরে না আসে, সেদিকে প্রশাসনকে নজর দিতে হবে।স্থানীয়দের মতে, পটিয়া শহরের যানজট নিরসনে উচ্ছেদ অভিযানের পাশাপাশি নির্দিষ্ট পার্কিং এলাকা চিহ্নিত করা, ফুটপাত পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা এবং নিয়মিত মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা জরুরি। একই সঙ্গে সড়কের ওপর হকার বসানো ও অবৈধভাবে যানবাহন রাখার বিরুদ্ধে নিয়মিত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হলে পরিস্থিতির স্থায়ী উন্নতি সম্ভব। প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হলে পটিয়া শহরের প্রধান সড়কগুলো দখলমুক্ত হওয়ার পাশাপাশি যান চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ অনেকাংশে কমবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।