Logo
শিরোনাম
২৯ এপ্রিল নিহতদের স্মরণে গোমাতলীতে দোয়া ও স্মরন সভা সম্পন্ন পটিয়ায় গ্রাম ডাক্তার কল্যাণ সমিতির সায়েন্টিফিক সেমিনার অনুষ্ঠিত ঈদগাঁওতে চলতি মৌসুমেই বোরোধান চাষীরা চরম বিপাকে পটিয়ায় উৎসবমুখর পরিবেশে সিএনজি সমবায় সমিতির লাইনম্যান নির্বাচন সম্পন্ন নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারীতে এক ব্যেক্তির মরদেহ উদ্ধার ঈদগাঁও-চৌফলদন্ডী সড়কে দূর্ঘটনায় আহত ২  স্বস্তির বৃষ্টি, বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধতা,ভোগান্তিতে ঈদগাঁও বাজারবাসী পোকখালীতে বায়ু বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পের টাওয়ারে চুরি, অবকাঠামো ধ্বংস ঈদগাঁও স্টেশনে সওজের জায়গা দখল করে সিড়ি নির্মাণ, নানান শ্রশ্নের সৃষ্টি ঈদগাঁও উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল সম্পন্ন

তিন পার্বত্য জেলার ৬৪ ইটভাটা বন্ধের প্রতিবেদন হাইকোর্টে

পাহাড়ের চোখ ডেস্ক

উচ্চ আদালতের নির্দেশনায় পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের (খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও রাঙ্গামাটি) ২০ উপজেলায় ৬৪টি অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে। বুধবার (২৩ ফেব্রুয়ারী) বিচারপতি জে বি এম হাসান এবং বিচারপতি ফাতেমা নজীবের হাইকোর্ট বেঞ্চে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের তিন জেলার জেলা প্রশাসকের দাখিল করা প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এরপর এই বিষয়ে শুনানি নিয়ে আগামী ৯ মার্চ পরবর্তী শুনানির দিন ঠিক করেছেন হাইকোর্ট। রিটকারী আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

রাঙ্গামাটি, বান্দরবান এবং খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসকরা আদালতে এভিডেভিট আকারে প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলায় ২টি, কাপ্তাই উপজেলায় ১টি, লংগদু উপজেলায় ৩টি, রাজস্থলি উপজেলায় ৩টি এবং কাউখালি উপজেলায় ১৬টি অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে।

রাঙ্গামাটি জেলার জুরাছড়ি, রাঙ্গামাটি সদর, বরকল, বিলাইছড়ি, নানিয়ারচর উপজেলায় কোন ইটভাটা নেই মর্মে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়।

বান্দরবান জেলার আলিকদম উপজেলায় ২টি, লামা উপজেলায় ৩টি এবং নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় কয়েকটি অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে।

খাগড়াছড়ি জেলার সদর উপজেলায় ৫টি, মাটিরাঙ্গা উপজেলায় ৬টি, পানছড়ি উপজেলায় ৩টি, দীঘিনালা উপজেলায় ২টি, মহালছড়ি উপজেলায় ৩টি, মানিকছড়ি উপজেলায় ১টি, রামগড় উপজেলায় ৯টি, গুইমাড়া উপজেলায় ৫টি অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে।

জনস্বার্থে দায়ের করা এক রিট আবেদনের শুনানির নির্ধারিত দিনে বুধবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) হাইকোর্টের বিচারপতি জে বি এম হাসান এবং বিচারপতি ফাতেমা নজীবের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চয়াল বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন, হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) চেয়ারম্যান ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায়।

এর আগে জনস্বার্থে দায়ের করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ২৫ জানুয়ারি চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও রাঙ্গামাটির সব অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম সাতদিনের মধ্যে বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে দুই সপ্তাহের মধ্যে বিষয়টি প্রতিবেদন আকারে দাখিল করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।

এ বিষয়ে পরবর্তী আদেশ ও শুনানির জন্য ১৬ ফেব্রুয়ারি দিন ঠিক করেন আদালত। তারই ধারাবাহিকতায় বুধবার সেটি শুনানির জন্য ওঠে।

লাইসেন্স ছাড়া এই তিন জেলার ইটভাটা পরিচালনা, পাহাড় কেটে মাটি ইটভাটায় কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার এবং বনের গাছ কেটে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে মর্মে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে জনস্বার্থে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) এই রিট করে।

আইনজীবী মনজিল মোরসেদ জানান, রিটের শুনানি শেষে অর্ন্তবতীকালীন আদেশে পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্টদের লাইসেন্স বিহীন ইটভাটা আগামী সাতদিনের মধ্যে বন্ধ এবং দুই সপ্তাহের মধ্যে আদালতে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

তিনি বলেন, এছাড়া লাইসেন্স বিহীন পরিচালিত সব ইটভাটার তালিকা আগামী ছয় সপ্তাহের মধ্যে প্রস্তুত করে আদালতে দাখিলের জন্য তিন জেলার জেলা প্রশাসক ও চট্টগ্রাম এলাকার পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালকসহ অন্যদেরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রুলে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় লাইসেন্স বিহীন পরিচালিত সব ইটভাটা বন্ধে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তাকে কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না এবং অবৈধভাবে পরিচালিত ইটভাটার মালিকদের বিরুদ্ধে লাইসেন্স বিহীন ইটভাটা পরিচালনার কারণে ইটভাটা নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৩ এর ধারা ৪, ৫, ১৪, ১৮ অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণের কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট।

চার সপ্তাহের মধ্যে পরিবেশ সচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, চট্টগ্রামের পরিচালক, তিন জেলার ডিসি, এসপিসহ মোট ২৪ জনকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

মনজিল মোরসেদ জানান, ওই আদেশ প্রতিপালন করে আজ পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলাগুলোর ২০ উপজেলায় ৬৪টি অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম বন্ধ করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন ৩ পার্বত্য জেলার ডিসি।

শুনানিতে আজ রিটকারীদের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিযন্ত্রণ) আইন ২০১৩ (সংশোধিত ২০১৯) এর ৪ ধারা অনুসারে কোনো ইটভাটা লাইসেন্স ছাড়া চলতে পারবে না, যদি চলে তবে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

কিন্তু শুধুমাত্র মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে আর্থিক জরিমানা করা হয় এবং অবৈধ ইটভাটা মালিকরা তা পরিশোধ করে স্বাচ্ছন্দ্যে বে-আইনিভাবে ইটভাটার কার্যক্রম চালিয়ে পরিবেশের মারত্মক ক্ষতি করছে। আইন তা অনুমোদন করে না।

একই প্রক্রিয়ায় বছরের পর বছর অবৈধভাবে ইটভাটা চলছে, তিনি এর প্রতিকার দাবি করে এসব ইটভাটা মালিকদের বিরুদ্ধে আর্থিক জরিমানার পরিবর্তে কারাদন্ডের শাস্তি নিশ্চিত করতে আবেদন জানান।
এসব শুনানি শেষে আদালত পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বিবাদীদের নির্দেশ দেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


error: Content is protected !!