নিজস্ব প্রতিনিধি,ঈদগাঁও
ঈদগাঁও মাইজ পাড়ায় খালটি দীর্ঘ শতবছর পূর্ব হতে জাগির পাড়া থেকে উত্তর-মধ্যম হয়ে দক্ষিণ মাইজ পাড়ার শেষ সীমানা পযন্ত বর্ষা ও শুল্ক মৌসুমে কৃষি কাজে পানি নিস্কাশনের একমাত্র খাল হিসেবে সুপরিচিত।
কালের বিবর্তনে খালটি পাশ্ববর্তী কিছু লোকজন এবং জমির মূল্য বৃদ্ধি পাওয়াতে উক্ত খালের অংশ বিশেষ ভরাট করে দোকানপাঠ বাড়ীঘর ও মাটি ভরাট করায় এলাকার একমাত্র পানি চলাচলের খালটি সংকুচিত করে ফেলেন। যার কারনে বর্ষা মৌসুমে অতিবৃষ্টির কারনে খালপাড়ের মানুষের ঘরবাড়ী প্লাবিতসহ কৃষি পন্য বিনষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি শুল্ক মৌসুমে কৃষি কাজে পানি চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দরা খালটি খননের গুরুত্ব বিবেচনা করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর খাল খননের উদ্যোগের আওতায় কক্সবাজার সদর-রামু-ঈদগাঁও আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজলকে অবগত করেন এলাকাবাসী। পরবর্তীতে ঈদগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত আবেদনও প্রদান করেন। এরই প্রেক্ষিতে বিষয়টি গুরুত্ব বিবেচনায় (১২ জুলাই) খালটি পুন:খননের লক্ষে সরেজমিন পরিদর্শন করেন ঈদগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মংচিংনু মারমা। সাথে ছিলেন ঈদগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহেল জাহান চৌধুরীসহ স্থানীয় জন প্রতিনিধি ও এলাকার লোক জন।
পরিদর্শন পরবর্তী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্ম রত ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা খালটির তথ্য ও দীর্ঘদিনের সেই পুরনো খালের গুরুত্ব বিবেচনায় ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট গত (২৩ জুলাই) পত্র প্রেরন করেছেন মর্মে সূত্রে জানা যায়। উক্ত পত্রে খালটির বিএস জরিপে কিছু কিছু ব্যাক্তি মালিকানাধীন জমি হলেও দীর্ঘ শত বছরের বর্ষা ও শুল্ক মৌসুমে পানি নিস্কাশনের একমাত্র খাল এটি।
দেখা যায়, ঈদগাঁও উপজেলার সদর ইউনিয়নের বৃহত্তর মাইজ পাড়ার গ্রামীন খালটি এখন ভরাখালে পরিণত হয়ে পড়েছে। এ খাল দিয়ে একসময় পাল তোলা নৌকা চলাচল করত। বর্তমানে খালের অস্তিত্ব বিলুপ্তির পথে। কালের পরিক্রমায় সে খালের বুকে এখন পাকা-আধা-পাকা দালানে সমারোহ। দখলের থাবায় খাল এখন নিজস্ব স্বকীয়তা হারিয়ে ফেলছে। দখল আর দূষণের থাবা থেকে খালটিকে মুক্ত করে খনন করা না হলে আগামীতে এসব খালের কোন স্মৃতি চিহ্ন খোঁজে পাওয়া যাবেনা।
স্থানীয় এমইউপি বজলুল রশিদ জানান, মাইজ পাড়া এলাকার খালটি ভরে গেছে। উত্তর থেকে দক্ষিণের শেষ সীমা পযন্ত খালটি ভরে যাওয়ায় একটু বৃষ্টি হলে বাড়ীঘর পানিবন্দি হয়ে পড়ে। এ বাইন্যা (ভরা) খালটি খনন করে এলাকাবাসীকে রক্ষা করার দাবী সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের নিকট।
ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আবদু জব্বারের সাথে কথা হলে তিনি মাইজ পাড়ার খালের বিষয়ে লিখিত আকারে ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট একটি পত্র প্রেরনের সত্যতা নিশ্চিত করেন।