এম আবু হেনা সাগর,ঈদগাঁও
গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য ও নান্দনিক সৌন্দর্য্যের প্রতীক বাবুই পাখির বাসা। সেই বাবুই পাখি ও বাসা হারিয়ে যেতে বসেছে। তালের পাতায় নিপুণ কারুকার্য করে বাবুই পাখি তার অপরূপ সৌন্দর্যের বাসা তৈরি করে। এক সময় প্রকৃতি দাবিয়ে বেড়ানো এ পাখি আজকালের বিবর্তনে চিরচেনা সবুজ প্রকৃতি থেকে একেবারে বিলুপ্তির পথে। পাতায় কতই না মেধা শক্তি খাটিয়ে নিজেদের আবাসস্থল গড়তো এই বাবুই পাখি।
তাল গাছের স্বল্পতা আর প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ফলে বাবুই পাখি আজ নিজেই অস্তিত্ব সংকটে আছে বলে মনে করেন অনেকে। পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে একেবারে বিলুপ্তির পথে প্রকৃতির চিরচেনা বাবুই পাখির বাসা। অথচ আজ থেকে ৮/১০ বছর পূর্বেও ঈদগাঁওসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে পাড়া মহল্লায় তাল গাছে দেখা মিলতো বাবুই পাখির বাসা।
দেখা যায়, আগেকার দিনের মতো এখন আর চোখে পড়েনা এ পাখি ও তার তৈরি দৃষ্টিনন্দন ছোট্ট বাসা তৈরির নৈসর্গিক দৃশ্য। বাবুই পাখির নিখুঁত বুননে এ বাসা টেনে ছেঁড়াও কষ্টসাধ্য। তালগাছে একাধিক বাসা তৈরি করতে সময় লাগতো সপ্তাহেরও বেশি। খড়, তাল ও খেজুর পাতা আর লতা-পাতা দিয়ে বাবুই পাখি উঁচু তালগাছে তাদের বাসা বাঁধে।
একসময়ে গ্রাম্য রাস্তার পাশে তালগাছ আর সেই তালগাছের মধ্যেই অনেক বাবুই পাখির বাসার দেখা মিলতো। কিন্ত এখন আর বাবুই পাখির বাসা চোখে পড়েনা। পাখির কিচিরমিচির শব্দে ঘুম ভাঙতো। কিন্তু এখন আর পাখির সেই কিচিরমিচি শব্দও শোনা যায়না।
বাসস্থান সংকটের কারণে এ পাখি ধীরে ধীরে প্রকৃতি থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। বাবুই পাখির বাসস্থানের প্রধান দুটি গাছ হচ্ছে তালগাছ ও খেজুর গাছ। কিন্তু এখন তাল গাছ আর খেজুর গাছ নেই বললেই চলে। এজন্য পাখিগুলো চরম অস্তিত্ব সংকটাপন্ন হয়ে পড়ায় পরিবেশ থেকে আজ বিলুপ্তির পথে এ বাবুইপাখি। এখন সকলের উচিত বেশি করে তাল ও খেজুর গাছ লাগানো।
All rights reserved © 2020 paharechok.com||
এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি