Logo
শিরোনাম
চৌফলদন্ডী মধ্যম রাখাইন পাড়া বৌদ্ধ বিহারের সীমানায় ময়লা আবর্জনা ফেলার অভিযোগ ঈদগাঁওতে পরীক্ষা কেন্দ্র সংশ্লিষ্টদের নিয়ে প্রশাসনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত বান্দরবানের  নাইক্ষ্যংছড়িতে পুলিশের অভিযানে অস্ত্র  ও গুলি সহ আটক-২ নাইক্ষ্যংছড়িতে নানা  আয়োজনে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর  মহা সাংগ্রাইং পোযেঃ জলকেলি উৎসব উৎযাপিত জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রবীন্দ্র লাল ও সভাপতি সালাম ফকিরকে দেখতে হাসপাতালে চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি ঈদগাঁওতে এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার্থীদের সফলতা কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত ঈদগাঁওতে ৮ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সৌর প্যানেলের ক্যাবল চুরি, চিকিৎসা সেবা ব্যাহত ঈদগাঁওতে ইক্বরা তাহসীনুল কোরআন মাদ্রাসায় সভায় পাগড়ি পেল ১৪ কুরআন হাফেজ পটিয়ায় বর্ষবরণে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ: কানাডা প্রবাসীর শরবত বিতরণ ঈদগাঁওতে আক্কাবো গোষ্ঠী সমাজ বৈঠক সম্পন্ন

সবুজের মাঝে সূর্যমুখীর হাসি কৃষকের মুখে

 

বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি :

পার্বত্য জেলা বান্দরবানের লামার উপজেলা-র বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন হলুদের সমারোহ। দিগন্তজোড়া সবুজের মাঝে সূর্যের দিকে মুখ তুলে ফুটে আছে অসংখ্য সূর্যমুখী ফুল। পাহাড়ি এ জনপদে এমন দৃশ্য যেন এক টুকরো জীবন্ত চিত্রকর্ম। সোমবার (৩১ মার্চ) বিকালবেলায় দেখা যায়। সূর্যমুখী শুধু দৃষ্টিনন্দন ফুলই নয়, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ তেলজাতীয় ফসল। এর বীজ থেকে উৎপাদিত তেল যেমন পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ, তেমনি বীজ সরাসরি ভাজা, সালাদ, দই কিংবা বিভিন্ন খাদ্যে ব্যবহারযোগ্য। বিশ্বজুড়ে সূর্যমুখী তেলের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। এ বছর লামা উপজেলায় অনেক কৃষক তামাক চাষ থেকে সরে এসে সূর্যমুখী চাষে ঝুঁকেছেন। তামাকের বিকল্প হিসেবে সরকারও কৃষকদের প্রণোদনা দিচ্ছে। সরকারি সহায়তায় উপজেলায় প্রায় ৫.৫ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ হয়েছে। ফলনও আশাব্যঞ্জক।কৃষি বিভাগ জানায়, ভাদ্র-আশ্বিন মাস সূর্যমুখী চাষের উপযুক্ত সময়। জমি ভালোভাবে প্রস্তুত করে নির্দিষ্ট দূরত্বে বীজ বপন করতে হয় এবং সঠিক সময়ে সার প্রয়োগ করলে ভালো ফলন পাওয়া যায়। সাধারণত বীজ বপনের ৯০ থেকে ১০৫ দিনের মধ্যেই ফসল ঘরে তোলা যায়। বিঘাপ্রতি ৭ থেকে ১০ মণ ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।বর্তমানে দেশে সূর্যমুখীর বীজের দাম কেজিপ্রতি প্রায় ৫০০ থেকে ১,৩০০ টাকার মধ্যে, যা বীজের মান ও ধরনভেদে পরিবর্তিত হয়।উপজেলা উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা অভিজিৎ বড়ুয়া জানান, ৪০ জন কৃষককে ০১ বিঘা করে জমিতে চাষের জন্য বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে মোট ৫.৫ হেক্টর জমিতে এ চাষ হয়েছে। ইতোমধ্যে ফসল সংগ্রহের উপযোগী হয়েছে এবং ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে।লামা পৌরসভার ছাগলখাইয়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সড়কের পাশজুড়ে বিস্তৃত সূর্যমুখীর বাগান। প্রতিটি গাছের বড় আকারের হলুদ ফুল সূর্যের দিকে তাকিয়ে আছে। পুরো এলাকা যেন হলুদ চাদরে ঢাকায়।এই বাগানের মালিক স্থানীয় কৃষক মংক্যচিং মার্মা জানান, প্রথমবারের মতো ৪০ শতক জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছেন। মোট খরচ হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার টাকা। তিনি আশা করছেন, ১৫ থেকে ২০ মণ ফলন পাবেন এবং সব খরচ বাদ দিয়ে লক্ষাধিক টাকা লাভ করতে পারবেন।একইভাবে গজালিয়া ইউনিয়নের সজারাম ত্রিপুরাও কৃষি বিভাগের পরামর্শে সূর্যমুখী চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছেন। তার জমিতেও বড় আকারের ফুল ফুটেছে, যা তাকে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।এ- ভাবে ফাইতং ইউনিয়নে ৮নং ওয়ার্ডে সূর্যমুখী চাষ করে ভালো ফলন হয়েছে বলে জানান।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সোহেল রানা বলেন, সূর্যমুখীর তেল পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এবং স্বাস্থ্যসম্মত। কৃষকদের মধ্যে এ ফসল জনপ্রিয় করতে প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। এ বছর ফলন ভালো হওয়ায় আগামীতে আরও কৃষক এ চাষে আগ্রহী হবেন বলে আশা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


error: Content is protected !!