সুজন চৌধুরী:আলীকদম প্রতিনিধি:আলীকদম সদর ইউপি চেয়ারম্যান নাছির উদ্দীন গং মন্ত্রীর প্রতিনিধি ও ১নং সদর ইউপি চেয়ারম্যানে নাছির উদ্দীনের পদবী ব্যবহার ও ক্ষমতার দাপত দেখিয়ে পুলিশ বাহিনী ব্যবহার করে পরিবারের নারী পুরুষ এবং শিশুদের রাতের আঁধারে নির্যাতন করে জায়গা জবর দখলের অপচেষ্টা সহ মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির বিরুদ্ধে অসহায় ভূক্তভোগী ৩নং নয়াপাড়া ইউনিয়নের বাগানপাড়া নিবাসী ঠাণ্ডা মিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
আজ শনিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে আলীকদম উপজেলাস্থ দ্যা দামতুয়া-ইন হল রুমে নির্যাতিত পরিবারের সদস্যদের আয়োজনে এই সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক, ইলেকট্রনিক মিডিয়া ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
প্রিয় সাংবাদিকবৃন্দ,
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত বিভিন্ন দৈনিক সাপ্তাহিক ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকসহ উপস্থিত সুধীবৃন্দ, আমি এবং আমার পরিবারের পক্ষ থেকে আপনাদের প্রতি রইল সালাম ও নমস্কার। আমি উম্মে শেলি পিতা- আবুল কাশেম, সাং- বাগান পাড়া, ২৮৭নং তৈন মৌজা, ৩নং নয়াপাড়া ইউপি, উপজেলা- আলীকদম, জেলা- বান্দরবান,আপনাদের সামনে উপস্থিত হইয়া সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে অবগত করিতেছি যে, বিগত ১৯৮৪-১৯৮৫ইং সনের নাছির উদ্দিন চেয়ারম্যানের পিতা ছিদ্দিক আহমদের জমি হইতে বাস করতঃ বন্দোবস্তি মূলে ক্রয়কৃত জমির (হোল্ডিং নং ৩১৮, খতিয়ান নং ৮৩, দাগ নং ২৫৬৮-২৫৬৭) এর অংশ ও ২৭০০ নং দাগের আন্দর জমির পরিমান ৬.৪০ একর দ্বিতীয় শ্রেণীর জমি রয়েছে।
ছিদ্দিক আহমদের জায়গা হইতে ঠাণ্ডা মিয়ার নামে বন্দোবস্তি হওয়া পরবর্তী জমির সীমানা পরিচিহ্নিত ও মাপঝোপ এর বিষয়ে ছিদ্দিক আহমদ বেঁচে থাকা অবস্থায় এবং তিনি মৃত্যুবরণ করার পরও তাহার ওয়ারিশগণ অর্থাৎ নাছির উদ্দিন চেয়ারম্যান গং এর শরনাপন্ন হইলে দীর্ঘদিন পর্যন্ত জায়গার সীমানা নির্ধারণ না করিয়া ঠান্ডা মিয়ার খতিয়ান ভুক্ত জমির অংশ হইতে ক্ষমতার দাপটে প্রতিষ্ঠান এবং ব্যাক্তির নামে দেশীয় দলিল এবং দানপত্র মূলে জমি অবৈধ ভাবে হস্তান্তর করে। মূলত ৮৩ নং খতিয়ানের ২৫৬৮, ২৫৬৭ ও ২৭০০ নং দাগে ছিদ্দিক আহমদের নামীয় সর্বমোট জমির পরিমাণ ৯.৯৫ একর হইলেও দলিল, দানপত্র, বায়না নামা মূলে ১০.৩০ একর জায়গা অবৈধ হস্তান্তর করে অর্থাৎ ছিদ্দিক আহমদের মূল জায়গা হইতে ৩৫ একর জায়গা প্রতারণা পূর্বক ছিদ্দিক আহমদের ওয়ারিশ নাছির উদ্দিন চেয়ারম্যান গং অবৈধ হস্তান্তর করে। উপরে উল্লেখিত দাগ গুলোকে ছিদ্দিক আহমদের কোন জমি অবশিষ্ট থাকার কথা নয়। তদুপরি লোভের বশবর্তী হইয়া এবং ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে প্রতারনার আশ্রয় নিয়ে প্রায় ১.৫০ একর জমি নাছির উদ্দিন চেয়ারম্যান গং অবৈধ দখলে রহিয়াছে।
বিগত-১৫/০৬/২০২২ ইং তারিখ রাতের অন্ধকারে নাছির উদ্দিন চেয়ারম্যান গং লাঠিসোঁটা, দা, কুড়াল নিয়ে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হইয়া ভাড়াটে সন্ত্রাসী,রাজনৈতিক নেতাকর্মীসহ আমাদের ভোগ দখলীয় স্থিত ৪০ শতক জায়গায় থাকা কলাগাছ, আমগাছ সহ বিভিন্ন ফলজ ও বনজ গাছ চরম নির্ণয় ভাবে কেটে জায়গায় থাকা ঘেরা বেড়া ভেঙ্গে তছনছ করে দেয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের পরিবারকে অব্যাহত হুমকি ধমকির ফলশ্রুতিতে বিষয়টি পুলিশ কর্মকর্তার উপস্থিতিতে থানা চত্বরে সামাজিক ভাবে সুরাহা করার প্রচেষ্টা করার পরও নাছির উদ্দিন চেয়ারম্যান গং এর কোন রূপ সৎ ইচ্ছা না থাকায় কোন উপায় না দেখে বিগত ৫/৭/২২ ইং তারিখে আমরা আদালতের শরনাপন্ন হই। বিজ্ঞ আদালত আমাদের আবেদন এর পরিপ্রেক্ষিতে উক্ত জায়গার উপর ১৪৫ ধারা জারি করে। তারপর থেকে উক্ত জায়গায় আমরা শান্তিপূর্ণ ভাবে অবস্থান করছিলাম। আদালতে ১৪৫ ধারা জারির একটি নির্দেশনা আমরা পাই এবং নির্দেশনা মেনে আমরা শান্তিপূর্ণ ভাবে অবস্থান করা অবস্থায় গত ১৮/০৭/২০২২ ইং তারিখে নাছির উদ্দিন চেয়ারম্যান এর প্ররোচনায় তার ভাড়াটিয়া মমতাজ বেগম গং আমাদের সহিত অযথা তর্কে জড়াইয়া অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করিতে থাকে। কোনরূপ মারামারি হাতাহাতি বিহীন আমাদের কথা কাটাকটির সমাপ্তী ঘটে। এই বিষয়ে আলীকদম থানা অবগত আছে এবং আমরা উভয় পক্ষ থানায় উপস্থিত হইয়া শান্তি শৃঙ্খলা বিনষ্ট না করার মর্মে সম্মত হই। এমতাবস্থায় গত- ১৯/০৭/২০১২ ইং তারিখে রাত ১০:৩০ মিনিটের সময় আমাদের পরিবারের কেউ খাওয়া-দাওয়া অবস্থায় কেউ নামাজরত অবস্হায় এবং কেউ শিশুদের ঘুমপাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ঠিক সেই মূহুর্তে নাছির উদ্দিন চেয়ারম্যান গং ও তার ভাড়াটে সন্ত্রাসী ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে পুলিশ নিয়ে গিয়ে কোন প্রকার গ্রেফতারি পরোয়ানা বা মামলার কপি প্রদর্শন না করে অতর্কিত ভাবে আমাদের বাড়ির চারিদিক থেকে ঘিরে ফেলে।
এসময় পোশাক বিহীন এস আই আল আমিনের নেতৃত্বে একটি পুলিশ দল ঘরের দরজা ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে এবং ঘরে থাকা মহিলাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও লাঠিচার্জ করে ও তিনজন বৃদ্ধ মহিলাকে এবং ছোট শিশুর মা কে এস আই আল আমিনের হাতে থাকা লাঠি দিয়ে আঘাত করে জোর পূর্বক টেনে হিঁছড়ে গাড়িতে তুলে থানায় নিয়ে যায়। এবং ঘরে থাকা গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র হস্তগত করে নিয়ে যায়। তৎপরবর্তী নাছির উদ্দিন চেয়ারম্যান গং ও এস আই আল আমিনের নেতৃত্বে পুলিশের দল এস আই আল আমিনের হাতে থাকা দা দিয়ে নাছির উদ্দিন চেয়ারম্যান গং ও মমতাজ বেগম গং আমাদের উপর দায় চাপানো ও মামলার উপকরণ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে তাদের নিজেদের ঘরবাড়ি নিজেরাই ভাংচুর করে।
মূলত নাছির উদ্দিন চেয়ারম্যান ক্ষমতার দাপটে আমাদের বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করে। উক্ত মামলায় বিদেশে অবস্থানরত, বিবাহ জনিত কারণে আলীকদমের বাহিরে থাকা মহিলা ও ব্যক্তি দ্বয়কেও আসামি করে। যদিও রাত ১১ টার সময় আমাদের পরিবারের লোকজন কে বেআইনি ভাবে থানায় ধরে আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ। এর পরে থানায় এনে বয়স্ক মহিলা ও নারীদের অমানষিক নির্যাতন করে তাদের কাছ থেকে নাম ঠিকানা নিয়ে নাছির উদ্দিন চেয়ারম্যান এর ক্ষমতার দাপটে প্রভাবিত হয়
All rights reserved © 2020 paharechok.com||
এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি