মতিন রহমান, মাগুরা :মাগুরা সদর উপজেলার বেরইল পলিতা ইউনিয়নের চেঙ্গারডাঙ্গা গ্রামে তুষার রায় নামে এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে বিভিন্ন সময়ে শারীরিক এবং মানষিক নির্যাতন করে আসছিলো বলে অভিযোগ ওঠে। তার স্ত্রীর নাম অনিমা (৪৫)। তিনি মাগুরার মাধবপুর গ্রামের মৃৃত অরবিন্দু বিশ্বাসের মেয়ে।
জানা গেছে, প্রায় ২২ বছর আগে তুষার ও অনিমার বিয়ে হয়। বিয়ের পরে অনিমার পেটে সন্তান আসলে সেই ভ্রুণ নষ্ট করার জন্য তুষার তাকে চাপ দেয় এবং একপর্যায়ে ভ্রুণ নষ্ট করা হয়। এরপর আর কোনো সন্তান আসেনি তাদের ঘরে। সেসময় থেকে সংসারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ঝামেলা হলেই সন্তানের কথা উল্লেখ করে প্রায়ই ঝামেলা হতো তাদের মধ্যে।
এরপর ওই ঝামেলাকে কেন্দ্র করে গত বৃহস্পতিবার (১১ আগস্ট) বিকালে বিষপান করে অনিমা। এসময় অনিমার স্বামীর বাড়ির লোকেরা স্থানীয় রাজকুমার নামে একজন পল্লী চিকিৎসকের নিকট নিয়ে তার চিকিৎসা করান। সেখানেই শুক্রবার দুপুরে অনিমার মৃত্যু হয়।
এবিষয়ে অনিমার বাবার বাড়ির লোকেরা গর্ভের ভ্রুণ নষ্ট করার কথা জানান। একই সঙ্গে অনিমার মৃত্যুকে তারা স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে পারেনি।
অভিযোগের ভিত্তিতে তুষার রায়ের কাছে জানতে চাইলে তিনি অনিমার গর্ভের ভ্রুণ নষ্ট করার বিষয়টি স্বীকার করেন। একই সঙ্গে পাশের লোকেদের সঙ্গে কাচা মরিচ বেচাবিক্রি ও ওজন নিয়ে ঝামেলা হয়েছিলো বলেও জানান তুষার।
এদিকে অনিমার মৃত্যুর বিষয়ে তার ভাগনে ও ভাগনি অরুপ কবিরাজ ও রিনা কবিরাজ জানান, তাকে উন্নত চিকিৎসা করালে হয়তো বেঁচে থাকতো। হাসপাতালে না নিয়ে স্থানীয় চিকিৎসা করিয়েছে এবং বিষপানের পরেও অনেক সময় পেয়েও তার স্বামী তাকে হাসপাতালে নেয়নি বলে অভিযোগ করেন। এসময় অভিযোগ থাকার পরও পোস্ট মর্টেম না করে মিমাংশার কথা শোনা গেছে।
অন্যদিকে, পল্লী চিকিৎসক রাজকুমারকে তার চেম্বারে পাওয়া না গেলে তার চেম্বারে থাকা লোকেরা জানান অনিমার অবস্থার অবনতি হলে আগেই ওই রোগীকে ফরোয়াড দিয়েছেন তারা। ফরোয়াড কপিও দেখান চেম্বার থেকে।
এসব ঘটনায় স্থানীয় শত্রুজিৎপুর পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ আবুল কাশেম মুঠোফোনে জানান, সদর থানা থেকে পুলিশ গিয়ে লাশ ময়না তদন্তের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ময়না তদন্ত শেষে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।
All rights reserved © 2020 paharechok.com||
এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি