আমিনুল ইসলাম
নাইক্ষ্যংছড়ি(বান্দরবান)প্রতিনিধিঃ
নাইক্ষ্যংছড়ির পার্শবর্তী
রামু উপজেলার কচ্ছপিয়া এলাকা থেকে মালয়েশিয়াগামী একটি ট্রলার ডুবির ঘটনায় একই ইউনিয়নের চার যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ হৃদয়বিদারক ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া, স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ।
নিহতরা হলেন— মিজবাহ উদ্দীন (১৭), মুর্শেদ (২০), আবদুল হামিদ (২১) ও হবিব উল্লাহ (১৯)। তাদের সবার বাড়ি কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উন্নত জীবনের আশায় মানবপাচারকারীদের প্রলোভনে পড়ে তারা গত ১ এপ্রিল সাগরপথে মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস—যাত্রার মাত্র পাঁচদিনের মাথায়, গত ৬ এপ্রিল মাঝসমুদ্রে কচ্ছপিয়ার চার যুবকসহ প্রায় ২৫০ থেকে ২৭০ জন যাত্রী বহনকারী ট্রলারটি ডুবে যায়। ট্রলারে প্রায় ২০ জন নারীও ছিলেন। দুর্ঘটনায় এক নারীসহ মাত্র ৬ জন জীবিত উদ্ধার হন, বাকিরা সবাই নিহত হয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ঘটনার কয়েকদিন পর বেঁচে ফেরা এক রোহিঙ্গা ও এক নারীর মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত হলে নিহতদের পরিবারে নেমে আসে শোকের মাতম। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
বেঁচে ফেরা ওই রোহিঙ্গা ব্যক্তি জানান, ট্রলারডুবির পর তিনি একটি পানির ট্যাংক আঁকড়ে ধরে টানা দুই দিন সাগরে ভাসতে থাকেন। এ সময় এক নারী তার কাপড় ধরে ছিলেন। পরে একটি মাছধরা ট্রলার তাদের উদ্ধার করে। পরবর্তীতে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার হওয়া চার মাঝিকে আটক করে কোস্টগার্ড কারাগারে প্রেরণ করে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কচ্ছপিয়া, গর্জনিয়া ও নাইক্ষ্যংছড়ির বিভিন্ন গ্রামে সক্রিয় একটি শক্তিশালী মানবপাচারকারী চক্র দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষকে বিদেশে নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা করে আসছে। এই চক্রের সঙ্গে আব্দুল হামিদ ও দেলোয়ার সহ
কয়েকজন ব্যক্তির সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়রা দায়ীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যেন আর কোনো পরিবার এ ধরনের করুণ পরিণতির শিকার না হয়, সে জন্য প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
সংবাদ প্রেরক
আমিনুল ইসলাম
নাইক্ষ্যংছড়ি(বান্দরবান)প্রতিনিধিঃ
০১৭৭৭৬৯৮৩৭৭/০১৮১৬৯০৫০০৭
All rights reserved © 2020 paharechok.com||
এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি