নিজস্ব প্রতিনিধি,ঈদগাঁও
কক্সবাজারের ঈদগাঁওতে সমাজ প্রথার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। মান অভিমান আর ভেদাভেদ ভুলে প্রত্যেকের ঘরে পৌঁছলো কুরবানির পশুর মাংস। পবিত্র দিনেই মাংস-ভাতে ঈদের তৃপ্তি পেল বহু পরিবার।
জানা যায়, উপজেলার ঈদগাঁও ইউনিয়নের মধ্যম মাইজ পাড়ায় দীর্ঘবছরের পুরনো আক্কাস উদ্দিন প্রকাশ (আক্কাবো) সমাজ। এ সমাজটি অসহায় ও গরীবদের শেষ ভরসাস্থল হয়ে উঠেছে। সমাজ প্রথার মাধ্যমে প্রতিবারের ন্যায় এবারও সামর্থ্য না থাকার কারনে সমাজে কোরবানি করতে না পারা প্রতিটি ব্যাক্তিদের মাঝে সুন্দর ও সুষম বণ্টনের মাধ্যমে মাংস প্রদান করা হয়। বৃহস্পতিবার (ঈদুল আযহার) দিন বিকেলে আক্কাবো সমাজে এমন চিত্র চোখে পড়ে। সামাজিক দায়বদ্ধতায় নিয়মনীতি ও শৃঙ্খলা অনুযায়ী কোরবানীর পশুর মাংস বন্টন কার্যক্রম চলে। সমাজ ভিত্তিক নানান শ্রেনী পেশার মানুষের উপস্থিতিতে কোরবানীর মাংস যাতে সমাজে প্রত্যেকের ঘরে ঘরে পৌঁছে সেই লক্ষে এমন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। সমাজ কমিটির সর্দার কতৃক নাম ডাকার মধ্য দিয়ে অপর সদস্যরা মাংস বিলি বন্টন শুরু করেন।
সর্দার প্রবীণ মুরব্বী হাজী নুরুল আলম জানান, প্রায় ৪০ পরিবারে মাংস বন্টন করা হয়। একভাগে ৫/৬ কেজি মাংস হবে বলেও জানান তিনি। সহকারী সমন্বয়ক হাফেজ নুরুল হক জানান, সামাজিক রীতিনীতি অনুযায়ী, সমাজ প্রথার আলোকে সুষ্ঠু ও পরিবেশে বিলি করা হয় কোরবানির পশুর মাংস। এটির মাধ্যমে মাংস থেকে বঞ্চিত হয়নি অসহায়-গরীবরাও। এটি একটি উজ্জল দৃষ্টান্ত। এমন সমাজনীতি প্রচলন ঈদগাঁও উপজেলার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লাজুড়ে রয়েছে। বিশেষ করে কোরবানীর ঈদে সমাজের সকল মানুষের উপস্থিতিতে দৃষ্টিনন্দন ভাগ বসিয়ে মাংস বিতরন কার্যক্রম চলে।
প্রসঙ্গত, সমাজ হচ্ছে মূলত এমন এক ব্যবস্থা যেখানে একাধিক ব্যক্তি পারস্পরিক সম্পর্কের মাধ্যমে একত্রিত হয়ে বসবাস করে। মানুষ কেবল একা বাস করেনা, বরং তারা নিজেদের মধ্যে বন্ধন বা সম্পর্ক তৈরি করে, যার ফলে তৈরি হয় “সমাজ”। এ ব্যবস্থায় ঐক্য, সহযোগিতা এবং নিয়ম-কানুনের মত গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যগুলি বিদ্যমান থাকে। ঐক্যের মাধ্যমে সমাজের সদস্যদের মধ্যে বন্ধুত্ব ও সৌহার্দ্য তৈরি হয়। সময়ের সাথে সাথে সমাজ ব্যবস্থার পরিবর্তন হলেও, সমাজের স্থায়ীত্ব বিলীন হয়না। সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক নির্ভরশীলতা এবং সহযোগিতা সমাজকে আরও শক্তিশালী করে তোলে। নিয়ম-কানুন সমাজকে শৃঙ্খলাবদ্ধ রাখে এবং সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে সাহায্য করে। সমাজের উদ্দেশ্য হলো সামাজিকীকরণের মাধ্যমে তাদেরকে পরিণত করা।