• বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:০৯ অপরাহ্ন
Headline
সাংবাদিক সৈকত রঞ্জন চৌধুরীর মুক্তির দাবিতে রাঙ্গামাটিতে মানববন্ধন সাংবাদিক সৈকত রঞ্জন চৌধুরীর মুক্তির দাবিতে রাঙ্গামাটিতে মানববন্ধন চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের খুটাখালীতে যানবাহনের সংঘর্ষে নিহত-৪, আহত ৫ সাংবাদিক সৈকত রঞ্জন চৌধুরীর মুক্তির দাবিতে রাঙ্গামাটিতে মানববন্ধন সাগরে সুস্পষ্ট লঘুচাপ, বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি চুক্তি পুনর্বহালে অগ্রগতি নেই: ইরান স্ট্রোক জনিত অসুস্থ ঈদগাঁও বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুস সালাম, দোয়া কামনা নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের ইজারা ডাক স্বচ্ছতায় উপজেলা প্রশাসনের প্রশংসা, ডাক পেলেন জিয়াবুল হক।। ‘আদিবাসী গোষ্ঠী নেই’—দুই মন্ত্রীর বক্তব্যে ক্ষুব্ধ জাতীয় আদিবাসী পরিষদ লামায় শিশু বলাৎকার ও হত্যা মামলার ১১ মাস পর প্রধান আসামি গ্রেফতার

কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃত্যু বেড়ে ১৬৪, আহত ৪৮০

Reporter Name / ৯ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬

ধসে পড়া ভবনের নিচে আটকে আছেন অনেকে, বাড়তে পারে প্রাণহানি; কেঁপেছে ভেনেজুয়েলা, ইকুয়েডর ও পানামাও
কলম্বিয়ায় স্মরণকালের শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ৪৮০ জনের বেশি। ধসে পড়া ভবনের নিচে আরও অনেকে আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশটিতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।
স্থানীয় সময় সোমবার সকাল ৭টা ৩৪ মিনিটে কলম্বিয়ার চোকো প্রদেশে শক্তিশালী ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। দেশটির ভূতাত্ত্বিক পরিষেবা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ৪। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০৩ কিলোমিটার গভীরে।
পশ্চিম কলম্বিয়ার শত শত মাইল বিস্তৃত এলাকায় ভূমিকম্পের কম্পন অনুভূত হয়। পাশাপাশি প্রতিবেশী ভেনেজুয়েলা, ইকুয়েডর ও পানামাতেও কম্পন অনুভূত হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত পেরেইরা
ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল থেকে প্রায় ৫৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত পেরেইরা শহরে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শহরটি কলম্বিয়ার গুরুত্বপূর্ণ কফি উৎপাদনকারী অঞ্চলের একটি।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেরেইরার প্রধান চত্বর প্লাজা বলিভারে একটি ভবন ধসে পড়ে। ঘটনাস্থলের ভিডিওতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ধ্বংসাবশেষ ও ধুলার মেঘ দেখা গেছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুধু পেরেইরা মহানগর এলাকাতেই অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন। ধসে পড়েছে ৬৫টি ভবন। এর মধ্যে ১৫টি ভবনে মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উদ্ধার ও নিরাপত্তার স্বার্থে শহরের কিছু এলাকায় মঙ্গলবার স্থানীয় সময় ভোর ৫টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়েছে।
কালি শহরেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
পেরেইরা থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত কালি শহরেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ভূমিকম্পে শহরটিতে ৩২টি ভবন ধসে পড়েছে।
২৯ বছর বয়সী লন্ডনের বাসিন্দা ড্যান কাটলার বর্তমানে সঙ্গীর সঙ্গে কালিতে অবস্থান করছেন। ভূমিকম্পে ঘুম ভেঙে যাওয়ার পর তিনি বিবিসিকে বলেন, এমন অভিজ্ঞতা তিনি আগে কখনো পাননি।
তিনি জানান, ভূমিকম্পের সময় তারা পায়জামা পরেই দৌড়ে বাইরে চলে যান। হোটেলের কাঠামোর বড় ধরনের ক্ষতি না হলেও দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং রং ও প্লাস্টার খসে পড়েছে।
উৎপত্তিস্থলে প্রাণহানি হয়নি
ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল চোকো প্রদেশের সান হোসে দেল পালমার গ্রামের কাছে। স্থানীয় মেয়র লেওন ফাবিও মারিন মোনকাদা জানিয়েছেন, সেখানে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সৌভাগ্যক্রমে কেউ হতাহত হননি।
তবে আশপাশের শহর এবং ভালে দেল কাওকা অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
মানিজালেস, কুইবদো, মেডেলিন এবং চোকো ও ভালে দেল কাওকা অঞ্চলজুড়েও প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। মানিজালেসে অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন।
আতঙ্কে মানুষ
মানিজালেসের একটি হোটেলে থাকা অ্যাঞ্জেলিকা আভিলা বিবিসিকে জানান, ভূমিকম্পের সময় দেয়ালে ফাটল দেখা দেয়।
তার ভাষায়, সবাই চিৎকার করছিল। পাশের ভবনগুলো থেকে ধুলা বের হতে দেখেছেন এবং দেয়াল থেকে ইট খসে পড়তে দেখেছেন তিনি।
মানিজালেসের সাংবাদিক ও আবহাওয়াবিদ লুইস ফেলিপে মোলিনা ভূমিকম্পের সময় নিজের বাড়িতে ছিলেন। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল থেকে তার অবস্থান ছিল প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরে।
তিনি জানান, অতীতে ভূমিকম্পের অভিজ্ঞতার কারণে মানিজালেসে ভূমিকম্প প্রতিরোধী ভবন নির্মাণে কঠোর বিধিমালা রয়েছে। ফলে তার ভবনটি শক্তিশালী কম্পন সহ্য করতে সক্ষম হয়েছে।
তবে তার বুকশেলফে থাকা প্রায় ৪৫০টি বইয়ের অধিকাংশই ভূমিকম্পের ঝাঁকুনিতে মেঝেতে পড়ে যায়। একই সঙ্গে কাচ ভাঙার শব্দ ও মানুষের চিৎকারে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
সহায়তার প্রস্তাব বিভিন্ন দেশের
ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে ওঠার পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা কলম্বিয়াকে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং কলম্বিয়াকে সহায়তা করতে প্রস্তুত।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান উরসুলা ফন ডার লিয়েন জানিয়েছেন, উদ্ধার অভিযান পরিচালনায় ইইউর কোপার্নিকাস স্যাটেলাইট ব্যবহার করা হচ্ছে।
এল সালভাদরের প্রেসিডেন্ট নায়িব বুকেলে কলম্বিয়ার জনগণের প্রতি সংহতি জানিয়ে উদ্ধারকাজে কর্মী ও সরঞ্জাম পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছেন।
১৫ লাখ মানুষ অনুভব করেছেন কম্পন
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, প্রায় ১৫ লাখ মানুষ ৭ মাত্রার কাছাকাছি কম্পন অনুভব করেছেন।
সংস্থাটির মতে, এ ধরনের গভীর ভূমিকম্প সাধারণত ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি সংঘটিত ভূমিকম্পের তুলনায় কম বিপজ্জনক। তবে গভীর ভূমিকম্পও বিপুল শক্তি নির্গত করতে পারে, যা ভবন ও অন্যান্য অবকাঠামোর জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
এ ধরনের ভূমিকম্পের পর সাধারণত আফটারশকের সংখ্যা তুলনামূলক কম হলেও পরবর্তী কম্পনগুলো শক্তিশালী হতে পারে। ফলে উদ্ধারকাজের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা