বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত লঘুচাপটি উত্তর-পশ্চিম দিকে সরে গিয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। এটি আরও ঘনীভূত হতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। এর প্রভাবে দেশের উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ো হাওয়া এবং বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বুলেটিনে বলা হয়, সুস্পষ্ট লঘুচাপটি উত্তর-পশ্চিম দিকে সরে গিয়ে আরও ঘনীভূত হতে পারে। এর প্রভাবে সমুদ্রবন্দর, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রাখা হয়েছে। পাশাপাশি উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির বৃহস্পতিবার দুপুরে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, লঘুচাপটি নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার পথে থাকলেও এটি স্থলভাগে উঠে ভারতের সুন্দরবন ও পশ্চিমবঙ্গের উপকূলীয় এলাকায় অবস্থান করছে।
লঘুচাপের প্রভাব সম্পর্কে তিনি বলেন, সিস্টেমটি স্থলভাগের দিকে উঠে যাওয়ায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ আগের ধারণার তুলনায় কম হতে পারে। শুক্রবার পর্যন্ত এর প্রভাব বাংলাদেশে থাকতে পারে। এরপর ধীরে ধীরে এর প্রভাব কমে আসবে।
নদীবন্দরেও সতর্ক সংকেত
লঘুচাপের প্রভাবে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনায় দেশের কয়েকটি নদীবন্দরেও সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সতর্কবার্তায় বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে অস্থায়ীভাবে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এসব এলাকার নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির পূর্বাভাস
বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার নিয়মিত বুলেটিনে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে।
এর প্রভাবে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
এ সময়ে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণও হতে পারে। একই সঙ্গে সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
কক্সবাজারে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত
বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ৮৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে কক্সবাজারে।
এ সময়ে লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে ৮১, কুতুবদিয়ায় ৫৭, টেকনাফে ৪৫, খুলনার কয়রায় ৪৪ এবং ঢাকায় ১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।
অন্যদিকে, বুধবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল নীলফামারীর সৈয়দপুর ও চুয়াডাঙ্গায়—৩৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।