সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা,
রাঙ্গামাটি জেলা প্রতিনিধিঃ-ডিবিসি নিউজের রাঙ্গামাটি জেলা প্রতিনিধি ও রাঙ্গামাটি সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সৈকত রঞ্জন চৌধুরীর নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে রাঙ্গামাটিতে মানববন্ধন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল ১১টায় রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে রাঙ্গামাটিতে কর্মরত সাংবাদিকদের আয়োজনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলা ও উপজেলার সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে অংশ নেন।এবং তীব্র নিন্দা জানান।
মানববন্ধনে বক্তব্য রেখেছেন রাঙ্গামাটি সাংবাদিক সমিতির অর্থ সম্পাদক প্রান্ত রণি, রাঙ্গামাটি যুব ইউনিয়ন সভাপতি মিল্টন বিশ্বাস, বড়ুয়া জনকল্যাণ সংস্থার সাধারণ সম্পাদক সনদ শান্তি বড়ুয়া, নানিয়ারচর প্রেস ক্লাবের সভাপতি মেহেরাজ সুজন, চট্টগ্রাম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সোহাগ আরেফিন, রাঙ্গামাটি রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি সুশীল প্রসাদ চাকমা, রাঙ্গামাটি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন, ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের রাঙ্গামাটি জেলা প্রতিনিধি হিমেল চাকমা, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সাধারণ সম্পাদক এম জিসান বখতিয়ার, রাঙ্গামাটি সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি নন্দন দেবনাথ বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি, রাঙ্গামাটি জেলা শাখার সভাপতি সমীর কান্তি দে।সভাপতিত্ব করেন রাঙ্গামাটি প্রেসক্লাবের সভাপতি মো.আনোয়ার আল হক। সঞ্চালনা করেন দীপ্ত টিভি ও কালবেলার রাঙ্গামাটি জেলা প্রতিনিধি মিশু দে।
বক্তারা বলেন, একজন প্রতিষ্ঠিত সাংবাদিককে দিনের বেলায় রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সামনে থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে আইন অনুযায়ী আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। আদালত গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিলে তিনি অবশ্যই আইন মেনে নিতেন। কিন্তু যেভাবে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
রাঙ্গামাটি প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. আনোয়ার আল হক ও সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই বিষয়টি জেলা পুলিশকে জানানো হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা সাংবাদিকদের মধ্যে ধোঁয়াশা থাকার পর জেলা পরিষদের সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করে যে গাড়িতে সৈকত রঞ্জন চৌধুরীকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, সেটি রাবার বাগান এলাকায় আটক করে তল্লাশি চালানো হয়। পরে রাঙ্গামাটি পুলিশ সুপার জানান, একটি সাইবার ক্রাইম মামলায় তাকে আটক করা হয়েছে। তবে ওই মামলার কপি কিংবা তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এখনো সাংবাদিকদের জানানো হয়নি বলে তারা দাবি করেন। বক্তারা আরও বলেন, সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে প্রচলিত আইন ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে তারা ডিবিসি নিউজের রাঙ্গামাটি জেলা প্রতিনিধি সৈকত রঞ্জন চৌধুরীর অবিলম্বে ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।