• বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫৯ অপরাহ্ন
Headline
ঈদগাঁওতে ৭টি খাবার হোটেলে ২ লক্ষ ১০ হাজার টাকা জরিমানা  নাইক্ষ্যংছড়িতে বাইশারী করলিয়া মুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জমি দখল ও অনিয়মের অভিযোগ নাইক্ষ্যংছড়িতে বাইশারী করলিয়া মুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জমি দখল ও অনিয়মের অভিযোগ মহিষখালী নিখোঁজ হাফেজিয়া মাদ্রাসা ছাত্র জিফাত হাসানের সন্ধান চাই বাবা-মা মাদ্রাসায় ছাত্রী’কে নিয়ে উধাও লামায় মেহেদী হাসান পটিয়ার আশিয়ায় মাদক বিরোধী  পথসভা ও র‍্যালি অনুষ্ঠিত বিজিবির অভিযানে বার্মিজ কারেন্ট জাল সহ আটক-৪ জালালাবাদে মোহাম্মদিয়া রওদ্বাতুত তাকওয়া মাদ্রাসায় হিফজ সবক অনুষ্ঠান সম্পন্ন ঈদগাঁওতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার ৭ নাইক্ষ্যংছড়িতে পানিতে ডুবে এক শিশুর করুন মৃত্যু

নাইক্ষ্যংছড়িতে বাইশারী করলিয়া মুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জমি দখল ও অনিয়মের অভিযোগ

Reporter Name / ২৩ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

নাইক্ষ্যংছড়ি (বান্দরবান) প্রতিনিধিঃ

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী ‘করলিয়া মুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’-কে কেন্দ্র করে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের খাসজমি জবরদখল, পকেট কমিটি গঠন, উন্নয়ন ফান্ডের অর্থ আত্মসাৎ এবং শিক্ষার্থীদের টয়লেট তালা। টয়লেট ব্যবহারে বাধার মতো গুরুতর অভিযোগে ফুঁসে উঠেছে স্থানীয় এলাকাবাসী ও সচেতন অভিভাবক সমাজ।
জমির দখল নিয়ে ধোঁয়াশা ও প্রভাবশালীদের থাবা
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৫ সালে স্থানীয় প্রবীণ ও সুশীল সমাজের উদ্যোগে শিয়াপাড়ার সরকারি খাস পাহাড়ের জমিতে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। সরকারি ২৭২ নম্বর খাস দাগের এই পাহাড়ি জমিতে বিদ্যালয়টির প্রায় ৩ থেকে ৪ একর জায়গা থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে প্রতিষ্ঠানের দখলে রয়েছে মাত্র ১.৫৩ (এক একর তেপান্ন শতাংশ)। বাকি বিশাল পরিমাণ জমি এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দখলে চলে গেছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাফর আলম হেলালির সঙ্গে জমি দখলকারী প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আত্মীয়তার সম্পর্ক থাকায় তিনি এই জবরদখল রোধে কোনো আইনি বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেননি।
রহস্যজনক ‘দাতা’ ও বিতর্কিত ম্যানেজিং কমিটি
বিদ্যালয়ের ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, ১৯৫২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই স্কুলটি পরবর্তীতে ১৯৭৫ সালে বর্তমান স্থানে স্থানান্তরিত হয়।
দীর্ঘ ১৯ বছর প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করা মাস্টার ছালে আহমদ স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই বিদ্যালয়টি সম্পূর্ণ সরকারি খাস জমিতে প্রতিষ্ঠিত এবং এর কোনো ব্যক্তিগত দাতা নেই।
অথচ বিগত কয়েক বছর ধরে স্থানীয় মৃত হাজী সুলতান আহমদের ছেলে মোহাম্মদ আলমকে বিদ্যালয়ের ‘দাতা’ হিসেবে পরিচয় দেওয়া হচ্ছে। গত ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনে মোহাম্মদ আলম দাতা সদস্য হিসেবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সরেজমিন অনুসন্ধানে প্রধান শিক্ষক হাজী সুলতান আহমদ বা মোহাম্মদ আলমের নামে বিদ্যালয় ফান্ডে কোনো জমি দানের দলিল, খতিয়ান বা রেকর্ডপত্র দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন।
এদিকে, সদ্য সমাপ্ত ম্যানেজিং কমিটি গঠন প্রক্রিয়া নিয়েও ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। সভাপতি পদপ্রার্থী আব্দুর রহিম বাবুল অভিযোগ করেন, তাকে পাশ কাটিয়ে গোপন প্রক্রিয়ায় ও নামমাত্র ভোটের নাটক সাজিয়ে একটি ‘পকেট কমিটি’ গঠন করা হয়েছে।
প্রশাসনিক দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দাখিল
উক্ত অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিকার চেয়ে এলাকাবাসী এবং ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও উপজেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে প্রধান শিক্ষকের যোগসাজশে স্কুলের পাহাড়ে থাকা অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ, ভুয়া দাতা সদস্যের পদ বাতিল, হেডম্যানের প্রতিবেদন অনুযায়ী সঠিক চৌহদ্দিসহ বিদ্যালয়ের জমি উদ্ধার এবং অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের অপসারণ ও বদলির জোর দাবি জানানো হয়েছে।

প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বহুমুখী অনিয়মের অভিযোগ জমি ও কমিটি সংক্রান্ত অনিয়মের পাশাপাশি প্রধান শিক্ষক জাফর আলম হেলালির বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন ও মেরামত ফান্ডের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। এছাড়াও চরম অমানবিক একটি অভিযোগে জানা যায়, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের জন্য নির্মিত টয়লেটগুলো বন্ধ রাখা হয়, যা শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগের মুখে ফেলছে।

এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা রূপময় চাকমা জানান, কমিটি গঠন প্রধান শিক্ষকের ওপর ন্যস্ত থাকে এবং নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর অভিযোগ না থাকলে তা অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে দাতা সদস্যের বৈধতা বা জমির রেকর্ড সম্পর্কে তিনি সদুত্তর দিতে পারবেন না বলে এড়িয়ে যান এবং বিষয়টি প্রধান শিক্ষক ভালো বলতে পারবেন বলে মন্তব্য করেন।
স্থানীয়দের দাবি ও প্রত্যাশা
বিদ্যালয়ের অবশিষ্ট সম্পত্তি রক্ষা, ভুয়া দাতা সদস্যের পদ বাতিল, ম্যানেজিং কমিটি গঠন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা যাচাই এবং উন্নয়ন তহবিলের অর্থ ব্যয়ের নিরপেক্ষ অডিট দাবি করেছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা। তাঁরা অবিলম্বে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে পাহাড়ের এই শিক্ষালয়টি কুক্ষিগত হওয়া থেকে রক্ষা পায় এবং শিক্ষার্থীরা তাদের মৌলিক অধিকার ফিরে পায়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা